(ক)
যেসব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি হয়ে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয়, তাদের করোটিক স্নায়ু বলে।
(খ)
কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণীর চোখের লেন্সের বক্রতা পরিবর্তন, পিউপিলের সংকোচন-প্রসারণ এবং অক্ষিগোলকের স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে চোখের নিকটবর্তী বা দূরবর্তী বস্তুকে স্পষ্টভাবে দেখার ক্ষমতাকে উপযোজন বলে। মানুষ দু'চোখকে একই বস্তুতে কেন্দ্রীভূত করে এবং লেন্সের ফোকাস দূরত্ব পরিবর্তনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
(গ)
উদ্দীপকের জৈব উপাদানটি হলো হরমোন। মানবদেহের শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণে হরমোনের গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে এর প্রধান দিকগুলো উল্লেখ করা হলো:
১. পরিপাক নিয়ন্ত্রণ: পৌষ্টিক নালির অন্তঃক্ষরা কোষ থেকে ক্ষরিত গ্যাস্ট্রিন, সিক্রেটিন ইত্যাদি হরমোন পরিপাক এনজাইমের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং অন্ত্রের ভিলাইয়ের শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
২. বিপাক নিয়ন্ত্রণ: থাইরোক্সিন, ইনসুলিন, গ্লুকাগন এবং গ্লুকোকটিকয়েড হরমোন শর্করা, প্রোটিন ও ফ্যাট বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।
৩. আয়নিক ভারসাম্য: অ্যাড্রেনাল কর্টেক্স থেকে ক্ষরিত অ্যালডোস্টেরন রক্তে সোডিয়াম ($Na^+$) ও পটাশিয়াম ($K^+$) আয়নের সমতা রক্ষা করে।
৪. পানি ও লোহিত রক্তকণিকা নিয়ন্ত্রণ: ADH হরমোন পানি শোষণ ও সাম্যতা বজায় রাখে এবং এরিথ্রোপোয়েটিন হরমোন লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে।
৫. স্নায়ুবিক ও প্রজনন নিয়ন্ত্রণ: অ্যাড্রিনালিন ও নর-অ্যাড্রিনালিন স্নায়ুবিক উত্তেজনা প্রেরণে ভূমিকা রাখে। এছাড়া জননকোষ উৎপাদন, যৌন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ, গর্ভাবস্থা ও দুগ্ধ ক্ষরণসহ প্রজনন সংক্রান্ত সকল কাজ হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
(ঘ)
উদ্দীপকের শেষোক্ত উক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। হরমোন মানবদেহের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য নির্দিষ্ট মাত্রায় প্রয়োজন। এর অনিয়ন্ত্রিত মাত্রা বা ভারসাম্যহীনতা শরীরে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করে। নিচে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
১. বৃদ্ধি হরমোন: এর অতিরিক্ত ক্ষরণ বা ব্যবহার উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হাত, পা ও মাথার হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।
২. থাইরক্সিন হরমোন: এর আধিক্য দ্রুত হৃদস্পন্দন, ওজন কমে যাওয়া, খিটখিটে মেজাজ এবং ছদ্ম গলগণ্ড সৃষ্টি করতে পারে।
৩. এপিনেফ্রিন হরমোন: অতিমাত্রায় ব্যবহৃত হলে উচ্চ রক্তচাপ, মাথাব্যথা, বুকব্যথা এবং অনিয়মিত হৃদস্পন্দন দেখা দেয়।
৪. টেস্টোস্টেরন: এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে শুক্রাশয়ে ব্যথা, রক্ত মল ত্যাগ, মূত্রথলিতে ব্যথা এবং মানসিক অবসাদসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।
৫. ইস্ট্রোজেন: নারীদের ক্ষেত্রে এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে স্তন দৃঢ় হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত রক্তস্রাব, বমিভাব এবং মানসিক ভাবের পরিবর্তন হতে পারে।
৬. ইনসুলিন: ইনসুলিনের অতিরিক্ত ব্যবহার রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিক কমিয়ে দিয়ে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) অবসাদ, খিচুনি এবং স্নায়বিক দুর্বলতা সৃষ্টি করতে পারে।
সুতরাং, হরমোনের পরিমিত মাত্রা সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য, কিন্তু এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানবদেহে বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট করে জটিল রোগ সৃষ্টি করে।