শাদমান সাহেব ক্লাসে বৃষ্টিপাত সংঘটনের কারণ হিসেবে পর্বতের অবস্থান সম্পর্কিত বিষয়টি আলোচনা করলেন। এক ছাত্র ঐ সময় পর্বত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে স্যার জানালেন, এ বিষয়টি পরবর্তীতে প্রাকৃতিক ভূগোলের অন্য শাখায় আলোচনা করা হবে । ক. প্রাকৃতিক ভূগোলের সংজ্ঞা দাও । খ. জোয়ার-ভাটা প্রাকৃতিক ভূগোলের যে শাখায় আলোচিত হয়তা ব্যাখ্যা করো। গ. শাদমান সাহেবের ক্লাসে আলোচিত শাখার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো । ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত শাখা দুটির বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ করো।
বিষয়: ভূগোল ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ প্রাকৃতিক ভূগোল
উৎস: Board Exam Question DB 2017, Board Exam Question SB 2017, Board Exam Question CB 2017, Board Exam Question Combined 2017
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা: (ক) ভূগোলের যে শাখায় পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং এর উপাদানসমূহের স্থান ও কালভিত্তিক বিন্যাস ও প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে প্রাকৃতিক ভূগোল বলে। (খ) জোয়ার-ভাটা প্রাকৃতিক ভূগোলের সমুদ্রবিদ্যা (Oceanography) শাখায় আলোচিত হয়। সমুদ্রবিদ্যা হলো প্রাকৃতিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা, যেখানে মহাসাগর ও সমুদ্রের বৈশিষ্ট্য, পানির ধর্ম, সমুদ্রতলের ভূপ্রকৃতি, সামুদ্রিক স্রোত এবং জোয়ার-ভাটার মতো গতিশীল প্রক্রিয়াগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। যেহেতু জোয়ার-ভাটা সমুদ্রের পানির নিয়মিত উত্থান-পতন সম্পর্কিত একটি সামুদ্রিক প্রক্রিয়া, তাই এটি সমুদ্রবিদ্যার অন্তর্ভুক্ত। (গ) উদ্দীপকে শাদমান সাহেবের ক্লাসে আলোচিত শাখাটি হলো জলবায়ুবিদ্যা (Climatology)। প্রাকৃতিক ভূগোলের এই শাখাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যার গুরুত্ব নিচে আলোচনা করা হলো: ১. বায়ুমণ্ডলের গঠন ও উপাদান: জলবায়ুবিদ্যা পাঠের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তর, এর উপাদানসমূহ এবং বায়ুর তাপ ও চাপের তারতম্য সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়। ২. আবহাওয়া ও জলবায়ুর পূর্বাভাস: বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ুর ধরন, এর পরিবর্তনের কারণ এবং পূর্বাভাস প্রদানের ক্ষেত্রে এই শাখাটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। ৩. বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতা: বায়ুমণ্ডলের জলীয়বাষ্প, আর্দ্রতা এবং বৃষ্টিপাত সংঘটনের কারণ ও এর প্রকারভেদ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়, যা কৃষি ও জনজীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৪. জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রভাব: বর্তমান বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ এবং এর ফলে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় জলবায়ুবিদ্যার জ্ঞান আমাদের সচেতন করে তোলে। (ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত শাখা দুটি হলো জলবায়ুবিদ্যা এবং ভূমিরূপবিদ্যা (Geomorphology)। এদের মধ্যে বৈসাদৃশ্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: জলবায়ুবিদ্যা ও ভূমিরূপবিদ্যার মূল পার্থক্যসমূহ: বিষয় জলবায়ুবিদ্যা ভূমিরূপবিদ্যা আলোচ্য বিষয় বায়ুমণ্ডলের উপাদান, বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত এবং আবহাওয়া ও জলবায়ুর শ্রেণিবিভাগ নিয়ে আলোচনা করে। পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন, ভূত্বক, ভূমিরূপের পরিবর্তন এবং পর্বত, মালভূমি, সমভূমির মতো ভূ-অবয়ব নিয়ে আলোচনা করে। নিয়ামকসমূহ জলবায়ুর নিয়ামক হিসেবে অক্ষাংশ, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, পর্বতের অবস্থান ইত্যাদি আলোচিত হয়। ভূপৃষ্ঠ পরিবর্তনের প্রাকৃতিক শক্তি যেমন: ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরি, ক্ষয়ীভবন ও বিচূর্ণীভবন আলোচিত হয়। পরিশেষে বলা যায়, জলবায়ুবিদ্যা মূলত বায়ুমণ্ডলীয় প্রক্রিয়া ও জলবায়ুর উপাদান নিয়ে কাজ করে, অন্যদিকে ভূমিরূপবিদ্যা পৃথিবীর কঠিন ভূত্বক ও এর উপরিভাগের পরিবর্তন নিয়ে কাজ করে। এই মৌলিক পার্থক্যের কারণেই প্রাকৃতিক ভূগোলের এই শাখা দুটি একে অপরের থেকে স্বতন্ত্র।
প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)