Facebook Pixel

শিক্ষক মানবদেহের প্রতিরক্ষা নিয়ে আলোচনায় বললেন- আমাদের দেহে নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা স্তরে B- লিম্ফোসাইট থেকে এক ধরনের প্রোটিন অণু উৎপন্ন হয় যা অনুপ্রবেশকারী বস্তু বা অণুজীবকে ধ্বংস করে। দেহ প্রতিরক্ষায় উক্ত প্রোটিন অণু বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ক. সাইটোকাইনিস কী? খ. লিম্ফয়েড অঙ্গ বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রোটিন অণুর চিত্রসহ গঠন বর্ণনা কর। ঘ. দেহ প্রতিরক্ষায় উদ্দীপকে উল্লেখিত অপু কিভাবে অণুজীব ধ্বংস করে- তা বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-১০ঃ মানবদেহের প্রতিরক্ষা (ইমিউনিটি)

উৎস: Test Exam Question AMCM 2020, Board Exam Question CB 2017

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) অ্যান্টিজেনের উপস্থিতিতে অনাক্রম্যতন্ত্রের কোষসমূহ যে বিশেষ ধরনের প্রোটিনজাতীয় রাসায়নিক সংকেত অণু নিঃসরণ করে একে অপরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে এবং রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে, তাদের সাইটোকাইন বলে। (খ) মানবদেহের অনাক্রম্য ব্যবস্থার সাথে সরাসরি জড়িত অঙ্গসমূহকে লিম্ফয়েড অঙ্গ বলা হয়। এই অঙ্গগুলো লিম্ফোসাইট নামক শ্বেত রক্তকণিকা উৎপাদন, পরিপক্বকরণ এবং সঞ্চয় করে, যা দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রধান ভূমিকা পালন করে। লিম্ফয়েড অঙ্গগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ১. প্রাথমিক লিম্ফয়েড অঙ্গ: যেমন অস্থিমজ্জা ও থাইমাস। এখানে লিম্ফোসাইট উৎপন্ন ও পরিপক্ব হয়। ২. মাধ্যমিক লিম্ফয়েড অঙ্গ: যেমন লসিকা গ্রন্থি, প্লীহা, টনসিল, অ্যাপেনডিক্স ও মিউকোসা। এখানে লিম্ফোসাইটগুলো অ্যান্টিজেনের সংস্পর্শে আসে এবং সক্রিয় হয়। (গ) উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রোটিন অণুটি হলো অ্যান্টিবডি। এটি একটি গ্লাইকোপ্রোটিন অণু। নিচে এর গঠন বর্ণনা করা হলো: ১. শৃঙ্খল বিন্যাস: প্রতিটি অ্যান্টিবডি অণুতে চারটি পলিপেপটাইড শৃঙ্খল থাকে—দুটি ভারী (Heavy chain) এবং দুটি হালকা (Light chain)। ২. ডাইসালফাইড বন্ড: শৃঙ্খলগুলো পরস্পরের সাথে ডাইসালফাইড বন্ড দ্বারা যুক্ত থাকে। ৩. অঞ্চলসমূহ: অ্যান্টিবডির প্রতিটি শৃঙ্খলে একটি স্থায়ী অঞ্চল (Constant region) এবং একটি পরিবর্তনশীল অঞ্চল (Variable region) থাকে। পরিবর্তনশীল অঞ্চলটি নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকে শনাক্ত ও আবদ্ধ করতে সাহায্য করে। ৪. কব্জা অঞ্চল: অ্যান্টিবডির বাহু দুটি যে সংযোগস্থল থেকে বিভক্ত হয়, তাকে কব্জা অঞ্চল (Hinge region) বলে। এটি অণুকে নমনীয়তা প্রদান করে। (ঘ) উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রোটিন অণুটি হলো অ্যান্টিবডি। দেহ প্রতিরক্ষায় অ্যান্টিবডি বিভিন্ন কৌশলে অণুজীব ধ্বংস করে, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ১. প্রশমন (Neutralization): অ্যান্টিবডি অণুজীবের গায়ে থাকা বিষাক্ত অ্যান্টিজেনের সাথে আবদ্ধ হয়ে সেগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে, ফলে অণুজীব পোষক কোষে প্রবেশ করতে পারে না। ২. অধঃক্ষেপণ (Precipitation): অ্যান্টিবডি দ্রবণীয় অ্যান্টিজেনকে অদ্রবণীয় জটিল অণুতে পরিণত করে অধঃক্ষিপ্ত করে, যা পরবর্তীতে ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় ধ্বংস হয়। ৩. অ্যাগ্লুটিনেশন (Agglutination): অ্যান্টিবডি অণুজীবগুলোকে গুচ্ছবদ্ধ বা দলা পাকিয়ে ফেলে, ফলে তাদের চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে এবং ম্যাক্রোফেজ সহজেই তাদের ভক্ষণ করতে পারে। ৪. কমপ্লিমেন্ট সিস্টেম সক্রিয়করণ: অ্যান্টিবডি অণুজীবের পৃষ্ঠে কমপ্লিমেন্ট প্রোটিনকে সক্রিয় করে, যা অণুজীবের কোষপ্রাচীরে ছিদ্র তৈরি করে কোষটিকে বিগলিত (Lysis) করে ধ্বংস করে। ৫. অপসোনাইজেশন (Opsonization): অ্যান্টিবডি অণুজীবের গায়ে প্রলেপ তৈরি করে, যা ফ্যাগোসাইটিক কোষগুলোকে অণুজীব শনাক্ত করতে এবং দ্রুত ভক্ষণ করতে সহায়তা করে। এভাবে অ্যান্টিবডি বিভিন্ন জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানবদেহকে রোগজীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Ananda Mohan College, Mymensingh (2020)Cumilla Board (2017)

শিক্ষক মানবদেহের প্রতিরক্ষা নিয়ে আলোচনায় বললেন- আমাদের দেহে নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা স্তরে B- লিম্ফোসাইট থেকে এক ধরনের প্রোটিন অণু উৎপন্ন হয় যা অনুপ্রবেশকারী বস্তু বা অণুজীবকে ধ্বংস করে। দেহ প্রতিরক্ষায় উক্ত প্রোটিন অণু বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

ক. সাইটোকাইনিস কী?

খ. লিম্ফয়েড অঙ্গ বলতে কী বোঝ?

গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রোটিন অণুর চিত্রসহ গঠন বর্ণনা কর।

ঘ. দেহ প্রতিরক্ষায় উদ্দীপকে উল্লেখিত অপু কিভাবে অণুজীব ধ্বংস করে- তা বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।