Facebook Pixel

শফিক একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে দু'টি ছাত্র সংগঠনের মারামারি বেঁধে গেলে শফিক মোবাইলে সেই দৃশ্য গোপনে ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সে দৃশ্যাবলি যাচাই করে প্রকৃত অপরাধীদের আটক করতে সক্ষম হয়। ক. ICT'র পূর্ণরূপ কী? খ. ইন্টারনেট বলতে কী বোঝায়? গ. শফিকের ভূমিকায় সরকারের কী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তুমি মনে কর? বর্ণনা করো। ঘ. উদ্দীপকের দ্বারা কী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তুমি মনে কর? রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে এটি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি- বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ সুশাসন

উৎস: Board Exam Question BB 2017

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ICT'র পূর্ণরূপ Information and Communication Technology খ. ইন্টারনেট হলো পৃথিবীজুড়ে বিস্তৃত অসংখ্য কম্পিউটারের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিরাট নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা। একে ইন্টারনেট নেটওয়ার্কও (Internet Network) বলা হয়। ১৯৬৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলস এর UCLA (University of California, Los Angeles) ল্যাবরেটরিতে ইন্টারনেটের সর্বপ্রথম যাত্রা শুরু হয়। ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, নোটবুক, ট্যাব, স্মার্টফোন ইত্যাদির মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয়। সাধারণত ইন্টারনেটে ব্রাউজিং করার ক্ষেত্রে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার, ফায়ারফক্স, অপেরা, গুগলক্রম ইত্যাদি অ্যাপলিকেশন সফ্টওয়্যার (Application Software) ব্যবহৃত হয়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী মানুষ ফলপ্রসূভাবে এবং সুলভে একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করতে পারছে। গ. উদ্দীপকের শফিকের ভূমিকায় নাগরিক ও সরকারের মধ্যকার সম্পর্কের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নাগরিক ও সরকারের মধ্যকার সম্পর্ককে C2G দ্বারা প্রকাশ করা হয়। C2G হলো Citizen to Government। C2G সম্পর্ক হলো সরকারের সাথে নাগরিকের যোগাযোগ করার একটি প্রক্রিয়া যাতে নাগরিকগণ তাদের মতামত প্রদান ও সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখতে পারে। নাগরিক ও সরকারের মধ্যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় ই-ফিডব্যাক একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ই-ফিডব্যাক হলো আইসিটির মাধ্যমে সরকারকে তার কাজ সম্পর্কে জনগণের প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রক্রিয়া। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অনলাইনের মাধ্যমে সরকারকে ফিডব্যাক দিতে সাহায্য করে। ফলে জনগণ দ্রুত ফিডব্যাক দিতে পারে। উদ্দীপকে দেখা যায়, একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে দুটি ছাত্র সংগঠনের মারামারি বেঁধে গেলে শফিক গোপনে সেই দৃশ্য ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সে দৃশ্যাবলি যাচাই করে প্রকৃত অপরাধীদের আটক করতে সক্ষম হয়। শফিকের উক্ত ভূমিকা অর্থাৎ আইসিটির মাধ্যমে সরকারকে নাগরিক কর্তৃক সহযোগিতা করার ফলে যেমন অপরাধী শনাক্ত করা সহজ হয়েছে, তেমনি নাগরিক ও সরকারের মধ্যকার সম্পর্কটিও বেশ জোরালো হয়েছে। সুতরাং উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের শফিকের ভূমিকায় নাগরিক ও সরকারের মধ্যকার সম্পর্কের বিষয়টি ফুটে উঠেছে এবং এই সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ই-গর্ভনেন্স। ঘ. উদ্দীপকের দ্বারা ই-গর্ভনেন্স প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে আমি মনে করি। একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য ই-গভর্নেন্স অত্যন্ত জরুরি। নিম্নে ই- গভর্নেন্সের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হলো- ১. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে: সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে ই-গভর্নেন্স অত্যাবশ্যক। ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থায় সরকারের সকল শাসন সংক্রান্ত বিষয় জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকে। ফলে কোথায় কী হচ্ছে, সরকার কী করছে তা জনগণ সহজেই জানতে ও বুঝাতে পারে। এজন্য ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থায় সরকার যা খুশি তাই করতে পারে না। সুতরাং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে ই-গভর্নেন্সের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। ২. দুর্নীতি রোধে: দুর্নীতি সুশাসনের বড় বাধা। দুর্নীতি বলতে বোঝায় অবৈধ উপায়ে কাউকে কোনো সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া। ই- গভর্নেন্সে দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। কেননা এই শাসন ব্যবস্থায় জনগণের সম্পৃক্ততা বেশি থাকে এবং জনগণ সচেতন থাকে। ফলে সরকারের কোনো সেক্টরে দুর্নীতি করার সুযোগ থাকে না। সুতরাং দুর্নীতি রোধে ই-গভর্নেন্সের প্রয়োজনীয়তা অত্যধিক। ৩. আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনে: ই-গভর্নেন্সের একটি বিশেষ দিক হলো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করা হয়। ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থায় আমলাদের পক্ষে গোপনে স্বার্থসিদ্ধি করা সম্ভব হয় না। সকল কর্মকাণ্ড সরকারের নখদর্পনে চলে আসে। ফলে আমলারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেন, যা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করে। আর এর জন্য মুখ্য ভূমিকা পালন করে ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থা। ৪. অর্থনৈতিক উন্নয়নে: অর্থনৈতিক উন্নয়নে ই-গভর্নেন্সের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক। এই শাসনব্যবস্থায় খুব সহজেই দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং অতনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হবে আর এই অর্থনৈতিক উন্নয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করে ই-গভর্নেন্স। ৫. সাম্য প্রতিষ্ঠায়: সাম্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ই- গভর্নেন্স। সাম্য অর্থ হলো সরকারি সুযোগ-সুবিধা সবার জন্য সমান। ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থায় ব্যক্তি তার যোগ্যতা অনুসারে সুযোগ- সুবিধা ভোগ করতে পারে আর এটি নিশ্চিত করে ই-গভর্নেন্স। এজন্য সাম্য প্রতিষ্ঠায় ই-গভর্নেন্সের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এছাড়াও বৈদেশিক সম্পর্ক উন্নয়ন, মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ, শাসনকার্যে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, তথ্যপ্রাপ্তির সহজলভ্যতাসহ প্রভৃতি কাজে ই-গর্ভনেন্সের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সুতরাং উল্লিখিত আলোচনার প্রেক্ষাপটে বলা যায়, রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে ই- গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenBarisal Board (2017)

শফিক একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে দু'টি ছাত্র সংগঠনের মারামারি বেঁধে গেলে শফিক মোবাইলে সেই দৃশ্য গোপনে ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সে দৃশ্যাবলি যাচাই করে প্রকৃত অপরাধীদের আটক করতে সক্ষম হয়।

ক.

ICT'র পূর্ণরূপ কী?

খ.

ইন্টারনেট বলতে কী বোঝায়?

গ.

শফিকের ভূমিকায় সরকারের কী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তুমি মনে কর? বর্ণনা করো।

ঘ.

উদ্দীপকের দ্বারা কী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তুমি মনে কর? রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে এটি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি- বিশ্লেষণ করো। 

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।