Facebook Pixel

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, পরিবহন ও যোগাযোগ বাবদ ব্যয় এবং দুস্থ ও বয়স্ক ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ সরকারের সামগ্রিক ব্যয় উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে এসব ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকার একদিকে দেশের অভ্যন্তরে জনগণ, বাণিজ্যিক ব্যাংক, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করছে। অন্যদিকে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা ও রাষ্ট্র থেকেও ঋণ গ্রহণ করছে। ক. আবগারি শুল্ক কী? খ. সরকার আয় করে কেন? গ. উদ্দীপকের আলোকে সরকারি ব্যয়ের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে সরকারি ঋণের উৎস দুটোর মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা কর।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৯ঃ সরকারি অর্থব্যবস্থা

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত দ্রব্যের ওপর যে কর ধার্য করা হয় তাই আবগারি শুল্ক। খ. সরকারকে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনার জন্য অর্থ ব্যয় করতে হয়। প্রধানত দেশরক্ষা ও দেশ পরিচালনার জন্য সরকারকে ব্যয় করতে হয়। আর এসব ব্যয় করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করার জন্য সরকার আয় করে। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারি ব্যয়ের উদ্দেশ্যসমূহ হলো— শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, পরিবহন ও যোগাযোগ এবং সামাজিক নিরাপত্তা। নিচে এসব উদ্দেশ্যসমূহ ব্যাখ্যা করা হলো- ১. শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ : শিক্ষা সরকারি ব্যয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। অনেক দেশে বেসরকারি পর্যায়ে শিক্ষার ক্ষেত্রে যে সুযোগ-সুবিধা রয়েছে তা সমগ্র জনগণের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই বেসরকারি শিক্ষার পাশাপাশি পরিপূরক ব্যবস্থা হিসেবে সরকারি পর্যায়ে শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের জন্য সরকার প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। ২. স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ : দেশের জনগণের স্বাস্থ্যের উন্নয়নের জন্য সরকারকে হাসপাতাল, ডাক্তার, ওষুধ ও চিকিৎসা সেবা প্রদান, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ করতে হয়। এছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার রোধ করার জন্য সরকার পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। এসব কাজে সরকারের প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়। ৩. কর্মসংস্থান বৃদ্ধি : অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমূহে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নানারূপ কর্মসূচি বাস্তবায়নে অনেক অর্থ ব্যয় করে। ৪. পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন : উন্নত পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত। তাই এ খাতে সরকার প্রচুর অর্থ ব্যয় করে থাকে। ৫. সামাজিক নিরাপত্তা : আধুনিক বিশ্বের অনেক দেশেই সামাজিক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এ ব্যবস্থার মধ্যে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ, পেনশন, বয়স্ক ভাতা, বেকার ভাতা, গ্রাচুইটি (পারিতোষিক), যৌথ রিমা ইত্যাদির জন্য সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে থাকে। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারি ঋণের একটি হলো অভ্যন্তরীণ উৎস। কেননা সরকার দেশের অভ্যন্তরে জনগণ, বাণিজ্যিক ব্যাংক, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করেছে, যা ঋণের অভ্যন্তরীণ উৎস। আর অন্যটি হলো বৈদেশিক উৎস। কেননা বিদেশি সংস্থা ও রাষ্ট্র থেকেও ঋণ গ্রহণ করছে, যা সরকারি ঋণের বৈদেশিক উৎস। সরকার দেশি ঋণ সংগ্রহে জনগণকে স্বেচ্ছায় ঋণ প্রদানে উদ্বুদ্ধ করতে পারে অথবা বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ নিতে পারে। কিন্তু বৈদেশিক ঋণ প্রদানে কোনো দেশ বা সংস্থাকে বাধ্য করা যায় না। বৈদেশিক ঋণ বন্ধুপ্রতিম দেশসমূহ হতে আসে। এছাড়া বৈদেশিক সংস্থার শর্ত পূরণ হলে সংস্থা হতেও পাওয়া যায়। অভ্যন্তরীণ ঋণ সমাজের এক শ্রেণির হাত থেকে অর্থ অন্য শ্রেণির নিকট স্থানান্তরিত হয়। এর ফলে অভ্যন্তরীণ ঋণের কোনো আর্থিক ভার নেই। শুধু প্রকৃত ভার আছে। অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণের দ্বারা এক দেশের জনগণের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়, অন্য দেশের জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এ ঋণ পরিশোধে সমাজকে আর্থিক ও প্রকৃত ভার উভয়ই বহন করতে হয়। তাছাড়া অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধে সরকার নতুন কর আরোপ বা নতুন মুদ্রা ছাপাতে পারে। কিন্তু বৈদেশিক ঋণ কর বা ছাপানো নোট দ্বারা পরিশোধ করা যাবে না। বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা বা স্বর্ণ আবশ্যক। বাণিজ্য নীতির মাধ্যমে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা যায়। একদিকে অভ্যন্তরীণ ঋণ শর্তমুক্ত। বৈদেশিক ঋণ যথেষ্ট শর্তযুক্ত। অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করলে উচ্চ মূল্যের উপাদান ক্রয়, জাহাজ ভাড়া ইত্যাদি অর্থনৈতিক নির্দেশনামা মেনে চলতে হয়। অভ্যন্তরীণ ঋণ উন্নয়নের যেকোনো স্তরে ব্যবহার করা যায়। কিন্তু বৈদেশিক ঋণ বিশেষ খাতে ব্যয় করতে হয়। বৈদেশিক ঋণ ব্যবহারের ক্ষেত্র সুনির্দিষ্ট থাকে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, পরিবহন ও যোগাযোগ বাবদ ব্যয় এবং দুস্থ ও বয়স্ক ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ সরকারের সামগ্রিক ব্যয় উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে এসব ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকার একদিকে দেশের অভ্যন্তরে জনগণ, বাণিজ্যিক ব্যাংক, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করছে। অন্যদিকে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা ও রাষ্ট্র থেকেও ঋণ গ্রহণ করছে।

