Facebook Pixel

শিক্ষক ক্লাসে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক পটভূমি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, স্বাধীনতা পূর্ববর্তী তিন শাসনামল ১. ১২০০ হতে ১৭৫৭ খ্রি. পর্যন্ত ২. ১৭৫৭ হতে ১৯৪৭ খ্রি. পর্যন্ত ৩. ১৯৪৭ হতে ১৯৭১ খ্রি. পর্যন্ত বাংলাদেশ বিভিন্নভাবে শোষিত ও বঞ্চিত হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মানুষের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, অর্থনীতির অবকাঠামোর উপখাতগুলোর উন্নয়ন হয়েছে। ক. প্রাকৃতিক পরিবেশ কী? খ. অবকাঠামোর দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত দুটি শাসনামলের নামসহ অর্থনৈতিক বৈষম্য বিশ্লেষণ করো। ঘ. বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক গতিধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা' কতটুকু? বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ বাংলাদেশের অর্থনীতির পরিচয়

উৎস: Board Exam Question BB 2019

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ভৌগোলিক অবস্থান, ভূ-প্রকৃতি, জলবায়ু, নদ-নদী, খনিজ, বনজ ও প্রাণিজ সম্পদের প্রভাবে সৃষ্ট পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে প্রাকৃতিক পরিবেশ বলে। (খ) যেসব সহায়ক সুযোগ-সুবিধা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তথা উৎপাদন, বণ্টন ও ভোগের জন্য ব্যবহৃত হয়, সেসব সুযোগ-সুবিধাকে অবকাঠামো বলে। অবকাঠামোর দুটি বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. অর্থনৈতিক ভিত্তি: অবকাঠামো অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে কাজ করে। উন্নত অবকাঠামো থাকলে উৎপাদনের উপকরণের গতিশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং সম্পদ সুষ্ঠুভাবে ব্যবহৃত হয়। ২. দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব: অবকাঠামো নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ প্রয়োজন হয় এবং এর সুফল দীর্ঘ সময় ধরে সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল স্তরের মানুষ ভোগ করতে পারে। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত দুটি শাসনামল হলো ১৭৫৭ হতে ১৯৪৭ খ্রি. পর্যন্ত ব্রিটিশ শাসনামল এবং ১৯৪৭ হতে ১৯৭১ খ্রি. পর্যন্ত পাকিস্তানি শাসনামল। এই দুই সময়ের অর্থনৈতিক বৈষম্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ব্রিটিশ শাসনামল (১৭৫৭-১৯৪৭ খ্রি.): ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার পতনের মধ্য দিয়ে বাংলায় ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশরা মূলত রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে এদেশের সম্পদ লুণ্ঠন করত। তারা ঠিকাদারদের মাধ্যমে কৃষকদের ওপর জুলুম-অত্যাচার করে রাজস্ব আদায় করত এবং জোরপূর্বক নীল চাষ করতে বাধ্য করত। এর ফলে কৃষকরা চরম দারিদ্র্যের শিকার হয় এবং ১৭৭০ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে এদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। পাকিস্তানি শাসনামল (১৯৪৭-১৯৭১ খ্রি.): ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) পশ্চিম পাকিস্তানের দ্বারা অর্থনৈতিকভাবে শোষিত হয়। বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ পূর্ব পাকিস্তান অর্জন করলেও মোট আমদানিকৃত দ্রব্যের প্রায় ৭০ শতাংশ ভোগ করত পশ্চিম পাকিস্তান। মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রেও ব্যাপক বৈষম্য ছিল; যেমন ১৯৬৪-৬৫ অর্থবছরে পূর্ব পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় ছিল ৩২৭ টাকা, যেখানে পশ্চিম পাকিস্তানের ছিল ৪৬৫ টাকা। (ঘ) বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক গতিধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্লেষণ: বাংলাদেশ বর্তমানে একটি উদীয়মান অর্থনীতি হিসেবে বিশ্বদরবারে পরিচিত। গত কয়েক দশকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং মাথাপিছু আয়ের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি বাংলাদেশকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করেছে। সরকারের পরিকল্পনা ও রূপকল্প: বাংলাদেশ সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে 'ভিশন ২০৪১' এবং 'স্মার্ট বাংলাদেশ' রূপকল্প গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে অর্থনীতিকে আধুনিকায়ন করা এবং দারিদ্র্য সম্পূর্ণ নির্মূল করা। অবকাঠামোগত উন্নয়ন: উদ্দীপকে উল্লিখিত গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি বর্তমানে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেলের মতো মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে। এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করেছে এবং বাণিজ্যের প্রসার ঘটিয়েছে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে। মানবসম্পদ ও আইসিটি উন্নয়ন: আইসিটি শিক্ষা বাধ্যতামূলককরণ, সর্বত্র ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং সব কার্যপ্রক্রিয়ার ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা হচ্ছে। মানবসম্পদ উন্নয়ন উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত, যা বাংলাদেশ বর্তমানে গুরুত্বের সাথে বাস্তবায়ন করছে। উপসংহার: সুতরাং, সঠিক পরিকল্পনা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বর্তমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে আশা করা যায়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenBarisal Board (2019)

শিক্ষক ক্লাসে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক পটভূমি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, স্বাধীনতা পূর্ববর্তী তিন শাসনামল ১. ১২০০ হতে ১৭৫৭ খ্রি. পর্যন্ত ২. ১৭৫৭ হতে ১৯৪৭ খ্রি. পর্যন্ত ৩. ১৯৪৭ হতে ১৯৭১ খ্রি. পর্যন্ত বাংলাদেশ বিভিন্নভাবে শোষিত ও বঞ্চিত হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মানুষের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, অর্থনীতির অবকাঠামোর উপখাতগুলোর উন্নয়ন হয়েছে।

ক. প্রাকৃতিক পরিবেশ কী? খ. অবকাঠামোর দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত দুটি শাসনামলের নামসহ অর্থনৈতিক বৈষম্য বিশ্লেষণ করো। ঘ. বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক গতিধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা' কতটুকু? বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

SDG কী?

অর্থনীতির শিক্ষক আসাদ সাহেব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বললেন, "সমষ্টিগত অর্থ...

অর্থনৈতিক কাঠামো কী?

অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৮ অনুযায়ী বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় কত?

ইংরেজ শাসকেরা ২০০ বছর এ উপমহাদেশে শাসন ও শোষণ করেছে। পরে পাকিস্তান রাষ্ট্র বাংলাদেশকে ২৪ বছর নির্বিচার নির্যাতন শোষণ করে...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : এক সময় বাংলা এক সমৃদ্ধ জনপদ ছিল। স্বাধীনতার পূর্ববর্তী একটি সময়কাল বাংলার অর্থনৈত...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : এক সময় বাংলা এক সমৃদ্ধ জনপদ ছিল। স্বাধীনতার পূর্ববর্তী একটি সময়কাল বাংলার অর্থনৈত...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : দীর্ঘদিনের শাসন ও শোষণের পর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার পরে শি...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : দীর্ঘদিনের শাসন ও শোষণের পর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার পরে শি...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : সুপ্রাচীনকাল হতে বাংলাদেশ সুজলা-সুফলা দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। এ কারণে বিভিন্ন সময়ে ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।