(ক)
জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে সমাজের সকল মানুষের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থাকে সাম্য বলে।
(খ)
রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের সমান সুযোগ থাকাকে রাজনৈতিক সাম্য বলে।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক সাম্যের গুরুত্ব অপরিসীম। রাজনৈতিক সাম্যের মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিক তার ব্যক্তিত্বের সঠিক বিকাশ সাধন ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা ভোগ করে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার ভোটাধিকার, মতামত প্রকাশের অধিকার এবং সরকারি চাকরিতে আবেদনের সমান সুযোগ রাজনৈতিক সাম্যের উদাহরণ।
(গ)
উদ্দীপকের আলোকে শিল্পী অর্থনৈতিক সাম্য থেকে বঞ্চিত।
অর্থনৈতিক সাম্য বলতে বোঝায় দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুসারে আয় ও ধন-সম্পদ অর্জনের সমান সুযোগ লাভ করা এবং একই ধরনের কাজের জন্য সমান মজুরি পাওয়া। অর্থনৈতিক সাম্য নিশ্চিত হলে সমাজে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান কমে এবং মানুষ মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে। উদ্দীপকে দেখা যায়, শিল্পী ও তার স্বামী একই নির্মাণ সংস্থায় দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে একই ধরনের কাজ করা সত্ত্বেও শিল্পী তার স্বামীর চেয়ে কম মজুরি পায়। একই ধরনের কাজের জন্য ভিন্ন মজুরি প্রদান অর্থনৈতিক সাম্যের পরিপন্থী। সুতরাং, শিল্পী এখানে অর্থনৈতিক সাম্য থেকে বঞ্চিত।
(ঘ)
উদ্দীপকে বর্ণিত সাম্যটি হলো অর্থনৈতিক সাম্য। অর্থনৈতিক সাম্য ছাড়া রাজনৈতিক সাম্য মূল্যহীন, উক্তিটি যথার্থ।
রাজনৈতিক সাম্য বলতে ভোটাধিকার, নির্বাচিত হওয়ার অধিকার, সরকারি কাজে অংশগ্রহণের অধিকার এবং সরকারের সমালোচনা করার অধিকারের মতো রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধার সমতাকে বোঝায়। কিন্তু এই অধিকারগুলো ভোগ করার জন্য নাগরিকের ন্যূনতম অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রয়োজন। অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত না হলে শুধু রাজনৈতিক সাম্য দিয়ে প্রকৃত সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
উদাহরণস্বরূপ, একজন নাগরিকের ভোটাধিকার (রাজনৈতিক সাম্য) থাকলেও যদি তিনি চরম দারিদ্র্যের কারণে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী না হন, তবে তিনি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দ্বারা প্রভাবিত হতে পারেন অথবা অর্থের বিনিময়ে তার মূল্যবান ভোট বিক্রি করে দিতে পারেন। এতে রাজনৈতিক সাম্য কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে তা অর্থহীন হয়ে পড়ে। অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও সুযোগ-সুবিধা অর্জনের মাধ্যমেই নাগরিকরা রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয় এবং তাদের অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট হয়। যখন রাষ্ট্রে অর্থনৈতিক সাম্য থাকে, তখন জনগণ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে এবং নির্ভয়ে দেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট হতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, রাজনৈতিক সাম্য ব্যক্তিকে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রদান করে, কিন্তু অর্থনৈতিক সাম্য সেই অধিকার প্রয়োগ করার সক্ষমতা তৈরি করে। তাই রাজনৈতিক সাম্যকে অর্থবহ ও কার্যকর করতে হলে অর্থনৈতিক সাম্য নিশ্চিত করা অপরিহার্য।