ক.
ত্রি-সম্রাট লীগের সদস্য দেশগুলো হলো জার্মানি, রাশিয়া ও অস্ট্রিয়া।
খ.
উনবিংশ শতাব্দীর শেষে এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে জার্মান দার্শনিক, পণ্ডিত ও ঐতিহাসিকগণ এ কথা প্রচার করতে থাকেন যে জার্মানগণ হচ্ছে বিশুদ্ধ আর্য এবং বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতি। ক্রমে এ জাতীয়তাবাদী ধারণা ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, রাশিয়া প্রভৃতি দেশে ছড়িয়ে পড়ে। জার্মানরা জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য অস্ত্রের ভাষা প্রয়োগ করে। ইউরোপের রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার জাতিগত বিদ্বেষ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ অবস্থাকে উগ্র জাতীয়তাবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
গ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত ১০টি ইউনিয়নের নতুন জোট স্নায়ুযুদ্ধকালীন জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দেয়। উদ্দীপকের শ্যামপুর উপজেলার প্রভাবশালী ইউনিয়নের বিরোধের প্রেক্ষাপটে নিরপেক্ষ ও দুর্বল ইউনিয়নসমূহ নতুন জোট গঠন করে। তেমনি স্নায়ুযুদ্ধকালীন সময় যখন রুশ-মার্কিন ব্লকের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছিল এবং প্রত্যেকেই নিজ সমর্থক বাড়ানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল, সেই প্রেক্ষাপটে নব্য স্বাধীন ও নিরপেক্ষ দেশগুলো মিলে গড়ে তোলে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন। এ দেশগুলো কোনো পক্ষেই যোগ না দিয়ে নিরপেক্ষ থাকার নীতি গ্রহণ করে। 'কারও সাথে শত্রুতা নয়' এটি হয় এ জোটের মূলনীতি। ১৯৬১ সালে যুগোস্লাভিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে এটি গঠিত হয়। এ জোটটি সে সময় এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায়। এটি ছিল সে সময় এক সাহসী পদক্ষেপ।
অতএব বলা যায়, উদ্দীপকের ১০টি ইউনিয়নের নতুন জোট স্নায়ুযুদ্ধকালীন জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দেয়।
ঘ.
শ্যামপুর উপজেলার বিবদমান দুটি পক্ষের একদিকে ছিল ৪টি ইউনিয়ন এবং অপরপক্ষে ছিল ৬টি ইউনিয়ন। শক্তিশালী এ দুটি জোট সংগত কারণে নিজেদের শক্তি বাড়াতে সমর্থক বাড়াতে সচেষ্ট থাকার কথা। এসময় বাদবাকি ইউনিয়নের জোটের নিরপেক্ষ থাকার ঘোষণা দুই পক্ষকেই আঘাত করেছে- এ বিষয়ে সন্দেহ নেই।
জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন নামে যে জোটটি ১৯৬১ সালে গঠিত হয়েছিল তার কার্যকারিতা ও সফলতা বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়। এ জোটের একটি বড় সফলতা হলো এ জোট গঠনের ফলে স্নায়ুযুদ্ধ দুর্বল হয়ে যায়। কেননা শক্তি ও প্রভাব বিস্তারের যে প্রতিযোগিতা চলছিল তার পথ অনেকটাই রুদ্ধ হয়ে যায় এ জোট গঠনের ফলে। ফলে একসময় স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটে। আবার অপরপক্ষের মতে, NAM কার্যকর কোনো ভূমিকা পালন করতে পারেনি। কেননা ন্যামভুক্ত অনেক দেশ রুশ কিংবা মার্কিন ব্লকের সাথে চুক্তিবদ্ধ ছিল। এর ক্ষমতা ও কার্যাবলিও ছিল সীমিত। ফলে এর সফলতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন তারা। কিন্তু তারপরও বলা যায়, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন (NAM) ছিল সময়ের প্রয়োজনে দুর্বলের এক শক্ত ভাষা। এটি না থাকলে অনেক দেশই বিরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতো। সে অর্থে NAM সফল একটি সংস্থা। তেমনিভাবে শ্যামপুর উপজেলার নতুন নিরপেক্ষ জোটটিও NAM- এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমার বিশ্বাস।