ক.
নেতৃত্বের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Leadership'।
খ.
রাজনৈতিক দল (Political party) হলো নীতি বা আদর্শের সমর্থনে সংগঠিত সংঘ বিশেষ, যা সাংবিধানিক উপায়ে সরকার গঠন ও পরিচালনার চেষ্টা করে।
আধুনিক গণতন্ত্র হলো পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র। আর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে জনগণ প্রতিনিধি নির্বাচন করে তাদের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে শাসন কাজে অংশগ্রহণ করে। এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় দলীয় ভিত্তিতে। তাই বর্তমান প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রকে 'দলীয় সরকার' বলা হয়। আর রাজনৈতিক দলই হলো প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ। রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্র ক্ষমতা গ্রহণ, পরিচালনা, নিজেদের নির্বাচনি কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সকল ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের মঙ্গলের জন্য কাজ করা।
গ.
শামীম সাহেব যে সংগঠনের সাথে যুক্ত তা একটি রাজনৈতিক দল। রাজনৈতিক দলের সংজ্ঞাগুলো বিশ্লেষণ এবং এর ধারণা থেকে রাজনৈতিক দলের কতগুলো বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায় শামীম সাহেব একজন আইনজীবী। তিনি এমন একটি জাতীয় সংগঠনের সাথে যুক্ত, যার সদস্যদের ব্যক্তিগত স্বার্থ আলাদা। তিনি মূলত রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত। কেননা রাজনৈতিক দলের প্রকৃতি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভূমিকা এবং এর সদস্যদের ব্যক্তিগত স্বার্থের মধ্যে ভিন্নতা থাকে।
রাজনৈতিক দল একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। এটি জনসাধারণকে সংঘবদ্ধ করে। এর সদ্যরা একই মতাদর্শে বিশ্বাসী। এ দলের সদস্যগণ জাতীয় স্বার্থে একমত পোষন করে বিভিন্ন কর্মসূচির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয়। রাজনৈতিক দল নিজ নিজ দলীয় স্বার্থ সংরক্ষণ করে এবং জনসমর্থন লাভ করে রাষ্ট্রক্ষমতা লাভের চেষ্টা করে। জনসমর্থনের জন্য রাজনৈতিক দল নির্দিষ্ট কর্মসূচির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত হয়। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নির্দিষ্ট আদর্শ বিদ্যমান থাকে। রাজনৈতিক দল জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে বৈধভাবে সরকার গঠন করে তাদের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে সচেষ্ট হয়। রাষ্ট্রক্ষমতা লাভের পর জনগণের সর্বাঙ্গীন কল্যাণ নিশ্চিত করা রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে গণ্য হয়। তাছাড়া সরকারের বিরোধী রাজনৈতিক দলকে ছায়া সরকার হিসেবে দেখা হয়। কেননা সরকারের কর্মকাণ্ডের গঠনমূলক সমালোচনা, স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ প্রভৃতি বিরোধী রাজনৈতিক দলই করে থাকে। সুতরাং বলা যায় রাজনৈতিক দল এমন একটি জনসমষ্টি যারা রাষ্ট্রীয় সমস্যা সমাধানের উপায় জনসম্মুখে প্রচারের মাধ্যমে জনসমর্থন লাভ করে এবং নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা দখল ও সরকার গঠন করে রাষ্ট্রের সর্বাধিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকে।
ঘ.
উদ্দীপকে বর্ণিত সংগঠন দুটির নাম রাজনৈতিক দল ও চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী। উভয়ের কিছু সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকের শামীম সাহেব এমন একটি জাতীয় সংগঠনের সাথে যুক্ত যার সদস্যদের ব্যক্তিগত স্বার্থ আলাদা। তিনি মূলত রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত। অন্যদিকে তার ব্যবসায়ী বন্ধু এমন একটি সংগঠনের সাথে যুক্ত যার সকল সদস্যের ব্যক্তিগত স্বার্থ একই। অর্থাৎ এটি একটি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী। এই চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে কিছু সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। যেমন- রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী উভয়ই স্বীয় আদর্শ ও নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। তাছাড়া উভয় দলই নির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য সংগঠিত হয়।
রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মধ্যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মিল থাকলেও উভয়ের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। উভয়ের মধ্যে উৎপত্তি, লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য এবং কর্মসূচির মধ্যে পার্থক্য লক্ষ করা যায়। রাজনৈতিক দলের সামনে বৃহৎ জাতীয় কল্যাণের লক্ষ্য থাকে, যা চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মধ্যে থাকে না। সাংগঠনিক দিক থেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী রাজনৈতিক দল অপেক্ষা দুর্বল। রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য হল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করা, কিন্তু চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করা। রাজনৈতিক দলের কাজকর্ম প্রকাশ্য ও প্রত্যক্ষ। কিন্তু চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কাজকর্ম সাধারণত গোপন বা অপ্রকাশ্য। আবার রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী তা করে না।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মধ্যে যেমন সাদৃশ্য রয়েছে, তেমিন অনেক ক্ষেত্রে বৈসাদৃশ্যও রয়েছে।