Facebook Pixel

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক বললেন আমাদের দেহে এক ধরনের বিশেষ প্রোটিন অণু তৈরি হয় যা আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে সচল রাখে। যা জীবাণুর আক্রমণ হতে প্রতিরক্ষায় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি আরো বলেন যে, টিকাদান কর্মসূচীর কোন বিকল্প নেই একটি রোগমুক্ত দেশ গড়তে। ক. মূত্র কি? খ. কিভাবে নিউট্রোফিল জীবাণু ধ্বংস করে? ব্যাখ্যা কর। গ. চিত্রসহ উদ্দীপকের অণুটির গঠন বর্ণনা কর। ঘ. উদ্দীপকের শেষ উত্তিটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-১০ঃ মানবদেহের প্রতিরক্ষা (ইমিউনিটি)

উৎস: Test Exam Question BCC 2020

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) নেফ্রনের বৃক্কীয় নালিকায় গ্লোমেরুলার ফিলট্রেট এর নির্বাচিত পুনঃশোষণের পর যে খড় বর্ণের, বিশেষ ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত ও অম্লধর্মী তরল রেচন বর্জ্য মূত্রথলিতে জমা হয়, তাকে মূত্র বলে। (খ) নিউট্রোফিল হলো শ্বেত রক্তকণিকার একটি ধরন যা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে। নিউট্রোফিলে বিদ্যমান লাইসোসোমে অণুজীব ধ্বংসকারী এনজাইম থাকে। কোনো সংক্রমিত স্থান হতে উপযুক্ত সংকেত পাওয়ার পর নিউট্রোফিল রক্তপ্রবাহ ত্যাগ করে সংক্রমিত স্থানে পৌঁছায়। এরপর এরা জীবাণুকে ঘিরে ফেলে এবং ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় ভক্ষণ করে। জীবাণুকে ভক্ষণ করার পর নিউট্রোফিল সাধারণত মারা যায় এবং পুঁজ কোষরূপে দেহ হতে বহিষ্কৃত হয়। (গ) উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রোটিন অণুটি হলো অ্যান্টিবডি। অ্যান্টিবডির গঠন নিচে বর্ণনা করা হলো: ১. ভারী ও হালকা শৃঙ্খল: প্রতিটি অ্যান্টিবডি অণুতে দুই জোড়া পলিপেপটাইড শৃঙ্খল থাকে। এর মধ্যে এক জোড়া লম্বা ও ভারী শৃঙ্খল এবং অন্য জোড়া অপেক্ষাকৃত ছোট ও হালকা শৃঙ্খল। ২. ডাইসালফাইড বন্ড: প্রতিটি অ্যান্টিবডিতে অন্তত তিনটি আন্তঃশৃঙ্খল ডাইসালফাইড বন্ড থাকে যা শৃঙ্খলগুলোকে একত্রে ধরে রাখে। ৩. স্থায়ী ও পরিবর্তনশীল অঞ্চল: প্রতিটি অ্যান্টিবডি অণুর শৃঙ্খলে দুটি অঞ্চল থাকে। একটি স্থায়ী অঞ্চল (Constant region) এবং অন্যটি পরিবর্তনশীল অঞ্চল (Variable region)। ৪. কব্জা অঞ্চল: অ্যান্টিবডি অণুর বাহু দুটি যে সংযোগস্থল থেকে দুভাগে বিভক্ত হয়, তাকে কব্জা অঞ্চল (Hinge region) বলে। এই অংশটি অ্যান্টিবডিকে নমনীয়তা দান করে। বাহু দুটির প্রান্তে অবস্থিত দুটি প্যারাটপে দুটি অ্যান্টিজেন যুক্ত হতে পারে। (ঘ) উদ্দীপকের শেষ উক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। টিকা বা ভ্যাক্সিন হলো রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু বা জীবাণুর নির্যাস, যা দেহে প্রবেশ করালে অ্যান্টিবডি উৎপাদনে উদ্দীপনা জোগায় এবং নির্দিষ্ট রোগের বিরুদ্ধে অনাক্রম্যতা তৈরি করে। টিকাদান কর্মসূচীর গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ১. রোগ প্রতিরোধ: ভ্যাক্সিন গ্রহণের ফলে দেহে নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, যা ভবিষ্যতে ওই জীবাণু আক্রমণ করলে দ্রুত তাকে ধ্বংস করে। ২. দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা: ভ্যাক্সিনেশনের ফলে সৃষ্ট অ্যান্টিবডি দেহে দীর্ঘদিন বা আজীবন উপস্থিত থাকতে পারে, যা শরীরকে রোগমুক্ত রাখতে সাহায্য করে। ৩. জনস্বাস্থ্য রক্ষা: ১৭৯৬ সালে এডওয়ার্ড জেনার গুটি বসন্তের টিকা আবিষ্কারের পর থেকে ভ্যাক্সিনেশন বিশ্বজুড়ে মহামারি নিয়ন্ত্রণে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করছে। বর্তমান সময়ে হেপাটাইটিস-বি সহ বিভিন্ন মারাত্মক রোগের বিরুদ্ধে ভ্যাক্সিনেশনই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা। পরিশেষে বলা যায়, একটি রোগমুক্ত দেশ গড়তে এবং জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় টিকাদান কর্মসূচীর কোনো বিকল্প নেই।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Barisal Cadet College (2020)

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক বললেন আমাদের দেহে এক ধরনের বিশেষ প্রোটিন অণু তৈরি হয় যা আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে সচল রাখে। যা জীবাণুর আক্রমণ হতে প্রতিরক্ষায় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি আরো বলেন যে, টিকাদান কর্মসূচীর কোন বিকল্প নেই একটি রোগমুক্ত দেশ গড়তে। ক. মূত্র কি? খ. কিভাবে নিউট্রোফিল জীবাণু ধ্বংস করে? ব্যাখ্যা কর। গ. চিত্রসহ উদ্দীপকের অণুটির গঠন বর্ণনা কর। ঘ. উদ্দীপকের শেষ উত্তিটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।