ক.
যুক্তিবাক্য হচ্ছে অনুমান প্রক্রিয়ার এমন একধরনের উপাদান, যা সর্বদা উদ্দেশ্য-বিধেয়রূপ দুটি পদের মধ্যকার স্বীকৃতিসূচক বা অস্বীকৃতিসূচক সম্পর্ককে ভাষার মধ্য দিয়ে প্রকাশ করে।
খ.
না, সকল শব্দকে পদ বলা যায় না। আমরা জানি, যে শব্দ কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয় তাকে পদ বলে। যেমন- 'ফুল হয় সুন্দর'। এ যুক্তিবাক্যে 'ফুল' ও 'সুন্দর' শব্দ দুটি যথাক্রমে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদ। কিন্তু, 'হয়' উদ্দেশ্য বা বিধেয় পদ না হওয়ায় এটি হলো শব্দ। তাই সকল পদকে শব্দ বলা গেলেও সকল শব্দকে পদ বলা যায় না।
গ.
উদ্দীপকে পদের ব্যক্ত্যর্থ (Denotation) ও জাত্যর্থের (Connotation) সম্পর্ক প্রতিফলিত হয়েছে।
ব্য্যর্থ ও জার্তথ্যের সম্পর্ককে চারভাগে বিভক্ত করা যায়।
১. ব্যক্ত্যর্থ বাড়লে জাত্যর্থ কমে।
মানুষ পদের ব্যক্ত্যর্থ হচ্ছে 'সকল মানুষ' এখন অন্যান্য প্রাণীকে এর সাথে যুক্ত করলে এর ব্যক্ত্যর্থ বেড়ে দাঁড়াবে সকল প্রাণী। কিন্তু এতে করে মানুষ পদের জাত্যর্থ জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি থেকে বুদ্ধিবৃত্তি বাদ পড়ে সকল প্রাণীর জাত্যর্থ দাঁড়াবে শুধু জীববৃত্তিতে। কারণ অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তি নেই।
২. ব্যক্ত্যর্থ কমলে জাত্যর্থ বাড়ে।
মানুষ শ্রেণি থেকে অসৎ মানুষদের বাদ দিলে এর সংখ্যা বা ব্যক্ত্যর্থ কমে দাঁড়াবে সকল সৎ মানুষ। মানুষের জাত্যর্থ জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তির সাথে আরেকটি জাত্যর্থ এসে যোগ হয়ে সকল সৎ মানুষের জাত্যর্থ হবে জীববৃত্তি + বুদ্ধিবৃত্তি + সততা। অর্থাৎ জাত্যর্থ বেড়ে যাবে। এতে, প্রমাণ করা গেল যে, ব্যক্ত্যর্থ কমলে জাত্যর্থ বাড়ে। ৩. জাত্যর্থ বাড়লে ব্যক্ত্যর্থ কমে।
মানুষ পদের জাত্যর্থ হচ্ছে জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি। এখন এর সাথে সততা যোগ করলে জাত্যর্থ দাঁড়াবে জীববৃত্তি বুদ্ধিবৃত্তি + সততা। ফলে এ তিনটি জাত্যর্থধারী পদের ব্যক্ত্যর্থ হবে সকল সৎ মানুষ। আর এতে করে মানুষ পদের ব্যক্ত্যর্থ কমে যাবে। কারণ এখানে অসৎ মানুষেরা বাদ পড়েছে। ফলে প্রমাণিত হলো যে, জাত্যর্থ বাড়লে ব্যক্ত্যর্থ কমে।
৪. জাত্যর্থ কমলে ব্যক্ত্যর্থ বাড়ে।
মানুষ পদের জাত্যর্থ জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি থেকে বুদ্ধিবৃত্তিকে বাদ দিলে এর জাত্যর্থ দাঁড়াবে কেবল জীববৃত্তি। এতে করে মানুষ পদের ব্যক্ত্যর্থ বেড়ে গিয়ে সকল মানুষ থেকে সকল প্রাণীতে দাঁড়াবে। কারণ জীববৃত্তি নামক গুণটি সকল প্রাণীতেই বর্তমান। আর সকল প্রাণীর সংখ্যা সকল মানুষের চেয়ে বেশি। সুতরাং এতে প্রমানিত হলো যে, জাত্যর্থ কমলে ব্যক্ত্যর্থ বাড়ে।
ঘ.
উক্ত ছকগুলোতে ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতমুখী হ্রাস-বৃদ্ধির যে সম্পর্ক ফুটেছে তা সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতমুখী হ্রাস বৃদ্ধির নিয়মটি গাণিতিক অনুপাতের বেলায় খাটে না। কারণ এ ধরনের বিপরীতমুখী হ্রাস-বৃদ্ধি সব ক্ষেত্রে একই অনুপাতে ঘটে না। ঠিক কতটা জাত্যর্থ বাড়লে কতটা ব্যক্ত্যর্থ কমবে এ সম্বন্ধে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। যেমন- মানুষ পদটির সাথে জ্ঞানী গুণটি যোগ করলে ব্যক্ত্যর্থ শতকরা ৯০ ভাগ কমে যায়। কিন্তু মানুষ পদটির সাথে শ্বেতবর্ণ গুণটি যোগ করলে ব্যক্ত্যর্থ শতকরা ৯০ ভাগের বদলে মাত্র ৬০ ভাগ কমে যায়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যক্ত্যর্থ বাড়ে কিন্তু জাত্যর্থ ঠিকই থেকে যায়। যেমন- একটি গ্রহে যদি হঠাৎ মানুষ আবিষ্কৃত হয় তবে এ যাবৎ আমরা মানুষের যে ব্যক্ত্যর্থ বা সংখ্যা জানি তা নতুন আবিষ্কারের মাধ্যমে বেড়ে যাবে কিন্তু জাত্যর্থ বা গুণ একই থেকে যাবে। একইভাবে কিছু ক্ষেত্রে জাত্যর্থ (গুণ) বাড়ে কিন্তু ব্যক্ত্যর্থ (পরিমাণ) ঠিকই থেকে যায়। যেমন- গবেষণা দ্বারা সোনার মধ্যে অতিরিক্ত গুণ আবিষ্কৃত হলো। এখানে জাত্যর্থ বাড়ল। কিন্তু ব্যস্ত্যর্থের পরিবর্তন হলে সেই পদটি সম্পূর্ণ নতুন পদে পরিণত হয়। ফলে নিয়মটি সেখানে খাটে না, যেমন- মানুষ পদের জাত্যর্থ কমিয়ে শুধুমাত্র জীববৃত্তি করলে, জীববৃত্তি গুণ সম্পন্ন পদটি হবে জীব। ফলে মানুষ পদটির অবসান ঘটবে।
সুতারাং উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক থাকলেও এই সম্পর্ক সর্বক্ষেত্রে সত্য বলা যায় না। কেবলমাত্র ক্রমিকভাবে সাজানো জাতিবাচক বা শ্রেণিবাচক পদের ক্ষেত্রেই সম্পর্কটি প্রযোজ্য হয়।