Facebook Pixel

শিক্ষক ক্লাসে বিভিন্ন জীবাণুর আক্রমণ হতে দেহ রক্ষায় গিয়ে বললেন, দেহের বাইরের বিশেষ কিছু অংশ এই ব্যবস্থায় ধারণা দিতে প্রাথমিক ভূমিকা রাখে। ক. অ্যান্টিজেন কী? খ. ইমিউনিটি বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ধারণার শ্রেণিবিন্যাস কর। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ অঙ্গের ভূমিকার সম্পর্কে তোমার মতামত দাও।

বিষয়: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-১০ঃ মানবদেহের প্রতিরক্ষা (ইমিউনিটি)

উৎস: Board Exam Question RB 2017

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) অ্যান্টিজেন হলো এমন এক ধরনের বহিরাগত প্রোটিন, পলিস্যাকারাইড বা অন্য কোনো অণু যা দেহে প্রবেশ করলে ইমিউনতন্ত্রের মাধ্যমে অ্যান্টিবডি তৈরির উদ্দীপনা জোগায়। (খ) ইমিউনিটি বা অনাক্রম্যতা হলো দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি বিশেষ ক্ষমতা, যার মাধ্যমে দেহ বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ক্ষতিকর বহিরাগত পদার্থের আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে। এটি মূলত দেহের ইমিউনতন্ত্রের একটি জটিল ও সমন্বিত কার্যক্রম। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত ধারণাটি হলো মানবদেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। মানবদেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রধানত তিনটি স্তরে বিন্যস্ত করা যায়: ১. প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর: এটি দেহের ভৌত ও রাসায়নিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে গঠিত, যা জীবাণুকে দেহে প্রবেশে বাধা দেয়। এর অন্তর্ভুক্ত হলো ত্বক, লোম, অশ্রু, লালা, পাকস্থলীর এসিড এবং শ্লেষ্মা। ২. দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তর: যখন কোনো জীবাণু প্রথম স্তর ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করে, তখন এই স্তরটি সক্রিয় হয়। এটি মূলত কোষীয় ও রাসায়নিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর অন্তর্ভুক্ত হলো ফ্যাগোসাইট, সহজাত মারণকোষ (NK cell), প্রদাহ, ইন্টারফেরন এবং জ্বর। ৩. তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর: এটি দেহের সবচেয়ে শক্তিশালী ও সুনির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এটি লিম্ফোসাইটের মাধ্যমে কাজ করে এবং নির্দিষ্ট জীবাণুকে শনাক্ত করে ধ্বংস করে। এর প্রধান দুটি অংশ হলো সহজাত প্রতিরক্ষা এবং অর্জিত প্রতিরক্ষা। (ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ অঙ্গটি হলো ত্বক, যা মানবদেহের প্রথম প্রতিরক্ষা স্তরের প্রধান অংশ। জীবাণুর আক্রমণ থেকে দেহ রক্ষায় ত্বকের ভূমিকা নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ভৌত প্রতিবন্ধক: ত্বক একটি অবিচ্ছিন্ন আবরণ হিসেবে কাজ করে, যা জীবাণুকে দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। ২. রাসায়নিক সুরক্ষা: ত্বকের ঘাম ও সিবাম গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত পদার্থ ত্বককে অম্লীয় (pH ৩.০ - ৫.০) করে তোলে, যা অনেক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি রোধ করে। ৩. উপকারী অণুজীব: ত্বকে বসবাসকারী কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করে এবং তাদের ধ্বংস করতে সাহায্য করে। ৪. ক্ষত নিরাময়: ত্বক কেটে গেলে রক্ত জমাট বাঁধার মাধ্যমে দ্রুত ক্ষতস্থান বন্ধ হয়ে যায়, ফলে জীবাণুর প্রবেশের পথ বন্ধ হয়। ৫. অন্যান্য নিঃসরণ: অশ্রু, লালা এবং কানের সেরুমেন বা কানের খৈল লাইসোজাইম এনজাইম বা অন্যান্য উপাদানের মাধ্যমে জীবাণু ধ্বংস করে দেহের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করে। পরিশেষে বলা যায়, ত্বক মানবদেহের প্রথম ও প্রধান প্রতিরক্ষা প্রাচীর হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenRajshahi Board (2017)

শিক্ষক ক্লাসে বিভিন্ন জীবাণুর আক্রমণ হতে দেহ রক্ষায় গিয়ে বললেন, দেহের বাইরের বিশেষ কিছু অংশ এই ব্যবস্থায় ধারণা দিতে প্রাথমিক ভূমিকা রাখে।

ক. অ্যান্টিজেন কী?

খ. ইমিউনিটি বলতে কী বোঝ?

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ধারণার শ্রেণিবিন্যাস কর।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ অঙ্গের ভূমিকার সম্পর্কে তোমার মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।