ক.
যে পদ সহানুমানের সিদ্ধান্তে বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয় তাকে প্রধান পদ বলে।
খ.
সহানুমান মাধ্যম অনুমান হওয়ার কারণে এখানে তিনটি পদ থাকে।
যে মাধ্যম অবরোহ অনুমানে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত দুটি আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি অনিবার্যভাবে অনুমিত হয় তাকে সহানুমান বলে। একটি সহানুমানে তিনটি এবং কেবল তিনটি পদ থাকে। এটি সহানুমানের একটি আবশ্যিক নিয়ম। সহানুমানের তিনটি পদ হলো প্রধান পদ, অপ্রধান পদ এবং মধ্যপদ। যেমন- 'সকল মানুষ হয় মরণশীল। রহিম হয় একজন মানুষ। অতএব, রহিম হয় মরণশীল।' এখানে 'মরণশীল' পদটি হলো প্রধান পদ, 'রহিম' পদটি হলো অপ্রধান পদ এবং 'মানুষ' পদটি হলো মধ্যপদ। সুতরাং সহানুমানে তিনটি পদই থাকবে।
গ.
উদ্দীপকে 'প্রাণী' সহানুমানের মধ্যপদকে নির্দেশ করে।
সহানুমানে তিনটি পদের মধ্য অন্যতম হলো মধ্যপদ। সহানুমানের যে পদটি উভয় আশ্রয়বাক্যে থাকে কিন্তু সিদ্ধান্তে থাকে না তাকে মধ্যপদ বলে। সহানুমানে মধ্যপদ প্রধান আশ্রয়বাক্যে প্রধান পদের সাথে এবং অপ্রধান আশ্রয়বাক্যে অপ্রধান পদের সাথে ব্যবহৃত হয়। প্রধান ও অপ্রধান আশ্রয়বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে মধ্যপদ প্রধান ও অপ্রধান আশ্রয়বাক্যের মধ্যে একটি অনিবার্য সম্পর্ক তৈরি করে। আর ঐ অনিবার্য সম্পর্কের ভিত্তিতে সহানুমানে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত, 'সকল প্রাণী হয় উপকারী। মানুষ হয় প্রাণী। অতএব, মানুষ হয় উপকারী।' এখানে 'প্রাণী' পদটি প্রধান পদ ও অপ্রধান পদের মধ্যে একটা সম্পর্ক স্থাপন করেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের 'প্রাণী' পদটি হলো মধ্যপদ।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লেখিত তিনটি পদের আলোকে সহানুমানের গঠন প্রণালি বর্ণনা করা হলো-
সহানুমান মূলত তিনটি পদ ও তিনটি বাক্য দ্বারা গঠিত। যেখানে তিনটি পদ প্রত্যেকটি দুবার করে ব্যবহৃত হয়। পদগুলো হলো- প্রধান পদ, অপ্রধান পদ ও মধ্যপদ। যে পদ সহানুমানের সিদ্ধান্তে বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয় তাকে প্রধান পদ বলে। যে পদ সহানুমানের সিদ্ধান্তে উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় তাকে অপ্রধান পদ বলে। যে পদ সহানুমানের উভয় আশ্রয়বাক্যে থাকে কিন্তু সিদ্ধান্তে থাকে না তাকে মধ্যপদ বলে। নিরপেক্ষ সহানুমানে দুটো আশ্রয়বাক্য বা প্রধান আশ্রয়বাক্য ও অপ্রধান আশ্রয়বাক্য এবং একটি সিদ্ধান্ত থাকে। সহানুমানের যে আশ্রয়বাক্যে প্রধান পদ থাকে তাকে প্রধান আশ্রয়বাক্য বলে। সহানুমানের যে আশ্রয়বাক্যে অপ্রধান পদ থাকে তাকে অপ্রধান আশ্রয়বাক্য বলে। সহানুমানের প্রধান ও অপ্রধান আশ্রয়বাক্য থেকে অনুমিত বাক্যটিকে সিদ্ধান্ত বলে।
উদ্দীপকে বর্ণিত, 'সকল প্রাণী হয় উপকারী। মানুষ হয় প্রাণী। অতএব, মানুষ হয় উপকারী।' এই দৃষ্টান্তে প্রধান পদটি হলো 'উপকারী', অপ্রধান পদ 'মানুষ' এবং মধ্যপদ হলো 'প্রাণী'। উল্লেখিত দৃষ্টান্তে প্রথম আশ্রয়বাক্যটি হলো প্রধান আশ্রয়বাক্য, দ্বিতীয় আশ্রয়বাক্যটি হলো অপ্রধান আশ্রয়বাক্য এবং শেষ যুক্তিবাক্যটি হলো সিদ্ধান্ত।
পরিশেষে বলা যায়, সহানুমানের গঠন প্রণালিতে তিনটি পদ ও তিনটি বাক্যের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। মূলত এগুলো ছাড়া সহানুমান গঠিত হতে পারে না।