(ক) বাংলাদেশ রেলওয়ে হলো সরকারি মালিকানাধীন একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, যা দেশের অভ্যন্তরে সাশ্রয়ী মূল্যে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের দায়িত্ব পালন করে।
(খ) বিধিবদ্ধ সংস্থা বলতে এমন এক ধরনের রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়, যা বিশেষ আইন বা রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে গঠিত হয়। এই সংস্থাগুলোর নিজস্ব আইন থাকে এবং এরা একটি পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এটি সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন হলেও প্রশাসনিকভাবে কিছুটা স্বায়ত্তশাসিত।
(গ) উদ্দীপকের 'সৌখিন মোটেল'টি মালিকানার ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে এটি একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা।
রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় হলো সেই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান যা সরকারের মালিকানায় পরিচালিত হয় এবং যার মূল লক্ষ্য মুনাফা অর্জন নয়, বরং জনকল্যাণ। রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের মধ্যে বিধিবদ্ধ সংস্থা হলো সেই প্রতিষ্ঠান যা বিশেষ আইন বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে গঠিত হয়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, 'সৌখিন মোটেল'টি একটি সংস্থার অধীন যা ১৯৭২ সালে মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশবলে গঠিত। যেহেতু এটি রাষ্ট্রপতির আদেশ বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে এবং সরকারি সংস্থার অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, তাই এটি একটি বিধিবদ্ধ রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান।
(ঘ) উদ্দীপকের আলোকে 'সৌখিন মোটেল'-এর অর্থনৈতিক তাৎপর্য নিচে মূল্যায়ন করা হলো:
পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মতো রাষ্ট্রীয় সংস্থার অধীনে 'সৌখিন মোটেল' পর্যটকদের উন্নত মানের আবাসন সুবিধা প্রদান করে। এতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ বৃদ্ধি পায়, যা পরোক্ষভাবে দেশের পর্যটন শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটায়।
বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: উন্নত সুযোগ-সুবিধার কারণে বিদেশি পর্যটকরা কক্সবাজারে ভ্রমণে উৎসাহিত হয়। তাদের মাধ্যমে দেশে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মসংস্থান সৃষ্টি: উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে মোটেলটিতে অনেক সুদক্ষ কর্মী বাহিনী নিয়োজিত আছে। এর মাধ্যমে দেশের বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক।
স্থানীয় অর্থনীতির প্রসার: মোটেলটিতে পর্যটকদের আগমনের ফলে কক্সবাজারে দেশীয় ঐতিহ্যের পণ্য বিক্রির দোকানগুলোর প্রসার ঘটেছে। এতে স্থানীয় কারুশিল্পীদের আয়ের সুযোগ বেড়েছে এবং স্থানীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, 'সৌখিন মোটেল' কেবল একটি আবাসন প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি পর্যটন খাতের উন্নয়ন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।