ক.
যে বিদ্যা বৈধ যুক্তি (Valid Argument) থেকে অবৈধ যুক্তিকে (Invalid Argument) পৃথক করার পদ্ধতি ও নিয়মসমূহ নিয়ে আলোচনা করে তাকে যুক্তিবিদ্যা (Logic) বলে।
খ.
বিষয়বস্তুকে আদর্শ বা মানদণ্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করার কারণে যুক্তিবিদ্যাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয়।
যে, বিজ্ঞান কোনো আদর্শ বা মানদণ্ডের আলোকে বিষয়বস্তু মূল্যায়ন করে তাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয়। যুক্তিবিদ্যার আদর্শ হলো সত্যতা'। সত্যের আদর্শ অনুযায়ী যুক্তিবিদ্যা বৈধ যুক্তির নিয়মাবলি আবিষ্কার করে এবং এইসব নিয়মের আলোকে সেগুলোর মূল্য নিরুপণ করে। তাই যুক্তিবিদ্যা যেহেতু আদর্শের ভিত্তিতে বিষয়বস্তুর মূল্যায়ন করে এই কারণে যুক্তিবিদ্যাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয়।
গ.
উদ্দীপকের মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যা নির্দেশিত হয়েছে। আর যুক্তিবিদ্যাকে এরিস্টটল চিন্তার বিজ্ঞান বলে অভিহিত করেছেন।
উদ্দীপকের শিক্ষক এমন একটি বিষয়ের কথা বলেছেন যেটি তাত্ত্বিক এবং ব্যাবহারিক। তাছাড়া বিষয়টি সত্য আবিষ্কারে সবচেয়ে সহায়ক, এটি সব ধরনের কুসংস্কার দূর করে এবং এটি জ্ঞানের স্বতন্ত্র শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এই বিষয়টির মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যা নির্দেশিত হয়েছে। আর যুক্তিবিদ্যাকে এরিস্টটল চিন্তার বিজ্ঞান বলে অভিহিত করেছেন। এরিস্টটলের মতে, চিন্তার আকার ও উপাত্ত নিয়ে আলোচনা করা যুক্তিবিদ্যার কাজ। তাই সঠিকভাবে চিন্তা করতে না পারলে যথার্থ জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই চিন্তাকে সঠিক করার জন্য একটি স্বতন্ত্র বিদ্যা বা বিজ্ঞান প্রয়োজন । যুক্তিবিদ্যা হলো চিন্তাকে সুশৃঙ্খল করার বিদ্যা। তাই এরিস্টটল যুক্তিবিদ্যাকে চিন্তার বিজ্ঞান বলে অভিহিত করেছেন।
এরিস্টটল যুক্তিবিদ্যাকে একটি কলাবিদ্যা বলেও মনে করেন । তার মতে, কলাবিদ্যা বস্তুর সত্তার মধ্যে পরিবর্তন ঘটায়। এভাবে যুক্তিবিদ্যা সম্পর্কে গঠনমূলক পাঠপ্রক্রিয়া সূচনার কারণে এরিস্টটলকে যুক্তিবিদ্যার জনক বলা হয়।
ঘ.
উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়টি হলো যুক্তিবিদ্যা। আর যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, যুক্তিবিদ্যা একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান ও কলা।
যুক্তিবিদ্যার স্বরূপের দিক থেকে হ্যামিলটন, টমসন, ম্যানসেল প্রমুখ যুক্তিবিদ যুক্তিবিদ্যাকে বিজ্ঞান হিসেবে অভিহিত করেছেন। কারণ বিজ্ঞানের মতোই যুক্তিবিদ্যার নির্দিষ্ট আলোচ্য বিষয় রয়েছে এবং এই আলোচ্য বিষয় সুশৃঙ্খল। আর যুক্তিবিদ্যার কাজ হলো যথার্থ যুক্তি পদ্ধতির নিয়মকানুন সম্বন্ধে জ্ঞান দান করা। আবার যুক্তিবিদ অ্যালড্রিচের মতো অনেকেই যুক্তিবিদ্যাকে ব্যবহারিক দিক থেকে কলা বলে অভিহিত করেছেন। কেননা যুক্তিবিদ্যার প্রয়োগ বা ব্যবহারিক দিক রয়েছে। কলাবিদ্যার মতো যুক্তিবিদ্যা যুক্তিপদ্ধতির নিয়মাবলিকে বাস্তবে প্রয়োগ ও ব্যবহার করার শিক্ষা দেয়। এ কারণে যুক্তিবিদ্যা বিজ্ঞান ও কলাবিদ্যা উভয়ই।
যুক্তিবিদ্যা হলো আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান। সত্যের আদর্শ অনুযায়ী যুক্তিবিদ্যা বৈধ যুক্তির নিয়মাবলি আবিষ্কার করে এবং এইসব নিয়মের আলোকে সেগুলোর মূল্য নিরূপণ করে। সমকালীন যুক্তিবিদরা যুক্তিবিদ্যাকে একটি আকারগত বিজ্ঞান বলে অভিহিত করেছেন। কিন্তু যুক্তিবিদ যোসেফ এর মতে, যুক্তিবিদ্যা একইসাথে আকারগত ও বস্তুগত বিজ্ঞান। কেননা যুক্তিবিদ্যা চিন্তার আকার নিয়ে আলোচনা করে ঠিকই কিন্তু চিন্তার উপাদানকে বাদ দিয়ে নয়।
পরিশেষে বলা যায়, যুক্তিবিদ্যা একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান হিসেবে বৈধ যুক্তির নিয়মাবলি সম্পর্কে জ্ঞান দান করে এবং যুক্তির নিয়মাবলি বাস্তবে সঠিকভাবে প্রয়োগের কলাকৌশলও দান করে। তাই স্বরূপের দিক থেকে যুক্তিবিদ্যা কলা ও বিজ্ঞান উভয়ই।