Facebook Pixel

শ্বাসরঞ্জক না থাকায় পতঙ্গটি বিশেষ ধরনের নালি দ্বারা গঠিত তন্ত্রের মাধ্যমে কোষ পর্যন্ত অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। ক. হেপাটিক সিকা কী খ. সিলোম ও হিমোসিলের মধ্যে পার্থক্য লেখো গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত নালিটির গঠন বর্ণনা করো ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত তন্ত্রের কার্যপদ্ধতি রুই মাছের তুলনার ভিন্ন- বিশ্লেষণ করো

বিষয়: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ প্রাণীর পরিচিতি

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ঘাসফড়িং এর পৌষ্টিক নালির অগ্রঅন্ত্র ও মধ্য অন্ত্রের সংযোগস্থলে ছয় জোড়া ফাঁপা, লম্বা ও মোচাকৃতির থলি থাকে তাদের গ্যাস্ট্রিকসিকা বা হেপাটিক সিকা বলে। (খ) সিলোম ও হিমোসিলের মধ্যে পার্থক্য নিচে উল্লেখ করা হলো- সিলোম হিমোসিল ১. মেসোডার্ম থেকে সৃষ্ট পেরিটোনিয়াম নামক পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত দেহপ্রাচীর ও পৌষ্টিক নালির মধ্যের ফাঁকা স্থানকে সিলোম বলে। ১. প্রাণীর দেহপ্রাচীর ও পৌষ্টিক নালির মধ্যবর্তী রক্তপূর্ণ গহ্বরকে হিমোসিল বলে। ২. সিলোম রক্ত সংবহনতন্ত্রের অংশ গঠন করে না। ২. হিমোসিল রক্ত সংবহনতন্ত্রের অংশ গঠন করে। ৩. সিলোমে পুষ্টি পদার্থ পরিবাহিত হয় না। ৩. হিমোসিলে পুষ্টি পদার্থ পরিবাহিত হয়। ৪. সিলোম সিলোমিক তরল দ্বারা পূর্ণ থাকে। ৪. হিমোসিল হিমোলিম্ফ নামক তরল দ্বারা পূর্ণ থাকে। (গ) উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রাণীটি হলো ঘাসফড়িং এবং বিশেষ ধরনের নালি শ্বসনতন্ত্রকে বোঝানো হয়েছে। ঘাসফড়িং-এর শ্বসনতন্ত্রকে ট্রাকিয়ালতন্ত্র বলা হয়। ট্রাকিয়ালতন্ত্রের মাধ্যমেই ঘাসফড়িং শ্বসনকার্য সম্পন্ন করে। নিচে নালিটির অর্থাৎ ট্রাকিয়ালতন্ত্রের গঠন বর্ণনা করা হলো- ১. শ্বাসরন্ধ্র : ঘাসফড়িং-এর বক্ষদেশে দুইজোড়া এবং উদর অঞ্চলে আটজোড়া অর্থাৎ মোট ১০ জোড়া শ্বাসরন্ধ্র অনুদৈর্ঘ্যভাবে অবস্থান করে। রন্ধ্রগুলোর মুখে সূক্ষ্ম রোমযুক্ত ছাঁকনি থাকায় ধুলোবালি, জীবাণু, পানি ইত্যাদি ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। শ্বাসরন্ধ্রগুলো পেশি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত কপাটিকার সক্রিয়তায় বন্ধ ও উন্মুক্ত হয়। ২. শ্বাসনালি বা ট্রাকিয়া : শ্বাসরন্ধ্রগুলো দেহমধ্যস্থ অ্যাট্রিয়াম গহ্বর পথে যে স্থিতিস্থাপক, সূক্ষ্মনালিতে উন্মুক্ত হয় তাদের ট্রাকিয়া বলে। ট্রাকিয়াগুলো পরবর্তীতে শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে সমগ্র দেহে জালিকারকারে বিন্যস্ত হয়। শাখা-প্রশাখা সৃষ্টিকারী ট্রাকিয়াকে ট্রাকিয়াল কাণ্ড বলা হয়ে থাকে। ঘাসফড়িং-এর দেহে তিন জোড়া ট্রাকিয়াল কাণ্ড থাকে। ৩. ট্রাকিওল : ট্রাকিয়া থেকে সৃষ্ট অতিসূক্ষ্ম শ্বাসনালিকাকে ট্রাকিওল বলে। ট্রাকিওলের বর্ণ অস্বচ্ছ, প্রাচীর পাতলা এবং অন্তঃপ্রাচীর টিনিডিয়াবিহীন। ট্রাকিওল কোষগুলো তরলে পূর্ণ থাকে। এ তরলের মাধ্যমে দেহকোষে গ্যাসীয় আদান-প্রদান ঘটে। ৪. বায়ুথলি : ঘাসফড়িং-এর কতকগুলো ট্রাকিয়া প্রসারিত হয়ে পাতলা প্রাচীর বিশিষ্ট বায়ুথলি সৃষ্টি করে। বায়ুথলিতে বাতাস সঞ্চিত থাকে, যা শ্বসনের সময় বায়ু প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। (ঘ) উদ্দীপকে উল্লেখিত তন্ত্রটি হলো ঘাসফড়িংয়ের ট্রাকিয়ালতন্ত্র। এ তন্ত্রের কার্যপদ্ধতি তথা শ্বসন পদ্ধতি রুইমাছের তুলনায় ভিন্ন। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো- ঘাসফড়িং ট্রাকিয়ালতন্ত্রের মাধ্যমে শ্বসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। অপরদিকে রুই মাছ ফুলকার সাহায্যে শ্বসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে。 ঘাসফড়িং শ্বসন প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডল হতে O_2 গ্রহণ এবং দেহস্থ CO_2 গ্যাস ত্যাগ করে। কিন্তু রুই মাছ শ্বসন প্রক্রিয়ায় জলজ পরিবেশে পানিতে দ্রবীভূত O_2 গ্রহণ ও দেহস্থ CO_2 ত্যাগ করে। ঘাসফড়িংয়ের শ্বাসগ্রহণের সময় এর প্রশ্বাসী শ্বাসরন্ধ্রগুলো খুলে যায়, ফলে O_2-যুক্ত বায়ু প্রথমে শ্বাসরন্ধ্রের মাধ্যমে ট্রাকিয়ায় পৌঁছে, পরে সেখান থেকে ট্রাকিওল ও বায়ুথলির মাধ্যমে অন্তঃকোষীয় স্থানে পৌঁছায়। পক্ষান্তরে রুই মাছের শ্বাস গ্রহণের সময় ফুলকা সূত্র বা গিল ফিলামেন্টের উপর দিয়ে পানি প্রবাহের ফলে পানি থেকে রক্তে O_2 প্রবেশ করে। আবার ঘাসফড়িং এর শ্বাসত্যাগের সময় কোষীয় শ্বসনে সৃষ্ট CO_2 ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ট্রাকিওল-এ আসে এবং সেখান থেকে ট্রাকিয়ায় প্রবেশ করে। পরবর্তীতে ট্রাকিয়া থেকে নিশ্বাসী শ্বাসরন্ধ্র দিয়ে CO_2 বাইরে মুক্ত হয়। অপরদিকে রুই মাছের শ্বাসত্যাগের সময় মুখবিবরের আয়তন হ্রাস পাওয়ায় পানির চাপ ধীরে ধীরে বাড়ার ফলে অপারকুলাম এবং ব্রাঙ্কিওস্টেগাল পর্দা খুলে বহিঃফুলকা ছিদ্রপথে CO_2 যুক্ত পানি দেহের বাইরের বের হয়ে আসে। ঘাসফড়িং এর ট্রাকিয়ালতন্ত্রের ট্রাকিওল নালিসমূহ দেহকোষের সান্নিধ্যে আসে এবং গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে। কিন্তু রুই মাছের গ্যাসীয় বিনিময় রক্তনালির মাধ্যমে ঘটে। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, ঘাসফড়িংয়ের ট্রাকিয়ালতন্ত্রের কার্যপদ্ধতি রুই মাছের তুলনায় ভিন্ন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

