(ক)
BPC (বিপিসি) এর পূর্ণরূপ হলো বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন। এটি জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ ও বিতরণের দায়িত্বে নিয়োজিত একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান।
(খ)
রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় এবং অন্যান্য (বেসরকারি) ব্যবসায়ের মূল পার্থক্য হলো তাদের উদ্দেশ্য। বেসরকারি ব্যবসায় মূল লক্ষ্য থাকে মুনাফা অর্জন। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় মুনাফা অর্জনের চেয়ে জনকল্যাণ সাধন, সম্পদের সুষম বণ্টন, একচেটিয়া বাজার রোধ এবং প্রয়োজনীয় সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া প্রধান উদ্দেশ্য। অর্থাৎ, মুনাফা অর্জনের পরিবর্তে জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে গঠিত হয় বলে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় অন্যান্য ব্যবসায় থেকে ভিন্ন।
(গ)
উদ্দীপকের শানন্দন কো. লি. একটি সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। সারের বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে নিজের আয়ত্তে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে 'বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প কর্পোরেশন' (BCIC)-এর অধীনে আনা যেতে পারে।
বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প কর্পোরেশন হলো একটি সরকারি সংস্থান যা সার, রাসায়নিক এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোর পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত। এটি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতার পরিমিত ব্যবহার নিশ্চিত করে। উদ্দীপকের শানন্দন কো. লি.-কে এই কর্পোরেশনের অধীনে আনলে সরকার সারের উৎপাদন, মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনস্বার্থ রক্ষা করতে পারবে এবং সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
(ঘ)
উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত মডেলটি হলো সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা PPP (Public-Private Partnership) মডেল।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা PPP হলো এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা যেখানে জনগণকে সেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বেসরকারি খাত সরকারের সাথে যৌথভাবে মূলধন বিনিয়োগ করে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, উত্তরাঞ্চলের দারিদ্রতা নিরসন এবং বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করতে রাষ্ট্র ব্যক্তিক উদ্যোগের সাথে যৌথভাবে জনস্বার্থে ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই মডেলটির কার্যকারিতা নিম্নরূপ:
১. মূলধনের জোগান: বড় অবকাঠামো নির্মাণের জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। PPP মডেলের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের মূলধন যুক্ত হওয়ায় সরকারের আর্থিক চাপ কমে এবং দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।
২. দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনা: বেসরকারি খাতের আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা সরকারি প্রকল্পের গুণগত মান বৃদ্ধি করে এবং সময়মতো কাজ শেষ করতে সাহায্য করে।
৩. ঝুঁকি বণ্টন: প্রকল্পের আর্থিক ও পরিচালনাগত ঝুঁকি কেবল সরকারের ওপর না থেকে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পক্ষের মধ্যে বণ্টিত হয়।
৪. অর্থনৈতিক উন্নয়ন: ব্রিজ ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো অবকাঠামো তৈরি হলে ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং শিল্পায়ন বাড়বে, যা পরোক্ষভাবে দারিদ্রতা নিরসনে সহায়তা করবে।
পরিশেষে বলা যায়, উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত এই PPP মডেলটি অত্যন্ত কার্যকর এবং সময়োপযোগী, কারণ এর মাধ্যমে রাষ্ট্র একাই অর্থ ব্যয় না করে বেসরকারি খাতের সহযোগিতায় অধিক উন্নয়ন সাধন করতে পারবে।