(ক)
সৃজনশীল শিল্প বলতে এমন সব শিল্পকে বোঝায় যেখানে মানুষের মেধা, দক্ষতা, উদ্ভাবনী শক্তি এবং সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে নতুন কিছু তৈরি করা হয়। এর মধ্যে বিজ্ঞাপন, স্থাপত্য, শিল্পকর্ম, নকশা, ফ্যাশন ডিজাইন, সাহিত্য, সংগীত, চলচ্চিত্র, কারুশিল্প ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত।
(খ)
পোশাক শিল্পের বিকাশে অন্যতম প্রধান বাধা হলো শ্রমিক অসন্তোষ। নিম্ন মজুরি, বকেয়া বেতন ও অনিরাপদ কর্মপরিবেশের কারণে শ্রমিকরা আন্দোলন করলে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এতে সঠিক সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের পণ্য পাঠানো সম্ভব হয় না, ফলে মালিকপক্ষ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। মূলত উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং শিল্পের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ার কারণেই পোশাক শিল্পে শ্রমিক অসন্তোষকে একটি বড় সমস্যা বলা হয়।
(গ)
জাতীয় শিল্পনীতি-২০২২ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে স্থাপিত শিমু ও ফাহিমার শিল্প দুটিই 'মাইক্রো শিল্প'।
জাতীয় শিল্পনীতি-২০২২ অনুযায়ী, ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের ক্ষেত্রে 'মাইক্রো শিল্প' বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়, যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ১০ লক্ষ টাকা থেকে ৭৫ লক্ষ টাকা কিংবা যেসব প্রতিষ্ঠানে ১ থেকে ২৫ জন বা তার চেয়ে কম সংখ্যক শ্রমিক কাজ করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ২০২৩ সালে শিমুর মূলধন ছিল ৫৫ লক্ষ টাকা এবং শ্রমিক সংখ্যা ছিল ২৪ জন। অন্যদিকে, ফাহিমার মূলধন ছিল ৩০ লক্ষ টাকা এবং শ্রমিক সংখ্যা ছিল ১০ জন। যেহেতু তাদের দুজনেরই মূলধন ১০ থেকে ৭৫ লক্ষ টাকার মধ্যে এবং শ্রমিক সংখ্যা ১ থেকে ২৫ জনের সীমার মধ্যে রয়েছে, তাই এই শর্তগুলো পূরণ করায় ২০২৩ সালে তাদের দুজনের শিল্পই 'মাইক্রো শিল্প' হিসেবে গণ্য হবে।
(ঘ)
শিল্পের শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এসে শিমুর শিল্পের উন্নতি বা অগ্রগতি বেশি হয়েছে। কারণ শিমুর শিল্পটি 'মাইক্রো শিল্প' স্তর অতিক্রম করে 'ক্ষুদ্র শিল্প' স্তরে উন্নীত হয়েছে।
জাতীয় শিল্পনীতি-২০২২ অনুযায়ী, ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের ক্ষেত্রে 'মাইক্রো শিল্প' বলতে সেসব প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়, যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ১০ লক্ষ থেকে ৭৫ লক্ষ টাকা কিংবা যেসব প্রতিষ্ঠানে ১ থেকে ২৫ জন বা তার চেয়ে কম শ্রমিক কাজ করে। অন্যদিকে, 'ক্ষুদ্র শিল্প' বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়, যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৭৫ লক্ষ থেকে ১৫ কোটি টাকা কিংবা যেসব প্রতিষ্ঠানে ২৬ থেকে ১২০ জন শ্রমিক কাজ করে।
উদ্দীপকে ২০২৫ সালে ফাহিমার মূলধন ৭০ লক্ষ টাকা এবং শ্রমিক ২৫ জন। সংজ্ঞানুযায়ী, তার মূলধন ও শ্রমিক সংখ্যা উভয়ই মাইক্রো শিল্পের সীমার মধ্যে রয়েছে। তাই ফাহিমার শিল্পটি 'মাইক্রো শিল্প' হিসেবেই রয়ে গেছে।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে শিমুর মূলধন ৭৫ লক্ষ টাকা এবং শ্রমিক বেড়ে হয়েছে ৩০ জন। সংজ্ঞানুযায়ী, শ্রমিক সংখ্যা ২৬ জনের অধিক (৩০ জন) হওয়ায় তার শিল্পটি আর মাইক্রো নেই, বরং 'ক্ষুদ্র শিল্প' স্তরে উন্নীত হয়েছে।
যেহেতু ফাহিমা একই শ্রেণিতে (মাইক্রো) অবস্থান করছেন কিন্তু শিমু উচ্চতর শ্রেণিতে (ক্ষুদ্র শিল্পে) পদার্পণ করেছেন, তাই কাঠামোগত বিচারে ২০২৫ সালে শিমুর শিল্পের উন্নতিই বেশি হয়েছে।