শ্বাসরঞ্জক না থাকায় পতঙ্গটি বিশেষ ধরনের নালি দ্বারা গঠিত তন্ত্রের মাধ্যমে কোষ পর্যন্ত অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। ক. হেপাটিক সিকা কী খ. সিলোম ও হিমোসিলের মধ্যে পার্থক্য লেখো গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত নালিটির গঠন বর্ণনা করো ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত তন্ত্রের কার্যপদ্ধতি রুই মাছের তুলনার ভিন্ন- বিশ্লেষণ করো

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

72 ঘণ্টা বয়স থেকে ৪ দিন বয়স পর্যন্ত মাছের পোনাকে বলে-

A অংশের বৈশিষ্ট্য হলো- i. কোষ লম্বা ও সরু ii. পুষ্টিকোষের ফাঁকে ফাঁকে অবস্থান করে iii. মুক্ত প্রান্তে সংবেদী রোম থাকে নি...

A ও B এর মধ্যে সাদৃশ্য হলো- i. উভয় চলনের ক্ষেত্রে লুপ গঠিত হয় ii. গ্লুটিন্যান্ট দ্বারা তল আঁকড়ে ধরে iii. দেহকে ৯০° কোণে ...

A দ্বারা কোন চলনের কথা বলা হয়েছে?

A প্রাণীটি পানিতে ডুবালে মারা যায় আবার B প্রাণীটি পানি থেকে বাহুতে উঠালে মারা যায় অথচ এ দুটি প্রাণীরই পরিবেশ থেকে অক্স...

Arthropoda পর্বের প্রাণিদের মধ্যে পতঙ্গ পেস্ট হিসাবে পরিচিত এক শ্রেণির প্রাণী রয়েছে যারা তৃণভোগী এবং দিবাচর। এদের প্রধা...

can- i. উদস্থিতিয় অঙ্গ ii. শব্দ উৎপন্নকারী অঙ্গ iii. শিকার ধরার অঙ্গ নিচের কোনটি সঠিক?

Caudal artery রুই মাছের কোন অংশে রক্ত সরবরাহ করে?

Cnidaria পর্বের কত ধরনের Nematocyst দেখা যায়?

Cnidaria পর্বের প্রাণীদের এপিডার্মিসে একটি বিশেষায়িত কোষ থাকে। যা খাদ্য গ্রহণ, আত্মরক্ষা ছাড়াও প্রধান দুই প্রকার চলনেও...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।