Facebook Pixel

শৈশব থেকেই মোসাদ্দেক ভীরু ও অন্তর্মুখী স্বভাবের। পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও সে মানুষের সঙ্গ এড়িয়ে চলত। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা যখন গোপন আস্তানায় পোস্টার লেখা ও লিফলেট বিলির মতো দুঃসাহসী কাজে যুক্ত, মোসাদ্দেক তখন ভয়ে তটস্থ। কিন্তু একুশে ফেব্রুয়ারির বর্বোরোচিত পুলিশি নির্যাতন ও রাজপথের রক্তের দাগ তার দীর্ঘদিনের জড়তা ভেঙে দেয়। এক পর্যায়ে তার শোক শক্তিতে পরিণত হয়। মোসাদ্দেক রাজপথে নেমে মিছিলে স্লোগান তোলে-"রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, মায়ের ভাষায় জীবন চাই। করব মোরা জীবন দান, রাখব মোরা মায়ের মান। ক. "বর্ষাকালেই তো জুৎ।"—কে বলেছিল? খ. "মিন্টু যে কোথায় গেছে তা সে-ও জানে তার বৌ-ও জানে।"—অন্তর্নিহিত তাৎপর্য লেখ। গ. উদ্দীপকের ছাত্রদের "গোপন অস্তানায় পোস্টার লেখা ও লিফলেট বিলি" "রেইনকোট" গল্পের কোন দিকটি তুলে ধরে? ঘ. "উদ্দীপকের একুশে ফেব্রুয়ারিতে পুলিশের নিষ্ঠুরতা এবং "রেইনকোট" গল্পের নুরুল হুদার গায়ের রেইনকোট—উভয়েই সাধারণ মানুষকে প্রতিরোধের শক্তিতে উজ্জীবিত করার অনুঘটক।"—মন্তব্যের উপযোগিতা যাচাই কর।

