ক.
কৃষক তার আওতাধীন জমিতে কী কী শস্য, কী পরিমাণে এবং কোন পদ্ধতিতে উৎপাদন করবে সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এরকম সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী একককে কৃষি খামার বলে।
খ.
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সমুদ্রোপকূলবর্তী জেলাগুলোর নিম্নভূমিতে পরিকল্পিতভাবে চিংড়ি চাষ হচ্ছে। পূর্বে চিংড়ি চাষ কেবল জেলেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন তা অনেকের কাছেই আত্মকর্মসংস্থান, অর্থোপার্জন ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি সুন্দর উপায় বলে বিবেচিত হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে চিংড়ি খাদ্যপণ্য হিসেবে বেচা-কেনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চিংড়ি হিমায়িত খাদ্য হিসেবে রপ্তানি করা হয়। উভয়ক্ষেত্রেই চিংড়ি থেকে অর্থাগম হয়। চিংড়ি সাদা; তার মাধ্যমে এ অর্থাগম হয় বলে চিংড়িকে সাদা সোনা বলা হয়।
গ.
প্রদত্ত উদ্দীপকে তামাক চাষের পরিবর্তে ধান ও ভুট্টা আবাদের মাধ্যমে শস্য বহুমুখীকরণে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। উদ্দীপকের আলোকে শস্য বহুমুখীকরণের প্রভাব নিচে আলোচনা করা হলো-
১. বিভিন্ন শস্য জমি থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান আহরণ করে। তাই শস্য বহুমুখীকরণ করলে জমিস্থিত উপাদনের সদ্ব্যবহার ঘটে, যা জমির সামগ্রিক উর্বরতা অক্ষুণ্ণ রাখে। কাজেই শস্য উৎপাদন করলে জমির উর্বরতা সংরক্ষণ করা যাবে।
২. শস্য বহুমুখীকরণের ফলে একই জমিতে ভিন্ন ভিন্ন ফসল উৎপাদিত হলে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের ফসলের চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে।
৩. এ ধরনের চাষাবাদের ফলে কোনো কারণে একটি ফসলের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হলে কৃষক অন্য ফসল দ্বারা তা অনেকটাই পূরণ করতে পারবে। ফলে কৃষিতে ঝুঁকির মাত্রা কমবে।
৪. এ ধরনের ফসল উৎপাদন পদ্ধতি অনুসরণ করলে কৃষকরা সারা বছর ধরে কৃষিকাজে নিয়োজিত থাকতে পারবে। ফলে তাদের শ্রম ও সময়ের অপচয় হবে না।
৫. একের পর এক শস্য উৎপাদন হলে মোট উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ায় কৃষকদের আয় বাড়বে।
সুতরাং বলা যায়, শস্য বহুমুখীকরণে কৃষিক্ষেত্রে অনেক অনুকূল প্রভাব পড়বে।
ঘ.
উদ্দীপকটি থেকে জানা যায়, শিমুল সিলেটে থাকলেও প্রতি বছর রংপুরে তার দাদার বাড়িতে বেড়াতে যায়। এ বছর সেখানে যাওয়ার সময় সে লক্ষ করে রাস্তার ধারের যে জমিগুলোতে গত বছর তামাকের চাষ হয়েছিল, এ বছর সেখানে ধান ও ভুট্টার চাষ হয়েছে। শস্য চাষের পরিবর্তনের বিষয়টি তাকে যথেষ্ট আনন্দিত করে তোলে। শিমুলের এ আনন্দ লাভের কারণ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
প্রথমত, সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ সরকার দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য খাদ্যোৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশে কৃষিজমির পরিমাণ কম হওয়ায় সরকারের এ উদ্যোগ খুব একটা ফলপ্রসূ হচ্ছে না। এ অবস্থায় কৃষিজমিগুলোতে তামাক চাষের পরিবর্তে ধান ও ভুট্টার চাষ করলে খাদ্যোৎপাদনের জন্য কৃষিজমির বাড়তি চাহিদা কিছুটা হলেও পূরণ হবে। তখন অধিক ধান ও ভুট্টা চাষ হলে খাদ্য নিরাপত্তা অনেকটাই নিশ্চিত হবে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের সম্ভাবনায় শিক্ষিত ছেলে শিমুল আনন্দিত।
দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য সম্পূরক খাদ্যের যোগান বৃদ্ধি আবশ্যক। ভুট্টা একটি সম্পূরক জাতীয় খাদ্য। তাই তামাক চাষের পরিবর্তে ভুট্টা চাষ হলে তা দেশে সম্পূরক খাদ্যের যোগান বাড়িয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সহায়ক হবে। এমনটি ভেবে শিমুল আনন্দিত।
তৃতীয়ত, আজকাল পৃথিবীব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান চলছে, যাতে বাংলাদেশও অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। তামাক একটি মাদক জাতীয় পণ্য। তামাক পাতা দিয়ে তৈরি বিড়ি, সিগারেট, খৈনি, পানমশলা প্রভৃতি নিয়মিত সেবন করলে মানুষ প্রাণঘাতী ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে। তাই তামাক চাষের পরিবর্তে ধান ও ভুট্টা চাষ শিমুলকে আনন্দিত করে। সুতরাং, উপরিউল্লিখিত বিভিন্ন কারণে শিমুল তামাক চাষের পরিবর্তে ধান ও ভুট্টা চাষ করায় আনন্দ বোধ করে।