ক.
অর্থনীতির জনক অ্যাডাম স্মিথ।
খ.
সুশাসন বলতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, দক্ষতা, ন্যায়পরায়ণতা প্রভৃতি বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অংশীদারিত্বমূলক প্রশাসনকে বোঝায়। রাষ্ট্র বা সরকারের সাথে জনগণের সুসম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে শাসক ও শাসিতের সর্বাধিক কল্যাণ নিশ্চিত করার নামই সুশাসন। সুশাসন প্রত্যয় দ্বারা সরকারি ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতিমুক্ত এবং আইনের শাসনের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের প্রবণতাকে নির্দেশ করে। ১৯৮৯ সালে এ প্রত্যয়টি সর্বপ্রথম বিশ্বব্যাংক ব্যবহার করেন।
গ.
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয়টি হলো নৃবিজ্ঞান।
সামাজিক বিভাজনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা হলো নৃবিজ্ঞান। নৃবিজ্ঞান বলতে মানবসম্বন্ধীয় বিভাজনকে বোঝায়। নৃবিজ্ঞানের সাহায্যে মানুষের অতীতকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিবর্তনের ধারাকে পর্যালোচনা করা হয়। মানুষের জন্মপরিচয়, জন্ম ইতিহাস, সংস্কৃতি, পরিবার, রাষ্ট্র, ধর্ম প্রভৃতি প্রথা ও প্রতিষ্ঠানের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ নিয়েই সাধারণত নৃবিজ্ঞানের পথচলা। নৃবিজ্ঞানী ই এ হোবেল বলেন, নৃবিজ্ঞান হলো মানুষ ও তার সংস্কৃতির বিজ্ঞান। নৃবিজ্ঞান জীববিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞানের সমন্বিত রূপ। জীববিজ্ঞানের বিষয় হিসেবে মানুষের জন্ম, মৃত্যু, বিকাশ, বিবর্তন প্রভৃতি সম্বন্ধে আলোচনা করে থাকে। পাশাপাশি মানুষের সামাজিক পরিবেশ, বিশ্বাস, রীতিনীতি, মূল্যবোধ প্রভৃতি সামাজিক বিষয়াদি নিয়েও আলোচনা করে থাকে।
উদ্দীপকে শারমিন ম্যাডাম শিক্ষার্থীদের সামাজিক বিজ্ঞানের যে শাখাটি নিয়ে পাঠ দেন, তাতে আলোচ্য বিষয়গুলো প্রাণীর উৎপত্তি, বিবর্তন, বিকাশ, দৈহিক গঠন ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন। এই প্রাণীর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো মানুষ। মানুষের উৎপত্তি, বিবর্তন, বিকাশ, দৈহিক গঠন এবং সাংস্কৃতিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করে নৃবিজ্ঞান।
তাই দেখা যাচ্ছে উদ্দীপকের উল্লিখিত বিষয়গুলো মূলত নৃবিজ্ঞানের পাঠকেই বোঝাচ্ছে।
ঘ.
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত নৃবিজ্ঞানের সাথে সমাজকর্মের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
প্রথমত সমাজকর্ম একটি সামাজিক বিজ্ঞান। এটি সর্বদাই মানবকল্যাণের জ্ঞান, পদ্ধতি ও কৌশল প্রয়োগ করে। পক্ষান্তরে, নৃবিজ্ঞান মূলত তত্ত্বনির্ভর বা তাত্ত্বিক বিজ্ঞান। দ্বিতীয়ত, নৃবিজ্ঞানের জ্ঞান সমাজকর্মীদের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু সমাজকর্মের জ্ঞান নৃবিজ্ঞানীদের জন্য অপরিহার্য নয়। তৃতীয়ত, সমাজকর্মে মানুষকে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়। অপরপক্ষে, নৃবিজ্ঞানে মানুষকে জৈবিক ও সামাজিক সত্তা হিসেবে দেখা হয়। চতুর্থত, নৃবিজ্ঞান একটি মৌলিক সামাজিক বিজ্ঞান। কিন্তু সমাজকর্ম একটি সংগঠিত সাহায্য ব্যবস্থা। এর তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান বিভিন্ন বিজ্ঞান ও বিষয় থেকে আহরণ ও সমন্বয় করে একে সমন্বিত সামাজিক বিজ্ঞান হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। পঞ্চমত, নৃবিজ্ঞান অতীতকে নিয়ে বেশি আগ্রহী, কিন্তু সমাজকর্মের আগ্রহ্য বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিকে। সমাজকর্ম অতীত ইতিহাস অধ্যয়ন করলেও বর্তমান ও ভবিষ্যতের কল্যাণ ও উন্নয়নে সচেষ্ট। ষষ্ঠত, নৃবিজ্ঞানে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে গবেষণা পরিচালনা করা হয়। সুতরাং এর গবেষণা পদ্ধতি প্রায়োগিক। অন্যদিকে, সমাজকর্মের গবেষণার ক্ষেত্রে প্রশ্নমালা ও পরীক্ষার উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়; তাই এটি বেশি নিয়মমাফিক। সপ্তমত, সমাজকর্ম হলো পদ্ধতিনির্ভর ব্যবহারিক বিজ্ঞান; নৃবিজ্ঞান তা নয়। পরিশেষে বলা যায়, নৃবিজ্ঞানের সাথে সমাজকর্মের সুস্পষ্ট বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।