(ক)
ই-গভর্নেন্স-এর পূর্ণরূপ হলো ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স (Electronic Governance)।
(খ)
ইন্টারনেট হলো বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য কম্পিউটারের একটি আন্তঃসংযোগ ব্যবস্থা বা গ্লোবাল নেটওয়ার্কিং সিস্টেম। মূলত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি কম্পিউটারকে একটি নেটওয়ার্কের আওতায় আনাই ইন্টারনেটের কাজ। ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা খুব সহজেই বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে ডকুমেন্ট, ফাইল আদান-প্রদান এবং যোগাযোগ করতে পারি।
(গ)
আলোচ্য উদ্দীপকে শামীমের বসবাসরত রাষ্ট্রে ই-গভর্নেন্সের যে উদ্দেশ্যটির প্রতিফলন ঘটেছে তা হলো সুশাসন।
ই-গভর্নেন্সের অর্থ হলো ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স। ই-গভর্নেন্সের প্রধান উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা অন্যতম। সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করাই হচ্ছে সুশাসন। সুশাসন সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে এবং জনগণকে একটি নিরাপদ পরিবেশ প্রদান করে। এটি দুর্নীতি হ্রাস করে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও গণমুখী করে তোলে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দূর করে ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। এছাড়া সুশাসন নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব বৈষম্য দূর করে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করে। উদ্দীপকে শামীমের রাষ্ট্রে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, শাসকদের জবাবদিহিতা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং বৈষম্য দূরীকরণের কথা বলা হয়েছে, যা সরাসরি সুশাসনের বৈশিষ্ট্য। সুতরাং বলা যায়, উক্ত রাষ্ট্রে ই-গভর্নেন্সের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যটি প্রতিফলিত হয়েছে।
(ঘ)
উদ্দীপকে শামীমের রাষ্ট্রে "একমাত্র তথ্য প্রযুক্তিসম্পন্ন লোকের অভাবে ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়", উক্তিটির সপক্ষে যুক্তি নিচে আলোচনা করা হলো:
ই-গভর্নেন্স একটি সম্পূর্ণ প্রযুক্তি-নির্ভর শাসন ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি সিদ্ধান্ত রূপায়ণ, প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং সেবা প্রদান করা হয়। এই শাসনব্যবস্থায় প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন তথ্য ও সেবা অতি দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।
ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠার প্রধান শর্ত হলো দক্ষ ও তথ্য প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জনসম্পদ। কারণ, আইটি জ্ঞানসম্পন্ন লোক ছাড়া নিম্নোক্ত কাজগুলো সম্পাদন করা সম্ভব নয়:
১. অনলাইনের মাধ্যমে পাবলিক ডেলিভারি সিস্টেম চালু করা এবং তা জনগণের কাছে সহজলভ্য করা।
২. সরকারি দপ্তরের কর্মপদ্ধতির ব্যাপক পরিবর্তন ও ডিজিটাল সংস্কার আনয়ন করা।
৩. সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং দ্বি-মুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
৪. ডিজিটাল পদ্ধতিতে আয়কর রিটার্ন জমা ও গ্রহণ এবং প্রযুক্তির নিয়মিত সংস্করণ ও উন্নয়ন সাধন করা।
যদি সরকারি কর্মকর্তা এবং সাধারণ জনগণ উভয়েই তথ্য প্রযুক্তিতে অদক্ষ হয়, তবে ই-গভর্নেন্সের অবকাঠামো থাকলেও তা কার্যকর হবে না। উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, শামীমের রাষ্ট্রে সুশাসনের লক্ষ্য থাকলেও তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞানসম্পন্ন লোকের অভাবে ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হচ্ছে না। সুতরাং, আমি মনে করি যে দক্ষ জনশক্তি বা তথ্য প্রযুক্তিসম্পন্ন লোকের অভাব ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠার পথে প্রধান অন্তরায়, তাই উক্ত উক্তিটি যথার্থ।