ক.
উৎপত্তিগত অর্থে পদ বলতে বোঝায়, যা যুক্তিবাক্যের দুই প্রান্তে অবস্থান করে।
খ.
'মানুষ' শব্দটি একটি পদ, কারণ এটি দ্বারা একটি শ্রেণি (মানবজাতি) বোঝানো হয় এবং এটি যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। পদ হলো যে শব্দ বা শব্দগুচ্ছ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, বস্তু, গুণ বা শ্রেণিকে বোঝানো হয় এবং যা একটি যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ কারণেই 'মানুষ' শব্দটি পদ।
গ.
উদ্দীপকে সূর্যের উঠা-নামার সাথে শীতের তীব্রতা বাড়া-কমায় বিষয়টি পাঠ্যবইয়ের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের হ্রাসবৃদ্ধির সম্পর্ককে নির্দেশ করে।
প্রতিটি পদের অপরিহার্য দুটি দিক থাকে। এর একটি হলো ব্যক্ত্যর্থের দিক এবং অন্যটি হলো জাত্যর্থের দিক। ব্যক্ত্যর্থের দিক বলতে পদের পরিমাণগত দিককে বোঝায়। আর জাত্যর্থের দিক বলতে পদের গুণগত দিককে বোঝায়। পদের এ দুটি দিকের মধ্যে অপরিহার্য সম্পর্ক বিদ্যমান। তবে এদের মধ্যকার সম্পর্ক বিপরীতমুখী। এ বিপরীতমুখী সম্পর্কের চারটি দিক লক্ষ করা যায়। যথা-
১. কোনো পদের ব্যক্ত্যর্থ বৃদ্ধি পেলে তার জাত্যর্থ হ্রাস পায়।
যেমন- 'মানুষ' পদের ব্যক্ত্যর্থ বৃদ্ধি করে 'জীব' করা হলে জাত্যর্থ জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি থেকে হ্রাস পেয়ে কেবল 'জীববৃত্তি' হয়।
২. কোনো পদের ব্যক্ত্যর্থ হ্রাস পেলে তার জাত্যর্থ বৃদ্ধি পায়। যেমন- 'মানুষ' পদের ব্যক্ত্যর্থ হ্রাস করে 'শিক্ষিত মানুষ' করা হলে জাত্যর্থ বৃদ্ধি পেয়ে 'জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি' থেকে 'জীববৃত্তি' 'বুদ্ধিবৃত্তি' ও শিক্ষা' হয়।
৩. কোনো পদের জাত্যর্থ বৃদ্ধি পেলে তার ব্যক্ত্যর্থ হ্রাস পায়। যেমন- 'মানুষ' পদের জাত্যর্থ 'জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি' থেকে বৃদ্ধি পেয়ে 'জীববৃত্তি, বুদ্ধিবৃত্তি ও সততা হলে ব্যক্ত্যর্থ 'মানুষ' থেকে হ্রাস পেয়ে কেবল 'সৎ মানুষ' হয়।
৪. কোনো পদের জাত্যর্থ হ্রাস পেলে তার ব্যক্ত্যর্থ বৃদ্ধি পায়। যেমন- 'সৎ' মানুষ' পদের জাত্যর্থ 'জীববৃত্তি, বুদ্ধিবৃত্তি ও সততা' থেকে হ্রাস পেয়ে কেবল 'জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি' হলে ব্যক্ত্যর্থ বৃদ্ধি পেয়ে 'সৎ মানুষ' থেকে 'সকল মানুষ' হয়।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, কোনো পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের মধ্যে আবশ্যিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তবে এ সম্পর্ক অবশ্যই বিপরীতমুখী হয়। অর্থাৎ এদের একটির হ্রাস বা বৃদ্ধিতে অন্যটির বৃদ্ধি বা হ্রাস ঘটে।
ঘ.
যাউদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়টি হলো পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের হ্রাসবৃদ্ধির সম্পর্ক। তবে এর ব্যতিক্রম আছে। উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করা হলো-
১. কোনো পদকে ক্রমিকভাবে সাজানো না গেলে পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের হ্রাসবৃদ্ধির নিয়মটি কার্যকর হয় না। অর্থাৎ যে সকল পদকে জাতি-উপজাতি, শ্রেণি-উপশ্রেণি আকারে ক্রমিকভাবে সাজানো যায় না, সেসব ক্ষেত্রে ব্যক্ত্যর্থ জাত্যর্থের হ্রাসবৃদ্ধির নিয়মটি কার্যকর হয় না।
২. কোনো একক পদের ক্ষেত্রে ব্যস্তার্থ আত্যর্থের হ্রাসবৃদ্ধির নিয়মটি কার্যকর হয় না। কেননা কোনো পদের ব্যার্থ বা জাত্যর্থ বাড়িয়ে বা কমিয়ে দিলে সে পদটি পরিবর্তিত হয়ে নতুন পদের সৃষ্টি হয়।
৩. কোনো কোনো ক্ষেত্রে পদের ব্যস্ত্যর্থ বাড়তে পারে, কিন্তু জাত্যর্থ অপরিবর্তিত থাকে। যেমন- কোনো একটি নতুন গ্রহ আবিষ্কৃত হলে গ্রহের ব্যক্ত্যর্থ বাড়ে; কিন্তু জাত্যর্থ অপরিবর্তিত থাকে।
৪. কোনো পদের নতুন কোনো জাত্যর্থ আবিষ্কৃত হতে পারে; কিন্তু পদের ব্যক্ত্যর্থ পরিবর্তিত থাকে। যেমন- পানির মৌলিক গুণের ক্ষেত্রে নতুন কোনো গুণের সন্ধান পাওয়া গেলেও পানির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে।
৫. পদের ব্যক্তার্থ জাত্যর্থের হ্রাসবৃদ্ধির নিয়মটি গাণিতিক নিয়মের মতো আনুপাতিক হয় না। কেননা পদের ব্যস্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতক্রমে হ্রাসবৃদ্ধি ঘটলেও এর কোনো আনুপাতিক হার সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা যায় না।
পরিশেষে বলা যায়, পদের ব্য্যর্থ ও জাত্যর্থের হ্রাসবৃদ্ধির নিয়মটি অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর; কিন্তু সরুল ক্ষেত্রে কার্যকর নয়। অর্থাৎ পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের হ্রাসবৃদ্ধির নিয়মের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে।