ক.
সামাজিক স্তরবিন্যাস বলতে সমাজে বসবাসকারী মানুষের মর্যাদা অনুযায়ী স্তরবিভাগকে বোঝায় ।
খ.
চক্রকার মতবাদ বলতে সামাজিক পরিবর্তনের সেই তত্ত্বকে বোঝায়, যেটি অনুযায়ী সামাজিক ঘটনাসমূহের পুনরাবৃত্তি পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং পুনরাবৃত্তিমূলক ঘটনার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় থাকে।
চক্রকার মতবাদ অনুসারে প্রতিটি সভ্যতারই উৎপত্তি, বিকাশ ও ধ্বংসের পর্যায় রয়েছে এবং বিভিন্ন কারণে প্রতিটি সভ্যতায় এরূপ পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। যেমন— ইবনে খালদুনের মতে, সমাজ ঘড়ির কাঁটার ন্যায় চক্রাকারে পরিবর্তিত হয় এবং ১২০ বছর পর পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে আসে। ইবনে খালদুন ছাড়াও ভিলফ্রোডো প্যারেটো, পিতিরি সরোকিন প্রমুখ এ মতবাদের উল্লেখযোগ্য তাত্ত্বিক ।
গ.
উদ্দীপকে শিমু ও আরিফ যে সম্পর্কে আবদ্ধ যেটির নাম 'বিবাহ'।
বিবাহ হলো প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষের মধ্যে সামাজিক, ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় বন্ধন। পোলিশ সামাজিক নৃবিজ্ঞানী ম্যালিনোস্কির মতে, বিবাহ হচ্ছে একজন নারী ও একজন পুরুষের সন্তান-সন্ততি জন্মদান এবং লালন পালনের একটি চুক্তি বিশেষ। উদ্দীপকে দেখা যায়, শিমু ও আরিফ একটি চুক্তিবদ্ধ সম্পর্কে আবদ্ধ। এই চুক্তির একটি ধরনের প্রেক্ষিতে মা-বাবা তাদের সন্তানদের প্রতি অধিক স্নেহ ভালোবাসা প্রদান ও তাদেরকে. সুষ্ঠুভাবে লালন পালনের সুযোগ পায়। এ থেকে বোঝা যায়, আরিফ ও শিমু বিবাহ সম্পর্কে আবদ্ধ।
বর্তমান সভ্য সমাজে বিবাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত। বিবাহের মাধ্যমেই পরিবার গঠিত হয়। এটি যেকোনো মানবশিশুকে তার সমাজস্বীকৃত পিতা-মাতা পাওয়ার সুযোগ প্রদান করে । নবজাতক শিশুর লালন-পালন, শিক্ষা-দীক্ষা ও সামাজিকীকরণে বিবাহের গুরুত্ব অপরিসীম। বিবাহের আরেকটি সামাজিক তাৎপর্য হলো, এটি নর- নারীর জৈবিক চাহিদা পূরণ করে সমাজে শৃঙ্খলা আনয়নে সাহায্য করে । সমাজের স্থায়িত্ব ও সংহতি রক্ষার্থে বিবাহের গুরুত্ব অপরিসীম। বিবাহ নতুন সামাজিক সম্পর্ক সৃষ্টি করে। এর মাধ্যমে এক সমাজের সঙ্গে অন্য সমাজের নতুন সামাজিক সম্পর্কের বন্ধন গড়ে ওঠে। এছাড়া নর-নারীর মানসিক প্রবৃত্তির বিকাশ ও পূর্ণতা লাভের জন্য একে অপরের সান্নিধ্য লাভ একান্ত প্রয়োজন ।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লেখিত বিবাহের ধরনটি তথা 'একক বিবাহ' একমাত্র ধরন নয়— মন্তব্যটির সাথে আমি একমত ।
একজন পুরুষ ও একজন নারীর মধ্যে বিবাহ সংঘটিত হলে তাকে একক বিবাহ বলে। একক বিবাহই হলো সর্বজনস্বীকৃত এবং সর্বাধিক জনপ্রিয় ব্যবস্থা, যা সকল সভ্য সমাজেই স্বীকার ও সমর্থন করা হয়। এ থেকে বোঝা যায়, শিমু ও আরিফের বিবাহটি একক বিবাহ। কেননা এক্ষেত্রে একজন পুরুষ ও একজন মহিলার মধ্যে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। বিবাহের এ ধরনটি ছাড়াও পাত্র-পাত্রীর সংখ্যা, পরিচিত ও ইচ্ছার ভিত্তিতে বিবাহের আরও অনেক ধরন প্রচলিত রয়েছে।
একক বিবাহের বাইরে পাত্র-পাত্রীর সংখ্যার ভিত্তিতে বিবাহের আরও দুইটি ধরন হলো— বহু বিবাহ এবং গোষ্ঠীগত বিবাহ। একজন পুরুষের সাথে একাধিক মহিলা কিংবা একজন মহিলার সাথে একাধিক পুরুষের বিবাহ সংঘটিত হলে তাকে বহু বিবাহ বলে। অন্যদিকে, একাধিক পুরুষের সাথে একাধিক মহিলার বিবাহকে বহু বিবাহ বলে। পাত্র-পাত্রীর পরিচিতির ভিত্তিতে আবার বিবাহ চার প্রকার। যথা-লেভিরেট, সরোরেট, বিষম কাজিন বিবাহ ও সমান্তরাল কাজিন বিবাহ। একজন ব্যক্তি তার মৃত ভাইয়ের স্ত্রীকে বিবাহ করলে তাকে লেভিরেট বিবাহ বলে। আবার একজন ব্যক্তি যখন মৃত স্ত্রীর বোনকে বিবাহ করে তখন সেটি সরোরেট বিবাহ। এছাড়া, চাচাতো বা খালোতো ভাইবোনের মধ্যে বিবাহকে সমান্তরাল কাজিন বিবাহ এবং মামাতো ও ফুফাতো ভাইবোনের মধ্যে বিবাহকে বিষম কাজিন বিবাহ বলে। উল্লিখিত বিবাহসমূহ ছাড়াও পাত্রপাত্রীর ইচ্ছার ভিত্তিতে বন্দোবস্ত ও রোমান্টিক বিবাহ হতে দেখা যায় ।
উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকে উল্লেখিত একক বিবাহ ছাড়াও সমাজে বহু ধরনের বিবাহ পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে।