Facebook Pixel

শাপলা এমন একটি প্রত্নতাত্তিক স্থানে বেড়াতে গিয়েছিলো যেটি অষ্টম শতাব্দিতে নির্মিত হয়েছিলো। কোনো এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে এটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। পরবর্তীতে খনন কাজের মাধ্যমে নিদর্শনটির চার পাশে প্রশস্ত প্রাচীর এবং প্রাচীরের অভ্যন্তরে ১৭৭টি কক্ষ আবিষ্কৃত হয়। নিদর্শনটির মাঝখানে কেন্দ্রীয় মন্দির অবস্থিত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবেও উক্ত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটির যথেষ্ট সুনাম ছিলো। প্রাপ্ত বিভিন্ন নিদর্শন প্রমাণ করে যে, এখানে একাধিক ধর্মীয় সংস্কৃতির উন্মেষ ঘটেছিলো। ক. শীলাদেবীর ঘাট কী? খ. নব্য প্রস্তর যুগ 'নবোপলীয় বিপ্লব' নামে অভিহিত ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে বাংলাদেশের কোন প্রত্নতাত্তিক স্থানের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. বাংলাদেশের সভ্যতা ও সংস্কৃতি বিকাশে উক্ত স্থানটির ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি

উৎস: Board Exam Question Combined 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. শীলাদেবীর ঘাট হলো বগুড়ায় অবস্থিত প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন তথা মহাস্থানগড়ের নিকটবর্তী করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক স্থান, যা স্থানীয় লোককাহিনী ও কিংবদন্তি অনুসারে মহাস্থানগড়ের রাজা পরশুরামের বোন শীলাদেবীর নামানুসারে পরিচিত। খ. নব্য প্রস্তর যুগে মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ও মৌলিক পরিবর্তন সূচিত হয়েছিল বলে একে 'নবোপলীয় বিপ্লব' text(Neolithic Revolution) বলা হয়। এ যুগে মানুষ যাযাবর জীবন ছেড়ে খাদ্য সংগ্রহকারী থেকে খাদ্য উৎপাদনকারীতে পরিণত হয়। তারা কৃষিকাজ ও পশুপালন শুরু করে, স্থায়ী বসতি গড়ে তোলে, এবং পাথর ঘষে মসৃণ ও উন্নত হাতিয়ার তৈরি শেখে। জীবনযাত্রার এই রূপান্তর মানবসমাজকে স্থায়ী সভ্যতার দিকে ধাবিত করে, যা বিখ্যাত ঐতিহাসিক ভি. গর্ডন চাইল্ড 'বিপ্লব' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। গ. উদ্দীপকে বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলায় অবস্থিত বিশ্বখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাহাড়পুর সোমপুর মহাবিহার-এর কথা বলা হয়েছে। এর ঐতিহাসিক সত্যতা ও বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: ১. নির্মাণকাল ও প্রতিষ্ঠাতা: অষ্টম শতকের শেষের দিকে পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ধর্মপাল এই বৌদ্ধ বিহার ও মহাবিহারটি নির্মাণ করেছিলেন। ২. কাঠামো ও কক্ষ সংখ্যা: আধুনিক খননকাজের ফলে এর চার পাশে প্রশস্ত প্রাচীর এবং ভিক্ষুদের বসবাসের জন্য মোট ১৭৭টি কক্ষ বা প্রকোষ্ঠ আবিষ্কৃত হয়েছে। এর ঠিক মাঝখানে রয়েছে একটি সুবিশাল কেন্দ্রীয় মন্দির। ৩. শিক্ষা ও বহুধর্মীয় সংস্কৃতি: এটি কেবল একটি ধর্মীয় উপাসনালয় ছিল না, বরং এটি ছিল উচ্চশিক্ষার একটি আন্তর্জাতিক কেন্দ্র। এখানকার প্রাপ্ত নিদর্শন প্রমাণ করে যে এখানে বৌদ্ধধর্মের পাশাপাশি হিন্দু ও জৈন সংস্কৃতির প্রভাবও বিদ্যমান ছিল। ঘ. বাংলাদেশের সভ্যতা ও সংস্কৃতি বিকাশে পাহাড়পুর সোমপুর মহাবিহারের ভূমিকা অপরিসীম ও সুদূরপ্রসারী। