ক.
ব্যক্তি সমাজ কর্মের অগ্রদূত বলা হয় ম্যারি রিচমন্ডকে।
খ.
সাধারণত স্বল্পোন্নত বা অনুন্নত দেশের জনসাধারণের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্য পরিচালিত সম্মিলিত প্রচেষ্টাই হল সমষ্টির উন্নয়ন। উন্নয়নশীল দেশসমূহে এবং উন্নত দেশের অনুন্নত এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং উন্নয়নের জন্য বর্তমান সমষ্টি উন্নয়ন পদ্ধতি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
গ.
উদ্দীপকে সমষ্টি সমাজকর্মের সমষ্টি উন্নয়নের পদ্ধতি অনুসরণে ইঙ্গিত রয়েছে। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো:
সমষ্টি সমাজকর্মের দুটি ভাগ। সমষ্টি উন্নয়ন এ সমষ্টি সংগঠন। সমষ্টি উন্নয়ন হলো স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের যৌথ ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন। সাধারণত অনুন্নত ও স্থবির জনসমষ্টির আত্মসামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের জন্য সমষ্টি উন্নয়ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। সমষ্টি উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ এবং উদ্যোগকে সম্ভাব্য সর্বোত্তম উপায়ে সমন্বিত করে এবং সমষ্টি সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। এটি একটি যৌথ ও সমন্বিত উন্নয়ন প্রক্রিয়া যেখানে সমাজ উন্নয়নমূলক সরকারি বা বেসরকারি সংস্থার সাথে জনগণের যৌথ প্রচেষ্টা চালানো দেখা যায়।
উদ্দীপকের শারমিন জাহান বেসরকারি সংস্থার পরিবর্তন প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। তার সংস্থা গ্রামীন এলাকায় নিরক্ষরত, বাল্যবিবা, যৌতুক প্রথা ইত্যাদিসহ বিভিন্ন গোঁড়ামী, অজ্ঞতা ও কুসংস্কার দূরীকরণে কাজ করেন। তার মতে এই এলাকা পরিবর্তন আনতে যৌথ ও সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন। উদ্দীপকে উল্লিখিত এলাকায় শুধুমাত্র কোন সংস্থা বা কোন মানুষজন চাইলেই এই সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। কেননা পুরো সমাজের মানুষ যখন সমষ্টিগতভাবে কোন একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হবে এবং সে অনুসারে সবাই মিলে কাজ করবে তখনই কেবল এই ধরনের পরিবর্তন সহজ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে সমষ্টি সমাজকর্মের সমষ্টি উন্নয়নের পদ্ধতি অনুসরণে ইঙ্গিত রয়েছে।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যাবলী সমাধানে সমষ্টি উন্নয়ন পদ্ধতি প্রয়োগ যথার্থ বলে মনে করি। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো :
সমষ্টি উন্নয়ন হলো স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের যৌথ ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন। উদ্দীপকে নিরক্ষরতা, বাল্যবিবাহ, যৌতুক প্রথা অর্থাৎ সমাজে বিরাজমান কুসংস্কার, কুপ্রথা, গোঁড়ামি ও অজ্ঞতা ইত্যাদি সমস্যার কথা বলা হয়েছে। এই ধরনের সমস্যা সমাধানের জন্য সমষ্টি উন্নয়ন পদ্ধতি যথাযথ হবে।
কোন একটি এলাকায় যদি বাল্যবিবাহের পরিমাণ অত্যাধিক হারে বেড়ে যায়, সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র কোন সংস্থা এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। কেননা একটি বিশাল এলাকায় খুব সহজেই এত বড় সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা কোনভাবেই সহজসাধ্য নয়। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে সংস্থাটির পাশাপাশি যদি অন্য জনগণ এগিয়ে আসে তাহলে খুব সহজেই এটি সমাধান করা যায়। যেমন সংস্থাটি যদি বাল্যবিবাহ কুফল সম্পর্কে এবং এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সমাজের সচেতন করে এবং একই সাথে যদি সেই সচেতনতা অনুসারে স্থানীয় পর্যায়ে সবাই এগিয়ে আসে তবেই সমস্যাটি সমাধান করা যাবে।
একইভাবেই কোন কুসংস্কার বা কুপ্রথার বিষয়ে সমাজের সবাই এগিয়ে আসলে তবেই সমস্যাটি সমাধান করা সম্ভব। একটি সমস্যায় সমাজের সবাই যখন সচেতন হয়ে উঠবে তখনই সমস্যাটি ধীরে ধীরে সমাধান হবে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে যদি সবাই এগিয়ে আসে তাহলে সমস্যাগুলো সবার সচেতনতার মধ্য দিয়েই সমাধানের পথ পেয়ে যাবে। কেননা শুধুমাত্র একটি সংস্থা চাইলেই এই সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারবে না। বরং স্থানীয় পর্যায়ে সবাই মিলিয়ে এগিয়ে আসলেই সমস্যাগুলোর আশু প্রতিকার পাওয়া যাবে।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যাবলী সমাধানে সমষ্টি উন্নয়ন পদ্ধতি প্রয়োগ যথার্থ।