Facebook Pixel

শ্বসন একটি ছন্দোময় প্রক্রিয়া। শ্বাসকেন্দ্র, শ্বসন সংশ্লিষ্ট প্রতিবর্ত ক্রিয়া ইত্যাদি শ্বাসক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। বিশেষ পরিস্থিতিতে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রয়োজন হলে একজন প্রশিক্ষিত ব্যক্তিকেই এ কাজটি করতে হয়। ক. ওটাইটিস মিডিয়া কী? খ. শ্বসনে হিমোগ্লোবিন কেন গুরুত্বপূর্ণ? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রশিক্ষিত ব্যক্তির কৃতকাজের ধারাবাহিক বর্ণনা দাও। ঘ. উল্লিখিত নিয়ন্ত্রণ কী শুধুই স্নায়বিক? বিশ্লেষণপূর্বক মন্তব্য কর।

বিষয়: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ মানব শারীরতত্ত্বঃ শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়ে বা অন্য কোনো কারণে মধ্যকর্ণের সংক্রমণজনিত প্রদাহ সৃষ্টি হলে তাকে ওটাইটিস মিডিয়া (Otitis media) বলে। (খ) শ্বসন প্রক্রিয়ায় রক্তে গ্যাসীয় আদান-প্রদান এবং পরিবহনের জন্য হিমোগ্লোবিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হিমোগ্লোবিন হলো লোহিত রক্তকণিকায় বিদ্যমান একটি লৌহসমৃদ্ধ প্রোটিন। এটি ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে দেহের প্রতিটি কোষে পৌঁছে দেয় এবং কোষ থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড সংগ্রহ করে ফুসফুসে ফিরিয়ে আনে। অক্সিজেন পরিবহনের প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ: beginaligned textHb + textO_2 & rightleftharpoons textHbO_2 text(হিমোগ্লোবিন) & text(অক্সিগ্লোবিন) endaligned কার্বন ডাইঅক্সাইড পরিবহনের প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ: beginaligned textHbNH_2 + textCO_2 & -> textHbNHCOOH text(হিমোগ্লোবিন) & text(কার্বামিনো হিমোগ্লোবিন) endaligned এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোষগুলো প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পায় এবং বিপাকীয় বর্জ্য হিসেবে উৎপন্ন কার্বন ডাইঅক্সাইড শরীর থেকে নির্গত হয়, যা জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রশিক্ষিত ব্যক্তির কৃতকাজটি হলো কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস প্রদান বা CPR (Cardiopulmonary Resuscitation)। কোনো ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলে তাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এই পদ্ধতিটি ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ করা হয়। এর ধাপগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো: ১. শ্বাসনালী পরিষ্কার করা: প্রথমেই রোগীর মুখ খুলে শ্বাসনালীতে কোনো বাধা (যেমন কফ বা বাহ্যিক বস্তু) আছে কি না তা নিশ্চিত করা হয় এবং প্রয়োজনে তা পরিষ্কার করা হয়। ২. মুখে মুখ লাগিয়ে বাতাস প্রদান: রোগীর মুখে মুখ লাগিয়ে জোরে ফু দিয়ে ফুসফুসে বাতাস প্রবেশ করানো হয়। এটি প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। ৩. নাকে মুখ লাগিয়ে বাতাস প্রদান: যদি মুখে মুখ লাগানো সম্ভব না হয়, তবে নাকে মুখ লাগিয়ে ফুসফুসে বাতাস প্রেরণ করা হয়। ৪. শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ পদ্ধতি: শিশুদের ক্ষেত্রে মুখ ও নাক উভয় স্থান একসাথে ঢেকে বাতাস প্রেরণ করা হয়। ৫. মাস্ক বা ভেন্টিলেটর ব্যবহার: মুখে মুখ লাগানো সম্ভব না হলে রোগীর মুখে মাস্ক লাগিয়ে সেখানে মুখ দিয়ে বাতাস দেওয়া হয় অথবা বেলুন জাতীয় ব্যাগ (Ambu bag) ব্যবহার করে ছন্দোবদ্ধভাবে চাপ দিয়ে ফুসফুসে বাতাস পাঠানো হয়। ৬. বুকের ওপর চাপ প্রদান (Chest Compression): হৃৎপিণ্ড সচল করতে বুকের মাঝখানে নির্দিষ্ট ছন্দে চাপ দেওয়া হয়, যাতে রক্ত সঞ্চালন পুনরায় শুরু হয়। ৭. স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের ব্যবহার: উপরের পদ্ধতিগুলো ব্যর্থ হলে বা দীর্ঘমেয়াদী সহায়তার প্রয়োজন হলে ভেন্টিলেটর নামক বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। এই ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে রোগীর রক্তে অক্সিজেনের সরবরাহ পুনরায় নিশ্চিত করা হয় এবং জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়। (ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত শ্বসন নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াটি কেবল স্নায়বিক নয়, বরং এটি স্নায়বিক ও রাসায়নিক উভয় প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়। নিচে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো: ১. স্নায়ুবিক নিয়ন্ত্রণ: মানুষের প্রশ্বাস ও নিঃশ্বাসের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্কের পশ্চাৎ মস্তিষ্কের মেডুলা অবলংগাটা এবং পনস। একে শ্বসন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বলা হয়। এই কেন্দ্রটি স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে ডায়াফ্রাম এবং ইন্টারকোস্টাল পেশিকে সংকেত পাঠায়, যার ফলে ফুসফুসে বাতাস প্রবেশ করে বা নির্গত হয়। আমাদের শারীরিক পরিশ্রম বা কর্ম উদ্দীপনা বাড়লে স্নায়বিক সংকেতের মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বৃদ্ধি পায়। ২. রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ: রক্তে দ্রবীভূত গ্যাসের ঘনত্বের পরিবর্তন শ্বসন নিয়ন্ত্রণকে প্রভাবিত করে। রক্তে কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO_2) এবং হাইড্রোজেন আয়নের (H^+) ঘনত্ব বেড়ে গেলে মেডুলা ও ক্যারোটিড বডিতে অবস্থিত কেমোরিসেপ্টরগুলো উদ্দীপ্ত হয়। এই রাসায়নিক উদ্দীপনা শ্বসন কেন্দ্রকে সংকেত পাঠায়, ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বৃদ্ধি পায় এবং রক্ত থেকে অতিরিক্ত CO_2 নির্গত হয়ে অক্সিজেনের ভারসাম্য ফিরে আসে। বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ রক্তে গ্যাসের ভারসাম্য বজায় রাখে। এই দুই প্রক্রিয়ার সমন্বিত ফিডব্যাক মেকানিজমের মাধ্যমেই দেহের অক্সিজেনের চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্য রক্ষা করা হয়। সুতরাং, বলা যায় যে শ্বসন নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াটি কেবল স্নায়বিক নয়, বরং এটি স্নায়বিক ও রাসায়নিক উভয় নিয়ন্ত্রণের একটি জটিল ও সমন্বিত প্রক্রিয়া।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