ক.

আবগারি শুল্ক কী?

খ.

সরকার আয় করে কেন?

গ.

উদ্দীপকের আলোকে সরকারি ব্যয়ের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে সরকারি ঋণের উৎস দুটোর মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'A' দেশের সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণের জন্য অর্থ ব্যয় করে। সরকার এ সমস্ত ব্যয় কেন্দ্রীয়ভাবে এবং স্থানীয় কর্ত...

'B' দেশের সরকার মেট্রোরেল , উড়াল সড়ক , টানেল এরূপ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ বিশ্বব্যাংক ...

“B” দেশের সরকারের আয়ের উৎস সমূহ : “B” দেশের সরকার জাতীয় আয় বৃদ্ধির জন্য প্রতিবছর ১-৩০ নভেম্বর জাতীয় আয়কর মেলা আয়োজ...

'D' দেশের সরকার দেশের দীর্ঘতম নদীর উপর সেতু নির্মাণের জন্য প্রথমে বিশ্ব ব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও বিভিন্ন দেশের সরকার...

'D' দেশের সরকারের আয়ের উৎসসমূহ নিম্নরূপ- উৎস ২০১৯ - ২০ আয় ( কোটি টাকা ) আয়কর ৭০ , ৫০১ . ৪৯ মূল্য সংযোজন কর ৮৬ , ০৯৭ . ৩৩...

NBR নিয়ন্ত্রিত কর হলো- i. আয় ও মুনাফার উপর কর ii. সম্পত্তি ও সম্পদ কর iii. যানবাহন কর নিচের কোনটি সঠিক?

NBR নিয়ন্ত্রিত কর হলো- i. আয় ও মুনাফার ওপর কর ii. সম্পত্তি ও সম্পদ কর iii. যানবাহন কর নিচের কোনটি সঠিক?

S ফার্মাসিটিক্যালস্ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ উৎপাদন করে তার ওপর সরকারকে ২০ কোটি টাকা কর দিল। এটি কোন ধরনের কর?

VAT এর পূর্ণরূপ কোনটি?

VAT কী?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।