Facebook Pixel

শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে বললেন যে, রাষ্ট্র জনগণের জন্য কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে যার পরিধি নিজ রাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ। অন্যদিকে জাতিসংঘ কর্তৃক কিছু সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যার ক্ষেত্র বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত। এটি কোনো ব্যক্তি নিজ রাষ্ট্রে নিরাপত্তা বোধ না করলে তাকে অন্য রাষ্ট্রে আশ্রয় গ্রহণ করতে সাহায্য করে। ক. বাংলাদেশে 'তথ্য অধিকার আইন' কত সালে পাস হয়? খ. অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্ক কী? গ. শিক্ষক রাষ্ট্রের যে ধরনের সুযোগ-সুবিধার কথা বলেছেন তা ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে আলোচ্য বিষয়টি কীভাবে একজন ব্যক্তিকে অন্য রাষ্ট্রে আশ্রয় গ্রহণে সাহায্য করে? বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ নাগরিক অধিকার, কর্তব্য ও মানবাধিকার

উৎস: Board Exam Question SB 2022

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) বাংলাদেশে 'তথ্য অধিকার আইন' ২০০৯ সালে পাস হয়। (খ) অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় এবং এরা একে অপরের পরিপূরক। রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকার ভোগ করতে হলে নাগরিককে কিছু নির্দিষ্ট কর্তব্য পালন করতে হয়। যেমন, ভোটদান নাগরিকের একটি অধিকার, আবার দায়িত্বের সাথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নাগরিকের কর্তব্য। অর্থাৎ, একজনের অধিকার অন্যজনের জন্য কর্তব্য হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং বলা যায়, অধিকার ও কর্তব্য মুদ্রার দুই পিঠের মতো, একটি ছাড়া অন্যটি অর্থহীন। (গ) উদ্দীপকে শিক্ষক রাষ্ট্রের যে সুযোগ-সুবিধার কথা বলেছেন তা হলো মৌলিক অধিকার। মৌলিক অধিকার হলো সেই সকল অধিকার যা কোনো দেশের সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত এবং নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য অপরিহার্য। মৌলিক অধিকার অলঙ্ঘনীয় এবং জরুরি অবস্থা ব্যতীত সরকার জনগণের এই অধিকার ভোগে বাধা দিতে পারে না। মৌলিক অধিকারের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর পরিধি নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। অর্থাৎ, এক রাষ্ট্রের নাগরিকের মৌলিক অধিকার অন্য রাষ্ট্রের নাগরিকের মৌলিক অধিকার থেকে ভিন্ন হতে পারে। উদ্দীপকে শিক্ষক এমন কিছু সুযোগ-সুবিধার কথা বলেছেন যার পরিধি শুধুমাত্র নিজ রাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ। যেহেতু এই অধিকারগুলো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের সীমানায় কার্যকর এবং সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত, তাই বলা যায়, শিক্ষক এখানে মৌলিক অধিকারের কথা বুঝিয়েছেন। (ঘ) উদ্দীপকে আলোচ্য বিষয়টি হলো মানবাধিকার। মানবাধিকার হলো মানুষের জন্মগত অধিকার। মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তি যে অধিকার, সম্মান ও নিরাপত্তা লাভ করে, তাকেই মানবাধিকার বলা হয়। এটি জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য সমান এবং এর ক্ষেত্র বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত। ১৯৪৮ সালের ১০ই ডিসেম্বর জাতিসংঘ মানবাধিকার সনদ (Universal Declaration of Human Rights) ঘোষণা করে। মানবাধিকার একজন ব্যক্তিকে অন্য রাষ্ট্রে আশ্রয় গ্রহণে সাহায্য করে কারণ এই সনদের ১৪তম ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পেতে যেকোনো ব্যক্তির নিজ দেশ ত্যাগ করে অন্য দেশে আশ্রয় গ্রহণের অধিকার আছে। যদি কোনো ব্যক্তি তার নিজ রাষ্ট্রে রাজনৈতিক নিপীড়ন, জাতিগত সহিংসতা বা অন্য কোনো কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তবে তিনি আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় অন্য রাষ্ট্রে আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারেন। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ কর্তৃক কিছু সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে যার ক্ষেত্র বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত এবং এটি ব্যক্তিকে অন্য রাষ্ট্রে আশ্রয় গ্রহণে সাহায্য করে। এই বর্ণনাটি মানবাধিকারের সংজ্ঞার সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। সুতরাং, মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সুরক্ষা একজন ব্যক্তিকে নিজ রাষ্ট্রে নিরাপত্তাহীনতার সময় অন্য রাষ্ট্রে আশ্রয় গ্রহণে সহায়তা করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenSylhet Board (2022)

শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে বললেন যে, রাষ্ট্র জনগণের জন্য কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে যার পরিধি নিজ রাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ। অন্যদিকে জাতিসংঘ কর্তৃক কিছু সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যার ক্ষেত্র বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত। এটি কোনো ব্যক্তি নিজ রাষ্ট্রে নিরাপত্তা বোধ না করলে তাকে অন্য রাষ্ট্রে আশ্রয় গ্রহণ করতে সাহায্য করে।

ক. বাংলাদেশে 'তথ্য অধিকার আইন' কত সালে পাস হয়?

খ. অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্ক কী?

গ. শিক্ষক রাষ্ট্রের যে ধরনের সুযোগ-সুবিধার কথা বলেছেন তা ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকে আলোচ্য বিষয়টি কীভাবে একজন ব্যক্তিকে অন্য রাষ্ট্রে আশ্রয় গ্রহণে সাহায্য করে? বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।