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো: ১. শিক্ষার আন্তর্জাতিক কেন্দ্র ও জ্ঞানচর্চা: সোমপুর মহাবিহার প্রাচীন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল। এখানে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি দর্শন, জ্যোতির্বিজ্ঞান, চিকিৎসাবিদ্যা ও সাহিত্য চর্চা হতো। তিব্বত, চীন, সুমাত্রা ও জাভা থেকে দূর-দূরান্তের শিক্ষার্থীরা এখানে জ্ঞান অর্জনে আসতেন। বিখ্যাত বৌদ্ধ পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান দীর্ঘকাল এই মহাবিহারের সাথে যুক্ত ছিলেন। ২. স্থাপত্য ও শিল্পকলার উৎকর্ষ: পাহাড়পুরের কেন্দ্রীয় মন্দির ও সামগ্রিক স্থাপত্যরীতি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রাচীন স্থাপত্যশিল্পে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। বিশেষ করে এর ক্রুশাকৃতির (Cruciform) পরিকল্পনা পরবর্তীকালে মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়ার (যেমন: বোরোবুদুর মন্দির) স্থাপত্য নির্মাণে ব্যাপকভাবে অনুকরণ করা হয়েছিল। ৩. টেরাকোটা ও লোকশিল্পের বিকাশ: মহাবিহারের দেওয়ালগাত্রে পোড়ামাটির ফলক বা টেরাকোটা শিল্পকলার অপূর্ব নিদর্শন রয়েছে, যা তৎকালীন বাঙালি সমাজ, জীবজন্তু, লতাপাতা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার এক জীবন্ত দর্পণ। এটি আমাদের দেশীয় লোকশিল্প ও সংস্কৃতির শিকড়কে সমৃদ্ধ করেছে। ৪. অসাম্প্রদায়িক ও বহুসংস্কৃতির মেলবন্ধন: এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে বিভিন্ন ধর্মের দেব-দেবী ও প্রতীকের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে প্রাচীন বাংলায় এক সহনশীল, উদার ও বহুত্ববাদী সংস্কৃতির অস্তিত্ব ছিল। পরিশেষে বলা যায়, পাহাড়পুর সোমপুর মহাবিহার কেবল একটি প্রাচীন ইট-কাঠের ধ্বংসাবশেষ নয়, এটি বাঙালি জাতির মেধা, মনন, শিক্ষা এবং সমৃদ্ধ সভ্যতার এক গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক স্মারক।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCombined Board (2026)

শাপলা এমন একটি প্রত্নতাত্তিক স্থানে বেড়াতে গিয়েছিলো যেটি অষ্টম শতাব্দিতে নির্মিত হয়েছিলো। কোনো এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে এটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। পরবর্তীতে খনন কাজের মাধ্যমে নিদর্শনটির চার পাশে প্রশস্ত প্রাচীর এবং প্রাচীরের অভ্যন্তরে $১৭৭$টি কক্ষ আবিষ্কৃত হয়। নিদর্শনটির মাঝখানে কেন্দ্রীয় মন্দির অবস্থিত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবেও উক্ত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটির যথেষ্ট সুনাম ছিলো। প্রাপ্ত বিভিন্ন নিদর্শন প্রমাণ করে যে, এখানে একাধিক ধর্মীয় সংস্কৃতির উন্মেষ ঘটেছিলো।

ক.

শীলাদেবীর ঘাট কী?

খ.

নব্য প্রস্তর যুগ 'নবোপলীয় বিপ্লব' নামে অভিহিত ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকে বাংলাদেশের কোন প্রত্নতাত্তিক স্থানের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

বাংলাদেশের সভ্যতা ও সংস্কৃতি বিকাশে উক্ত স্থানটির ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।