শ্বসন একটি ছন্দোময় প্রক্রিয়া। শ্বাসকেন্দ্র, শ্বসন সংশ্লিষ্ট প্রতিবর্ত ক্রিয়া ইত্যাদি শ্বাসক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। বিশেষ পরিস্থিতিতে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রয়োজন হলে একজন প্রশিক্ষিত ব্যক্তিকেই এ কাজটি করতে হয়।

ক. ওটাইটিস মিডিয়া কী?

খ. শ্বসনে হিমোগ্লোবিন কেন গুরুত্বপূর্ণ?

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রশিক্ষিত ব্যক্তির কৃতকাজের ধারাবাহিক বর্ণনা দাও।

ঘ. উল্লিখিত নিয়ন্ত্রণ কী শুধুই স্নায়বিক? বিশ্লেষণপূর্বক মন্তব্য কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

‘A’ এর আয়নিক সমতা রক্ষার্থে প্লাজমা থেকে লোহিত রক্তকণিকায় প্রবেশ করে কোনটি?

A চিহ্নিত অংশে নিচের কোনটি ঘটে?

'B' চিহ্নিত যৌগটি প্রাণিকোষে কোথায় উৎপন্ন হয়?

C_6H_12O_2+Alongrightarrow CO_2+H_2O+ATP ক. ‘Adam’s Apple’ কী? খ. কৃত্রিম শ্বসন বলতে কী বোঝায়? গ. রক্তের মাধ্যমে A গ্যাস...

C_6H_12O_6+6O_2 → 6CO_2+6H_2O+ATP গ্লুকোজ ক. ভেস্টিবিউল কী? খ. শ্বসন প্রক্রিয়ায় হিমোগ্লোবিন গুরুত্বপূর্ণ কেন? গ. মানবদেহ...

CO_2 + HbNH_2 → ? উদ্দীপকটি থেকে নিচের কোন যৌগ তৈরি হয়?

CO_2 + HbNH_2 → ? উদ্দীপকের যৌগটি তৈরী হয়— i. প্লাজমার মধ্যে ii. লোহিত কণিকার মধ্যে iii. হিমোগ্লোবিন এর মধ্যে নিচের কোন...

O_2 এর ঘনত্ব কত হলে শ্বসনের হার দ্বিগুন হয়?

অক্সিহিমোগ্লোবিনের সংকেত কোনটি?

অন্তঃশ্বসন-

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।