বিষয়: বাংলা ১ম পত্র | অধ্যায়: গদ্য - রেইনকোট

উৎস: Board Exam Question Combined 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ‘বর্ষাকালেই তো জুৎ’ কথাটি কুলির ছদ্মবেশে আসা একজন মুক্তিযোদ্ধা বলেছিল। গল্পে সে কথাটি দুবার বলেছিল। খ. উক্তিটির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য হলো—নুরুল হুদা ও তার স্ত্রী আসমা দুজনেই জানত যে মিন্টু মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে গিয়েছে; কিন্তু পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও রাজাকারদের ভয়ে তারা বিষয়টি গোপন রাখত। মিন্টু নুরুল হুদার শ্যালক এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। সে বোনের বাড়ি থেকেই মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে চলে যায়। এমনকি নুরুল হুদার সন্তানদের কাছেও বিষয়টি অজানা ছিল না। কিন্তু মিন্টুর পরিচয় প্রকাশিত হলে পরিবারের ওপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নির্যাতন নেমে আসতে পারে—এই আশঙ্কায় ভীরু ও নিরাপত্তাসচেতন নুরুল হুদা সত্যটি স্বীকার করতে চায় না। তাই উক্তিটির মধ্যে জানা সত্য গোপন করা, নুরুল হুদার ভয় এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে। গ. উদ্দীপকের ছাত্রদের গোপন আস্তানায় পোস্টার লেখা ও লিফলেট বিলির ঘটনায় ‘রেইনকোট’ গল্পে বর্ণিত স্বাধীনতাকামী তরুণদের গোপন, সংগঠিত ও দুঃসাহসী প্রতিরোধ-তৎপরতার দিকটি ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা পাকিস্তানি শাসকদের নজর এড়িয়ে গোপনে পোস্টার লিখে এবং লিফলেট বিলি করে আন্দোলনের পক্ষে জনমত তৈরি করেছে। এটি ছিল শাসকের দমননীতির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত প্রতিবাদের অংশ। একইভাবে ‘রেইনকোট’ গল্পে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কুলির ছদ্মবেশে কলেজে প্রবেশ করে। তারা সাধারণ কুলির মতো আলমারি বহন করলেও প্রকৃতপক্ষে ছিল গোপন গেরিলা দলের সদস্য। পরে তারা কলেজ-সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তাদের কার্যক্রম ছিল গোপন, কৌশলপূর্ণ এবং জীবনবাজি রাখা সাহসী তৎপরতা। অতএব, সময় ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও উভয় ক্ষেত্রেই দেশপ্রেমিক তরুণদের গোপন সংগঠন, সাহস, কৌশল এবং স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের চেতনা প্রকাশিত হয়েছে। ঘ. “উদ্দীপকের একুশে ফেব্রুয়ারিতে পুলিশের নিষ্ঠুরতা এবং ‘রেইনকোট’ গল্পের নুরুল হুদার গায়ের রেইনকোট—উভয়েই সাধারণ মানুষকে প্রতিরোধের শক্তিতে উজ্জীবিত করার অনুঘটক।” মন্তব্যটি সম্পূর্ণ উপযোগী ও যথার্থ। উদ্দীপকের মোসাদ্দেক শৈশব থেকেই ভীরু, অন্তর্মুখী ও নিষ্ক্রিয় প্রকৃতির। ভাষা আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা যখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনে অংশ নেয়, তখন সে ভয় পেয়ে দূরে থাকে। কিন্তু একুশে ফেব্রুয়ারিতে পুলিশের বর্বর নির্যাতন এবং রাজপথে আন্দোলনকারীদের রক্ত দেখে তার ভেতরের দীর্ঘদিনের জড়তা ভেঙে যায়। তার শোক ক্রমে শক্তি ও প্রতিবাদে পরিণত হয়। ফলে সে রাজপথে নেমে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে স্লোগান দেয়। অর্থাৎ পুলিশের নিষ্ঠুরতাই তার চেতনা জাগিয়ে প্রতিরোধে যোগ দেওয়ার অনুঘটক হয়েছে। ‘রেইনকোট’ গল্পের নুরুল হুদাও প্রথমে ভীরু, আত্মকেন্দ্রিক ও নিরাপত্তাপ্রত্যাশী সাধারণ মানুষ। মুক্তিযুদ্ধ, পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ কিংবা সহকর্মীদের প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে সে নিজেকে দূরে রাখত। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা শ্যালক মিন্টুর রেইনকোটটি গায়ে দেওয়ার পর তার মধ্যে ধীরে ধীরে পরিবর্তন শুরু হয়। রেইনকোটটি শুধু বৃষ্টি থেকে রক্ষাকারী পোশাক নয়; এটি মিন্টুর সাহস, দেশপ্রেম, প্রতিরোধচেতনা ও মুক্তিযোদ্ধার সত্তার প্রতীক। রেইনকোটের উষ্ণতা নুরুল হুদার ভেতরে সাহস ও আত্মমর্যাদাবোধ জাগিয়ে তোলে। বাসে সে সাহসের সঙ্গে পাকিস্তানি সেনার চোখে চোখ রাখে। পরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নির্যাতনের সময়ও সেই প্রতিরোধচেতনা তার মধ্যে সক্রিয় থাকে। রেইনকোট খুলে নেওয়া হলেও তার প্রতীকী উষ্ণতা নুরুল হুদার শরীর ও মনে থেকে যায়। চাবুকের আঘাতকে সে সামান্য উৎপাতের মতো গ্রহণ করে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক থাকার কল্পনায় গৌরব ও উত্তেজনা অনুভব করে। এভাবে একজন ভীতু ও নিরপেক্ষ মানুষ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। তবে দুটি অনুঘটকের প্রকৃতি কিছুটা ভিন্ন। পুলিশের নিষ্ঠুরতা একটি বাস্তব ও বাহ্যিক ঘটনা, যা মোসাদ্দেকের শোক ও ক্ষোভকে জাগিয়ে তোলে। অন্যদিকে মিন্টুর রেইনকোট একটি প্রতীকী অনুঘটক, যা নুরুল হুদার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সাহস ও প্রতিরোধচেতনা সঞ্চার করে। কিন্তু উভয়ের ফল একই—ভয় ও নিষ্ক্রিয়তা দূর করে সাধারণ মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে উজ্জীবিত করা। সুতরাং একুশে ফেব্রুয়ারির পুলিশি নিষ্ঠুরতা মোসাদ্দেককে এবং মিন্টুর রেইনকোট নুরুল হুদাকে জড়তা ও ভীরুতা থেকে মুক্ত করে প্রতিবাদী চেতনায় জাগিয়ে তুলেছে। তাই মন্তব্যটি যথার্থ ও যৌক্তিক।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCombined Board (2026)

শৈশব থেকেই মোসাদ্দেক ভীরু ও অন্তর্মুখী স্বভাবের। পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও সে মানুষের সঙ্গ এড়িয়ে চলত। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা যখন গোপন আস্তানায় পোস্টার লেখা ও লিফলেট বিলির মতো দুঃসাহসী কাজে যুক্ত, মোসাদ্দেক তখন ভয়ে তটস্থ। কিন্তু একুশে ফেব্রুয়ারির বর্বোরোচিত পুলিশি নির্যাতন ও রাজপথের রক্তের দাগ তার দীর্ঘদিনের জড়তা ভেঙে দেয়। এক পর্যায়ে তার শোক শক্তিতে পরিণত হয়। মোসাদ্দেক রাজপথে নেমে মিছিলে স্লোগান তোলে-"রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, মায়ের ভাষায় জীবন চাই। করব মোরা জীবন দান, রাখব মোরা মায়ের মান।

ক.

"বর্ষাকালেই তো জুৎ।"—কে বলেছিল?

খ.

"মিন্টু যে কোথায় গেছে তা সে-ও জানে তার বৌ-ও জানে।"—অন্তর্নিহিত তাৎপর্য লেখ।

গ.

উদ্দীপকের ছাত্রদের "গোপন অস্তানায় পোস্টার লেখা ও লিফলেট বিলি" "রেইনকোট" গল্পের কোন দিকটি তুলে ধরে?

ঘ.

"উদ্দীপকের একুশে ফেব্রুয়ারিতে পুলিশের নিষ্ঠুরতা এবং "রেইনকোট" গল্পের নুরুল হুদার গায়ের রেইনকোট—উভয়েই সাধারণ মানুষকে প্রতিরোধের শক্তিতে উজ্জীবিত করার অনুঘটক।"—মন্তব্যের উপযোগিতা যাচাই কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস তাঁর 'রেইনকোট' গল্পে কোন বিষয়টি ফুটিয়ে তুলতে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন?

উদ্দীপকটি পড়ের প্রশ্নের উত্তর দাও: "শহরের বুকে জলপাই রঙের ট্যাঙ্ক এলো দানবের মতো চিৎকার করতে করতে"। Q. উদ্দীপকের সঙ্গে ...

উদ্দীপকটি পড়ের প্রশ্নের উত্তর দাও: "শহরের বুকে জলপাই রঙের ট্যাঙ্ক এলো দানবের মতো চিৎকার করতে করতে"। Q. উদ্দীপকের কোন বি...

‘ রেইনকোট' গল্পে রেইনকোটটির মাধ্যমে ব্যঞ্জনাময় প্রকাশ ঘটেছে

“বাজারে মিলিটারি ঢোকার পর থেকেই কলিমদ্দি দফাদারের ওপর বোর্ড অফিস খোলার ভার পড়েছে। অপেক্ষাকৃত কমবয়স্ক চেয়ারম্যান, ভাইস...

’রেইনকোট’ গল্পে রেইনকোটটি কিসের প্রতীক? i. প্রতিহিংসার ii. দেশপ্রেমের iii. ‍মুক্তিযুদ্ধের নিচের কোনটি সঠিক?

১০ মার্চ, ১৯৭১। রাস্তায় রাস্তায় পাকিস্তানি মিলিটারি। গুয়াতলী গ্রামের হিন্দু জনগোষ্ঠী ভয়ে ভারতে পাড়ি জমায়। শুধু ভিটে আঁকড়...

চাবুকের বাড়ির দিকে নুরুল হুদার আর মনোযোগ দেওয়া হয়ে ওঠে না কেন?

কলিমদ্দি দফাদারের বোর্ড অফিস শীতলক্ষ্যার তীরের বাজারে। নদীর এপারে - ওপারে বেশ কিছু বড়ো বড়ো কলকারখানা। এগুলো শাসনের সুব...

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে নিম্নোক্ত প্রশ্নের উত্তর দাও : অলভ্য জয়ের লোভে, জ্বালায় শহর, গ্রামে গ্রামে প্রাচীন সংহতি ভেঙে ভগ্...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।