ক.
Sociology শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে।
খ.
সমাজের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ করার কারণে সমাজবিজ্ঞানকে সামাজিক সম্পর্কের বিজ্ঞানভিত্তিক পাঠ বলা হয়।
সমাজের মানুষের আচার-আচরণ, আদর্শ, মূল্যবোধ, কার্যাবলী, রীতি-নীতি কিভাবে পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে এবং কিভাবে এর চলমানতা বজায় থাকে ইত্যাদি নিয়ে অধ্যায়ন করতে গিয়ে পুরো সমাজের মধ্যেই অনুসন্ধান করতে হয়। তাই সমাজবিজ্ঞানকে সমাজের বিজ্ঞানভিত্তিক পাঠ বলা হয়।
গ.
শাপলার পঠিত বিষয়টি হলো সমাজবিজ্ঞান। নিম্নে উদ্দীপকের আলোকে সমাজবিজ্ঞানের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করা হলো :
উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পাশ্চাত্যের শিল্প বিপ্লব ও রাজনৈতিক, সামাজিক বিপ্লবের যুগে সমাজবিজ্ঞানের জন্ম। সমাজবিজ্ঞান এমন একটি শাস্ত্র যা সমাজের সামগ্রিক দিক নিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ, অনুসন্ধান ও আলোচনা করে। উদ্দীপকের শাপলা যে বিষয়ে ভর্তি হয়েছে সেটি অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পর সমাজ জীবনে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে তার প্রেক্ষাপটে উদ্ভব হয়েছে। এছাড়াও এই বিষয়টি সমাজে সামগ্রিক দিক নিয়ে আলোচনা করে। অর্থাৎ শাপলার পঠিত বিষয়টি হচ্ছে সমাজবিজ্ঞান।
সমাজ বিজ্ঞান মূলত সমাজের বিজ্ঞানভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ পাঠ। এটি সমাজের মানুষের আচার-আচরণ, আদর্শ-মূল্যবোধ, ব্যক্তি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সম্পর্কসহ গোটা সমাজকে বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে বিশ্লেষণ ও গবেষণা করে। এই ক্ষেত্রে সমাজ বিজ্ঞান তার বৈজ্ঞানিক চরিত্র বজায় রাখতে গিয়ে গবেষণার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ থাকে। তাই সামাজবিজ্ঞানকে মূল্যবোধ নিরপেক্ষ বিজ্ঞান হিসেবে ও গণ্য করা হয়।
প্রকৃতিগত দিক থেকে সমাজবিজ্ঞান কোন ব্যবহারিক বিজ্ঞান নয় বরং একটি তাত্ত্বিক বিজ্ঞান। সমাজবিজ্ঞান একই সাথে স্থিতিশীলতা ও গতিশীলতার বিজ্ঞান। এটি একদিকে যেমন পরিবার, শিক্ষা, ধর্ম, রাজনৈতিক, বিবাহ প্রভৃতি স্থায়ী প্রতিষ্ঠানের আলোচনা করে একই সাথে এই সকল সামাজিক প্রতিষ্ঠান কিভাবে কালের পরিক্রমায় পরিবর্তিত হচ্ছে তা নিয়েও আলোচনা করে।
ঘ.
মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে উক্ত বিষয় তথা সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অপরিহার্য। নিম্নে উক্তিটি বিশ্লেষণ করা হলো :
সমাজের পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞান ভিত্তিক পাঠ হচ্ছে সমাজবিজ্ঞান। সমাজে বসবাসরত মানুষের সাথে কিভাবে চলতে হবে, সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে এবং একতাবদ্ধ ভাবে থাকতে হবে তা সমাজবিজ্ঞান পাঠ করলে সহজে জানা যায়। আমাদের সমাজে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আছে। যেমন পরিবার, বিবাহ, রাষ্ট্র ইত্যাদি। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যাবলী সম্পর্কেও সমাজবিজ্ঞান গবেষণা ও পর্যালোচনা করে। সমাজ বিজ্ঞানের জ্ঞান ব্যবহার করে উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে মানুষের সম্পর্ক গড়ে তোলা যথেষ্ট সহায়ক।
সমাজ বিজ্ঞান শাস্ত্রে মূল্যবোধ, আবেগ, অনুভূতি ও স্বার্থ সম্পর্কে বিস্তারিত পাঠ করা হয়। আবার পাশাপাশি সমাজের জ্ঞাতিসম্পর্ক, অর্থনৈতিক অবস্থা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ধর্মীয় আচরণ, শিক্ষা প্রভৃতির বিস্তারিত ধারণা প্রদান করা হয়। সাধারণত মানুষের জন্ম গ্রহণের ফলে পরিবার এই তার প্রাথমিক সামাজিকীকরণ সম্পন্ন হয়। পরিবারের সদস্যদের সাথে তার সম্পর্ক এবং আচার-আচরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অপরিহার্য। আবার একই সাথে মূল্যবোধ চর্চার ক্ষেত্রেও এটি ভূমিকা পালন করে।
তাই বলা যায়, "মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অপরিহার্য।" উক্তিটি যথার্থ।