ক.
সরকারি নির্দেশের মাধ্যমে যেসব শিল্প জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সংরক্ষিত রাখা প্রয়োজন এবং যেসব শিল্প সংবেদনশীল হিসেবে সরকারি বিনিয়োগের জন্য সংরক্ষিত সেসব শিল্পকে সংরক্ষিত শিল্প বলেন।
খ.
বাংলাদেশের সুতা তৈরি আমদানি বিকল্প শিল্প হিসেবে আখ্যায়িত।
অন্য দেশের সাথে আমদানর পরিমাণ কমিয়ে উক্ত পণ্য দেশের অভ্যন্তরে যোগান দেওয়াই হলো আমদানি বিকল্প শিল্পায়ন। তেমনি সুতা পূর্বে আমদানি করলেও বর্তমানে তা দেশের অভ্যন্তরেই উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। এবং দেশের সুতার ঘাটতি লাঘব হচ্ছে। এজন্য সুতা তৈরিকে আমদানি বিকল্প শিল্প বলা হয়।
গ.
উদ্দীপাকে 'ক' শিল্পটি হল বৃহৎ শিল্প এবং 'খ' শিল্পটি হলো ক্ষুদ্র শিল্প। নিম্নে বৃহৎ শিল্প এবং ক্ষুদ্র শিল্পের ধরন ব্যাখ্যা করা হল।
বৃহৎ শিল্পের ধরন :- ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রে বৃহৎ শিল্প বলতে সেসব শিল্পী প্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেখানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতীত স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয় সহ ৫০ কোটি টাকার অধিক এবং।সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ৩০০ জনের অধিক শ্রমিক নিয়োজিত আছে। বৃহৎ শিল্পে সাধারণত বিশাল অবকাঠামো, কাঁচামাল, উচ্চ জনবলের প্রয়োজনীয়তা এবং বৃহৎ মূলধনের প্রয়োজন রয়েছে । বাংলাদেশের মধ্যে বস্ত্র,পাট, কাগজ,সার, সিমেন্ট,চিনি,চা,পানীয়,সাবান ও ডিটারজেন্ট, চামড়া ও চামড়াজাত দ্রাবাদী হলো বৃহৎ শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।
ক্ষুদ্র শিল্পের ধরন :- ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র শিল্প বলতে সেসব প্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেখানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৭৫ লক্ষ টাকা থেকে ১৫ কোটি টাকা এবং শ্রমিক সংখ্যায় ৩১ - ১২০ জন। বাংলাদেশের মধ্যে জামালপুরের নকশি কাঁথা, মনিপুরী তাঁত,সিরাজগঞ্জের তাঁত, রাঙ্গামাটির তাঁত, মুন্সিগঞ্জের বাশ,বেত প্রভৃতি হলো ক্ষুদ্র শিল্পের অন্তর্গত।
উদ্দীপকে উল্লেখিত ক শিল্পটি মূলধন ৫০ কোটি টাকার অধিক, শ্রমিক সংখ্যা ৩০০ জনের অধিক। যা বৃহৎ শিল্পকে নির্দেশ করে। এবং খ শিল্পটির মূলধন ৭৫ লক্ষ টাকা থেকে ১৫ কোটি টাকা , শ্রমিক সংখ্যা ৩১ থেকে ১২০ জন যা ক্ষুদ্র শিল্পকে নির্দেশ করে। উভয় শিল্পই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ও দেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ঘ.
উদ্দীপকে 'খ' শিল্পটি হলো ক্ষুদ্র শিল্প এবং 'গ' শিল্পটি হল কুটির শিল্প। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের ভূমিকা আলোচনা করা হলো -
১.কর্মসংস্থান বৃদ্ধি :- বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ায় বেকার ও অবহেলিত মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে।
২.জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন :- ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে অধিক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।
৩.বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন :- ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে উৎপাদিত পণ্য বা দ্রব্য বিদেশের বাজারে রপ্তানি করে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায়।
৪.গ্রামীন অর্থনীতির বিকাশ :- ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের ফলে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ সাধন করা সম্ভব।
৫.দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন :- ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির দ্রুত উন্নয়ন হয়।
৬. মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ :- ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মাধ্যমে ভোগ্যপণ্যের যোগান বৃদ্ধি সম্ভব । ফলে মুদ্রস্ফীতি হ্রাস পাবে।
৭.কাঁচামালের সদ্ব্যবহার :- দেশের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়। ফলে কাঁচামালের সদ্ব্যবহার সম্ভব হবে।
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উপরোক্ত সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন উপবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে সহায়ক।