ক.
গ্রিক শব্দ $\text{Psyche}$ (সাইকি)-এর অর্থ হলো 'আত্মা' বা 'মন' $\text{(Soul}$ বা $\text{Mind)}$।
খ.
যে বিজ্ঞান মানব সমাজের উৎপত্তি, বিকাশ, কাঠামো, সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আচরণ নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত ও নিয়মতান্ত্রিক আলোচনা করে, তাকে সামাজিক বিজ্ঞান বা $\text{Social Science}$ বলে।
সহজ কথায়, সমাজ ও মানুষের বিজ্ঞানভিত্তিক অধ্যয়নই হলো সামাজিক বিজ্ঞান। মানুষের দলবদ্ধ জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে এটি কাজ করে। সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, মনোবিজ্ঞান এবং সমাজকর্ম সামাজিক বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত।
গ.
উদ্দীপকে শামসুল ইসলাম সাহেব যে বিষয়ে পাঠদান করেন সেটি হলো 'মনোবিজ্ঞান' বা $\text{Psychology}$। কারণ উদ্দীপকে বলা হয়েছে, তার বিষয়টি মানব আচরণের বিজ্ঞান যা মানসিক কার্যক্রম নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত অধ্যয়ন করে।
নিচে সমাজকর্মের সাথে মনোবিজ্ঞানের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা হলো:
সমাজকর্ম ও মনোবিজ্ঞান উভয় বিজ্ঞানেরই মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো মানুষ ও তার আচরণ। মনোবিজ্ঞান মানুষের মন, মানসিক প্রক্রিয়া ও আচরণের তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করে। অন্যদিকে সমাজকর্ম একটি প্রয়োগিক বিজ্ঞান, যা মনোবিজ্ঞানের প্রদত্ত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে মানুষের বিভিন্ন মনোসামাজিক সমস্যার সমাধান করে। সমাজকর্মের অন্যতম মৌলিক পদ্ধতি 'ব্যক্তি সমাজকর্ম' $\text{(Social Case Work)}-$এ সাহায্যার্থীর সমস্যা নির্ণয় ও সমাধানের ক্ষেত্রে সমাজকর্মীকে পুরোপুরি মনোবিজ্ঞানের জ্ঞানের ওপর নির্ভর করতে হয়। সাহায্যার্থীর প্রেষণা, আবেগ, ব্যক্তিত্ব, হতাশা ও মানসিক দ্বন্দ্ব বুঝতে মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান সমাজকর্মীর জন্য অপরিহার্য। এককথায়, মনোবিজ্ঞান মানুষের আচরণের তাত্ত্বিক জ্ঞান সরবরাহ করে এবং সমাজকর্ম সেই জ্ঞানের সাহায্যে মানুষের বাস্তব সমস্যার সমাধান করে।
ঘ.
উদ্দীপকে শরীফুল ইসলাম সাহেবের পাঠদানকৃত বিষয়টি হলো 'সমাজকর্ম' বা $\text{Social Work}$। কারণ সমাজকর্মের প্রধান আলোচ্য বিষয়ই হলো সমাজের মানুষ, তাদের বহুমুখী সমস্যা এবং সেগুলোর বিজ্ঞানভিত্তিক ও স্থায়ী সমাধান।
নিচে সমাজকর্মের পরিধি বা আওতা $\text{(Scope of Social Work)}$ বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সার্বিক কল্যাণ: সমাজকর্ম শুধু মানুষের অর্থনৈতিক বা বস্তুতান্ত্রিক উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে না, বরং মানুষের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিকসহ সকল দিকের সার্বিক কল্যাণ সাধন এর আওতাভুক্ত।
২. সকল শ্রেণির মানুষের কল্যাণ: প্রাচীন সমাজকল্যাণ শুধু দরিদ্র ও অসহায়দের নিয়ে কাজ করলেও, আধুনিক পেশাদার সমাজকর্ম জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের সকল স্তরের ও শ্রেণির মানুষের সমস্যা সমাধানে কাজ করে।
৩. পদ্ধতিগত প্রয়োগ: মানুষের জটিল সমস্যা সমাধানের জন্য সমাজকর্ম কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান দেয় না, বরং নিজস্ব তিনটি মৌলিক পদ্ধতি (ব্যক্তি, দল ও সমষ্টি সমাজকর্ম) এবং তিনটি সহায়ক পদ্ধতির (প্রশাসন, গবেষণা ও সামাজিক কার্যক্রম) মাধ্যমে বাস্তব সমাধান দেয়।
৪. বিশেষায়িত শাখা: আধুনিক জটিল সমাজের বহুমুখী সমস্যা মোকাবিলায় সমাজকর্মের পরিধি বর্তমানে অনেক বিস্তৃত হয়েছে। চিকিৎসা সমাজকর্ম, বিদ্যালয় সমাজকর্ম, শিল্প সমাজকর্ম, অপরাধী সংশোধন, শিশু ও নারী কল্যাণ, প্রবীণ কল্যাণ, পারিবারিক কাউন্সেলিং ইত্যাদি সমাজকর্মের বিশেষায়িত শাখা হিসেবে এর পরিধিকে ব্যাপকতা দান করেছে।
পরিশেষে বলা যায়, মানুষ ও তার সামাজিক পরিবেশের মধ্যে উদ্ভূত যেকোনো সমস্যা এবং তা মোকাবিলার আধুনিক প্রক্রিয়া সমাজকর্মের বিশাল পরিধির অন্তর্ভুক্ত। মানুষের জীবনের এমন কোনো দিক নেই যেখানে সমাজকর্মের বিচরণ নেই।