ক.
ব্যক্তি সমাজকর্মের উপাদান পাঁচটি।
খ.
পেশাদার প্রতিনিধি হলেন সমাজকর্মের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, দক্ষতাসম্পন্ন এমন একজন ব্যক্তি যাকে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সেবাদানের জন্য নিয়োগ করা হয়। ব্যক্তি সমাজকর্মে সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়ার সফলতা নির্ভর করে পেশাদার প্রতিনিধির দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ওপর। প্রতিষ্ঠানের একজন প্রতিনিধি হিসেবে তিনি প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য, নীতি, আদর্শ, কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে পালনের মাধ্যমে ব্যক্তির সমস্যা সমাধানে ব্রতী হন।
গ.
উদ্দীপকে দল সমাজকর্মের সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। দলীয় সমস্যা সমাধানে দল সমাজকর্মী যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে দলীয় সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া বলে। ডব্লিউ এ ফ্রিডল্যান্ডার তথ্য অনুসন্ধান, সমস্যা নির্ণয় ও সেবাদান এ তিনটি স্তরকে দল সমাজকর্মের সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া হিসেবে গ্রহণ করেন। তবে মোটাদাগে, দল সমাজকর্মের সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়াকে ৪টি ধাপ অনুসরণ করা হয়। যা হলো অনুধ্যান, সমস্যার প্রকৃতি নির্ণয়, সমাধান পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন।
উদ্দীপকের অমনোযোগী ও অনিয়মিত ছাত্রীদের সমস্যা সমাধানে দল সমাজকর্মের সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়ার গুরুত্ব রয়েছে।
অনুসন্ধান (Study): এ প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক স্তরই হলো তথ্য
অনুসন্ধান। এ স্তরে দল সমাজকর্মী অমনোযোগী ও অনিয়মিত ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে দল গঠন করে দলের গঠন প্রকৃতি, সদস্যদের বৈশিষ্ট্য, সমস্যা, দলের অবস্থান, উদ্দেশ্য ও আদর্শ, পরিবেশ ও পরিস্থিতি প্রভৃতি সম্পর্কে তথ্য অনুসন্ধান করেন।
সমস্যার প্রকৃতি নির্ণয় (Deagnosis): এ স্তরে সমাজকর্মী অনিয়মিত ও অমনোযোগী ছাত্রছাত্রীদের দলকে বিভিন্ন আঙ্গিকে শ্রেণিবিভাজন করে ব্যক্তি ও দলীয় পরিস্থিতি পৃথকভাবে মূল্যায়ন করে দলের সমস্যা, চাহিদা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন।।
সমাধান পরিকল্পনা (Treatmant): এ স্তরে দল সমাজকর্মী তার অর্জিত জ্ঞান, কৌশল, দক্ষতা প্রয়োগ করে দলের সমস্যা সমাধান করেন।
মূল্যায়ন ও সমাপ্তি: এ স্তরে দল সমাজকর্মী সমস্যা সমাধানের পর ফলাফল মূল্যায়ন করে এবং প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেন।
ঘ.
ব্যক্তি সমাজকর্মী সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়ার 'মনোসামাজিক 'অনুধ্যান' ধাপটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণত ব্যক্তি সমাজকর্মে যে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সমস্যা সমাধানে মক্কেল বা Chiast-কে সহায়তা করা হয় তা ব্যক্তি সমাজকর্মের সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া হিসেবে পরিচিত। এ প্রক্রিয়া পাঁচটি স্তরে বিভক্ত। যথা- (১) মনোসামাজিক তথ্য সংগ্রহ (Psycho-social Study), (২) সমস্যা নির্ণয় (Dingnosis), (৩) সমাধান (Treatment), (৪) মূল্যায়ন (Evaluation) ও (৫) অনুসরণ (Follow-up), ব্যক্তি সমাজকর্মের সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়ায় উল্লিখিত পাঁচটি স্তরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর হলো মনোসামাজিক অনুধ্যান। কারণ, এ স্তরের সফলতার ওপরই মূলত সমাধান নির্ভরশীল। এ স্তরের উদ্দেশ্য হলো মক্কেল, তার সমস্যা এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও পরিবেশ সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করা। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে সমস্যা ও তার প্রকৃতি নির্ণয় করা হয়।
ব্যক্তি সমাজকর্মের সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়ায় প্রথম ধাপ, হিসেবে মনোসামাজিক তথ্য সংগ্রহের জন্য সমাজকর্মী ও সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির মধ্যে র্যাপো তৈরি হয়। তারপর সমাজকর্মী তার যাবতীয় অনুভূতি, চাহিদা, ইচ্ছা প্রভৃতি বিবেচনায় নিয়ে সঠিকভাবে তথ্য সংগ্রহের প্রচেষ্টা চালান। মনোসামাজিক তথ্য সংগ্রহের গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, এর সামান্য ত্রুটির কারণে পুরো সমাধান প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। তাই এই স্তরে সেবাগ্রহীতার অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ সবকিছু ভালোভাবে অনুধ্যান করে সমস্যা সমাধানের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়। সুতরাং বলা যায়, ব্যক্তি সমাজকর্মের সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো মনোসামাজিক অনুধ্যান বা Psychosocial Study |