ক.
প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভর করে যে আরোহ অনুমান বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সার্বিক সংশ্লেষণ সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করে তাকে বৈজ্ঞানিক আরোহ বলে।
খ.
প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভর করে বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়। অন্যদিকে, অবৈজ্ঞানিক আরোহ শুধুমাত্র প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ আরোহে কার্যকারণ নিয়মের কোনো স্থান নেই। বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠার সময় অনুকূল ও প্রতিকূল উভয় প্রকার দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষ করা হয়। অন্যদিকে, অবৈজ্ঞানিক আরোহের ক্ষেত্রে কেবল অনুকূল দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষ করা হয়।
গ.
উদ্দীপকে শিক্ষকের বক্তব্যটি প্রকৃত আরোহকে নির্দেশ করেছে। যেসব আরোহ অনুমানে জ্ঞাত থেকে অজ্ঞাতে উত্তরণ এবং 'আরোহমূলক লম্ফ' উপস্থিত তাকে প্রকৃত আরোহ বলে। উদ্দীপকে শিক্ষক ক্লাসে ছাত্রদের মানুষের সাথে অন্যান্য প্রাণীর স্নায়ুতন্ত্র, ফুসফুস, ইন্দ্রিয় বিষয়ে তুলনা করে বলেন, মানুষ যেমন আঘাত পেলে ব্যথা অনুভব করে অন্যান্য প্রাণীও আঘাত পেলে ব্যথা অনুভব করে, যা প্রকৃত আরোহের প্রকারভেদ সাদৃশ্যানুমানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যেহেতু সাদৃশ্যানুমান এক প্রকার প্রকৃত আরোহ, তাই বলা যায় উদ্দীপকে শিক্ষকের বক্তব্যটি আরোহ অনুমানের প্রকৃত আরোহকে নির্দেশ করছে।
ঘ.
উদ্দীপকে বর্ণিত শিক্ষকের বক্তব্যটি সাধু সাদৃশ্যানুমান ও রবিউলের বক্তব্যটি অসাধু সাদৃশ্যানুমানকে নির্দেশ করছে। নিম্নে এ দুই প্রকার সাদৃশ্যানুমানের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো-
১. যে সাদৃশ্যানুমানে মৌলিক, গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে সাধু সাদৃশ্যানুমান বলে। অপরপক্ষে, যে সাদৃশ্যানুমানে অমৌলিক, বাহ্যিক ও অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের সাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে অসাধু সাদৃশ্যানুমান বলে।
২. সাধু সাদৃশ্যানুমানে বৈসাদৃশ্যের চেয়ে সাদৃশ্যের সংখ্যা বেশি থাকে। অর্থাৎ, সাধু সাদৃশ্যানুমানে যে দুটি বিষয়ের মধ্যে সাদৃশ্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় সেখানে সাদৃশ্যের চেয়ে বৈসাদৃশ্যের সংখ্যা কম হয়। অন্যদিকে, অসাধু সাদৃশ্যানুমানে সাদৃশ্যের চেয়ে বৈসাদৃশ্য ও অজ্ঞাত বিষয়ের সংখ্যা বেশি হয়ে থাকে।
৩. সাধু সাদৃশ্যানুমানে কার্যকারণ সম্পর্কের একটি সম্ভাবনা থাকে। কারণ এখানে মৌলিক, গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক সাদৃশ্যগুলো অনেক সময় আবশ্যিক সম্পর্কে সম্পর্কযুক্ত হতে পারে। অন্যদিকে, অসাধু সাদৃশ্যানুমানে কার্যকারণ সম্পর্কের কোনো সম্ভাবনা থাকে না। কেননা কোনো অমৌলিক, বাহ্যিক ও অপ্রাসঙ্গিক বিষয় কার্যকারণ সম্পর্কে সম্পর্কযুক্ত হতে পারে না।
৪. সাধু সাদৃশ্যমূলক অনুমানের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ বিধায় এর সিদ্ধান্ত অধিক সম্ভাব্য এমনকি নিশ্চিতও হতে পারে। অন্যদিকে, অসাধু সাদৃশ্যানুমানের ক্ষেত্রে অমৌলিক, বাহ্যিক ও অপ্রাসঙ্গিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় বিধায় এ প্রকার সাদৃশ্যানুমান একটি ভ্রান্ত প্রক্রিয়া।
পরিশেষে বলা যায়, সাধু ও অসাধু সাদৃশ্যানুমানের মধ্যে বিভিন্ন দিক দিয়ে পার্থক্য রয়েছে। তবে উভয় প্রকার সাদৃশ্যানুমানের মধ্যে সাধু সাদৃশ্যানুমানের মধ্যে অনেক মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে। তাই সাধু সাদৃশ্যানুমানই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।