ক.
SMS-এর পূর্ণরূপ হলো- Short Message Service
খ.
ই-সেবা বলতে সরকার কর্তৃক নাগরিকদের প্রদত্ত সেবাকে বোঝায়। ই-সেবায় মূলত তথ্যপ্রযুক্তির (ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন, রেডিও, টেলিভিশন) ব্যবহারের মাধ্যমে সরকার নাগরিকদের সেবা প্রদান করে। অর্থাৎ ই-সেবা দ্বারা সরকার জনগণের কাছে তাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা অত্যন্ত দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে করে জনগণ ও সরকারের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকে। ই-সেবার উদাহরণ হিসেবে অনলাইনে বিভিন্ন সরকারি দলিলপত্র প্রাপ্তির জন্য নাগরিকের আবেদনের বিষয়টি উল্লেখ করা যেতে পারে।
গ.
উদ্দীপকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ই-ড্যান্স ভিত্তিক প্রশাসন ব্যবস্থা বিদ্যমান। ই-গভর্ন্যান্স বলতে এমন এক ব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মধ্য দিয়ে সরকারের বিভিন্ন সেবা ও তথ্য জনগণ অতি সহজে তাৎক্ষণিকভাবে পেতে পারে। অন্যদিকে, জনগণের কোনো তথ্য, পরামর্শ বা সুপারিশও সরকার সহজে পেতে পারে। ই- গভর্ন্যান্স সরকারি তথ্যভান্ডারের সাথে জনগণকে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করে। এ ব্যবস্থায় তথ্য আদান-প্রদান কেবল সরকার ও নাগরিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না বরং সরকারের সাথে অন্য রাষ্ট্রের সরকারেরও যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদান হয়ে থাকে। উদ্দীপকে দেখা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে সাম্প্রতিককালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম থেকে শুরু করে পরীক্ষার ফরম পূরণ ও ফলাফল পেয়ে থাকে। শিক্ষকরাও বেতন ও অন্যান্য চাকরি সংক্রান্ত তথ্য সেবা গ্রহণ করে। ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপকৃত হচ্ছে। এরূপ প্রশাসন ব্যবস্থা দেখে সহযেই অনুমান করা যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ই-গভর্ন্যান্স ভিত্তিক। কেননা প্রশাসনের সকল ক্ষেত্রে সেখানে ডিজিটাল প্রযুক্তির' ছোয়া পরিলক্ষিত হয়েছে।
ঘ.
ই-গভর্ন্যান্স প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।
সরকারের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও কার্যক্রম এবং তথ্যাবলি সম্পর্কে নাগরিকরদের জানার সুযোগকেই বলা হয় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা।। অন্যদিকে প্রশাসনের কোনো কাজের ব্যাখ্যাদানের বাধ্যবাধকতা অর্থাৎ কৃত কোনো কাজের জন্য দায়বস্তুতার প্রতিশ্রুতি। এ দায়দায়িত্বের স্বীকারোক্তি হলো প্রশাসনিক জবাবদিহিতা। সরকারের এই প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে ই-গভর্ন্যান্সের ভূমিকা সর্বাধিক। সরকারি কর্মকান্ডের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে ই-গভর্ন্যান্সের ব্যাপক প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ই-গভর্ন্যান্স প্রক্রিয়ায় জনগণ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘরে বসেই সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ড, সেবা তথা তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জানতে পারে। এর ফলে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং অধিকতর দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ডিজিটাল প্রযুক্তির আলোকে প্রচলিত ই-গভর্ন্যান্স ব্যবস্থা জনগণের সামনে সরকারের সকল কার্যক্রমের চিত্র উন্মুক্ত করে রাখে। ফলে জনগণ যেকোনো বিষয়ে সম্যক অবগত থাকে। এর ফলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সুনিশ্চিত হয়।