ক.
যে বিদ্যা বৈধ যুক্তি (Valid Agement) থেকে অবৈধ যুক্তিকে (Invalid Argument) পৃথক করার পদ্ধতি ও নিয়মসমূহ নিয়ে আলোচনা করে তাকে যুক্তিবিদ্যা (Logic) বলে।
খ.
বিষয়বস্তুকে আদর্শ বা মানদণ্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করার কারণে যুক্তিবিদ্যাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয়।
যে বিজ্ঞান কোনো আদর্শ বা মানদণ্ডের আলোকে বিষয়বস্তু মূল্যায়ন করে তাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয়। যুক্তিবিদ্যার আদর্শ হলো ‘সত্যতা’। সত্যের আদর্শ অনুযায়ী যুক্তিবিদ্যা বৈধ যুক্তির নিয়মাবলি আবিষ্কার করে; এবং এইসব নিয়মের আলোকে সেগুলোর মূল্য নিরুপণ করে। 'তাই যুক্তিবিদ্যা যেহেতু আদর্শের ভিত্তিতে বিষয়বস্তুর মূল্যায়ন করে এই কারণে যুক্তিবিদ্যাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয়।
গ.
রায়হানের কথায় যুক্তিবিদ জে. এস. মিলের (১৮০৬-১৮৭৩) মন্তব্য প্রকাশ পেয়েছে।
অভিজ্ঞতাবাদী দার্শনিক যুক্তিবিদ মিল যুক্তিবিদ্যার সংজ্ঞায় বলেন, “যুক্তিবিদ্যা হচ্ছে বোধশক্তির যেসব ক্রিয়াপদ্ধতি সাক্ষ্য বিচারের জন্য অপরিহার্য তাদের বিজ্ঞান; জ্ঞাত সত্য থেকে অজ্ঞাত সত্যে উপনীত হবার পদ্ধতি এবং তার সহায়ক অন্যান্য বুদ্ধিমূলক ক্রিয়াসমূহ তাদের উভয়ের বিজ্ঞান।” অর্থাৎ তিনি যুক্তিবিদ্যাকে সঠিক নিয়ম-পদ্ধতি প্রণয়নের মাধ্যমে তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জনের একটি বিজ্ঞান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আবার, এ তাত্ত্বিক জ্ঞান ব্যবহারিক ক্ষেত্রে প্রয়োগের কলাকৌশলও শিক্ষা দেয় বলে অভিহিত করেছেন।
উদ্দীপকের রায়হান তার অপর সহপাঠী সাথিকে বলে, 'আজকের পড়ায় স্যার যা বললেন তাতে মনে হচ্ছে, যুক্তিবিদ্যা না পড়লে জ্ঞানের জগতে প্রবেশের শুরুটাই যথার্থ হবে না এবং কীভাবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোচনা করতে হয় তাও আমরা জানতে পারবো না।' তার এ বক্তব্যেও যুক্তিবিদ মিলের মতকে সমর্থন করে। কারণ মিলের সংজ্ঞায় জ্ঞানের জগতে প্রবেশের শুরুটা যথার্থ করতে কিছু নিয়ম-নীতির বিষয়ে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আবার, কীভাবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোচনা করতে হয় তার ব্যবহারিক দিকেরও উল্লেখ করা হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রায়হানের কথায় যুক্তিবিদ জে. এস. মিলের মন্তব্যই প্রকাশিত হয়েছে।
ঘ.
যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ ব্যাখ্যায় সাথির কথাটি যথার্থ।
যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ বা বৈশিষ্ট্য হলো, একইসাথে এটি বিজ্ঞান ও কলা। প্রকৃতির কোনো বিভাগ সম্বন্ধে সুনির্দিষ্ট জ্ঞানকে বিজ্ঞান বলে। বিজ্ঞান সাধারণত নিয়মাবলির তত্ত্বগত জ্ঞান দান করে। যেমন- পদার্থবিজ্ঞান । আর কলাবিদ্যা এ তত্ত্বগত জ্ঞান বাস্তবক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে শেখায়। অর্থাৎ বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আমাদের বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকে বাস্তবক্ষেত্রে প্রয়োগ করার প্রয়োজনীয় নিয়মাবলি শিক্ষা দেয়। যেমন— নৌবিদ্যা শেখায় কীভাবে নৌযান পরিচালনা করতে হবে। শৈল্য চিকিৎসাবিদ্যা শেখায় কীভাবে অস্ত্রোপচার করতে হবে। একইভাবে যুক্তিবিদ্যাও বিজ্ঞান হিসেবে বৈধ যুক্তি থেকে অবৈধ যুক্তির পার্থক্য নির্দেশ করার জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়মনীতি প্রণয়ন করে এবং কলা হিসেবে তা বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগের শিক্ষা দেয়।
উদ্দীপকের সাথি তার সহপাঠী রায়হানের কথায় একমত হয়ে বললো, স্যারের কথায় মনে হচ্ছে যুক্তিবিদ্যায় যেমন বিভিন্ন তাত্ত্বিক বিষয় আছে, তেমনি সেগুলো প্রয়োগের কৌশলও রয়েছে। যা একইসাথে যুক্তিবিদ্যার তাত্ত্বিক বা বিজ্ঞান ও কলা বা ব্যবহারিক দিকটিকে নির্দেশ করে । আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের সাথির বক্তব্যে যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞান ও কলা উভয় প্রকার স্বরূপ বা বৈশিষ্ট্যের পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ ঘটেছে।