Facebook Pixel

শিক্ষক মানবদেহের প্রতিরক্ষা নিয়ে আলোচনায় বললেন- “আমাদের দেহে নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা স্তরে B-লিম্ফোসাইট থেকে এক ধরনের প্রোটিন অণু উৎপন্ন হয় যা অনুপ্রবেশকারী বস্তু বা অণুজীবকে ধ্বংস করে। দেহ প্রতিরক্ষায় উক্ত প্রোটিন অণু বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ক. অ্যান্ড্রুইজম কী? খ. নিউট্রোফিলকে ফ্যাগোসাইট বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রোটিন অণুর চিত্রসহ গঠন বর্ণনা কর। ঘ. দেহ প্রতিরক্ষায় উদ্দীপকে উল্লিখিত অণু কীভাবে অণুজীব ধ্বংস করে- তা বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-১০ঃ মানবদেহের প্রতিরক্ষা (ইমিউনিটি)

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) অ্যাল্ট্রুইজম (Altruism) হলো এমন একটি আচরণ বা প্রক্রিয়া, যেখানে কোনো প্রাণী নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বা নিজের ক্ষতি স্বীকার করেও দলের অন্য সদস্যদের সহায়তা করে। (খ) নিউট্রোফিল হলো এক ধরনের ফ্যাগোসাইটিক শ্বেত রক্তকণিকা। দেহের কোনো স্থানে অণুজীবের সংক্রমণ ঘটলে নিউট্রোফিল দ্রুত সেই স্থানে উপস্থিত হয়। এই কোষগুলো তাদের ক্ষণপদের সাহায্যে অণুজীবকে ঘিরে ফেলে এবং ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় ভক্ষণ করে ধ্বংস করে। এই বিশেষ ক্ষমতার কারণেই নিউট্রোফিলকে ফ্যাগোসাইট বলা হয়। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রোটিন অণুটি হলো অ্যান্টিবডি। অ্যান্টিবডির গঠন নিচে বর্ণনা করা হলো: ১. পলিপেপটাইড শৃঙ্খল: প্রতিটি অ্যান্টিবডি অণুতে চার বা ততোধিক পলিপেপটাইড শৃঙ্খল থাকে, যার মধ্যে দুটি ভারী (Heavy chain) এবং দুটি হালকা (Light chain) শৃঙ্খল নিয়ে গঠিত। ২. ডাইসালফাইড বন্ড: শৃঙ্খলগুলো পরস্পরের সাথে ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে যুক্ত থাকে। ৩. স্থায়ী ও পরিবর্তনশীল অঞ্চল: প্রতিটি শৃঙ্খলের একটি স্থায়ী অঞ্চল (Constant region) এবং একটি পরিবর্তনশীল অঞ্চল (Variable region) থাকে। পরিবর্তনশীল অঞ্চলটি নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হতে সাহায্য করে। ৪. কব্জা অঞ্চল: অ্যান্টিবডির বাহু দুটি যে সংযোগস্থল থেকে দুভাগে বিভক্ত হয়, তাকে কব্জা অঞ্চল (Hinge region) বলে। এটি অণুকে নমনীয়তা প্রদান করে। (ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত অণুটি হলো অ্যান্টিবডি, যা মানবদেহের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অ্যান্টিবডি যেভাবে অণুজীব ধ্বংস করে তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ১. অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি কমপ্লেক্স: অ্যান্টিবডি অণুজীবের গায়ে থাকা নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি কমপ্লেক্স গঠন করে। এর ফলে অণুজীবের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়। ২. প্রশমন (Neutralization): অ্যান্টিবডি ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার পৃষ্ঠতলে আবদ্ধ হয়ে তাদের পোষক কোষের সংস্পর্শে আসতে বাধা দেয়, ফলে তারা কোষে প্রবেশ করতে পারে না। ৩. প্রদাহ সৃষ্টি: IgE জাতীয় অ্যান্টিবডি মাস্ট কোষের সাথে যুক্ত হয়ে হিস্টামিন নিঃসরণ করে, যা আক্রান্ত স্থানে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে তোলে। ৪. কমপ্লিমেন্ট সিস্টেম সক্রিয়করণ: অ্যান্টিবডি কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমকে সক্রিয় করে, যা অণুজীবের কোষপ্রাচীর বিগলন করে তাদের ধ্বংস করে। ৫. ফ্যাগোসাইটোসিস ত্বরান্বিতকরণ: অ্যান্টিবডি দ্বারা আবৃত অণুজীবকে ম্যাক্রোফেজ বা অন্যান্য ফ্যাগোসাইটিক কোষ সহজেই শনাক্ত করতে পারে এবং ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় দ্রুত ধ্বংস করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

শিক্ষক মানবদেহের প্রতিরক্ষা নিয়ে আলোচনায় বললেন- “আমাদের দেহে নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা স্তরে B-লিম্ফোসাইট থেকে এক ধরনের প্রোটিন অণু উৎপন্ন হয় যা অনুপ্রবেশকারী বস্তু বা অণুজীবকে ধ্বংস করে। দেহ প্রতিরক্ষায় উক্ত প্রোটিন অণু বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

ক. অ্যান্ড্রুইজম কী?

খ. নিউট্রোফিলকে ফ্যাগোসাইট বলা হয় কেন?

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রোটিন অণুর চিত্রসহ গঠন বর্ণনা কর।

ঘ. দেহ প্রতিরক্ষায় উদ্দীপকে উল্লিখিত অণু কীভাবে অণুজীব ধ্বংস করে- তা বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।