ক.
যে যন্ত্র ভিন্নধর্মী প্রটোকলবিশিষ্ট নেটওয়ার্কের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য ব্যবহৃত হয় সেটিই হচ্ছে গেটওয়ে।
খ.
'লাইন অব সাইট' বিশিষ্ট্য ইলেকট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গটি হলো মাইক্রোওয়েভ। মোটামুটিভাবে। গিগাহার্টজ হতে 100 গিগাহার্টজের ভিতরে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডকেই মাইক্রোওয়েভ বলে। এ ধরনের ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভসাধারণত 2 গিগাহার্টজ বা তার অধিক ফ্রিকোয়েন্সিতে ডেটা ট্রান্সমিট করতে পারে। এটি রেডিও ওয়েভের মতো চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে না, সোজাসুজি যায়। তাই এই কমিউনিকেশনের জন্য ট্রান্সমিটার এন্টেনা ও রিসিভার এন্টেনাকে মুখোমুখি থাকতে হয় বা সংযোগ লাইন অব সাইট (LOS: Line of site) অবলম্বন করতে হয়।
গ.
উদ্দীপকে শিক্ষক যেই অসম বিরতিতে ডেটা ট্রান্সমিশনের ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করলেন তা হলো মূলত অ্যাসিনক্রোনাস ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড। নিচে এই ট্রান্সমিশন মেথডটি ব্যাখ্যা করা হলো-

অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনে একটি ক্যারেক্টার ট্রান্সমিট হওয়ার পর আরেকটি ক্যারেক্টার ট্রান্সমিট হওয়ার মধ্যবর্তী বিরতির সময় সমান না হয়ে ভিন্ন ভিন্নও হতে পারে। যেমন- কীবোর্ড দ্বারা ব্যবহারকারীর ডেটা এন্ট্রির গতি কখনো এক রকম হয় না। প্রতিটি ক্যারেক্টারের শুরুতে একটি স্টার্ট বিট এবং শেষে একটি অথবা দুটি স্টপ বিট ট্রান্সমিট করা হয়। প্রেরক যেকোনো সময় ডেটা ট্রান্সমিট করতে পারবে এবং গ্রাহক তা তাৎক্ষণিক গ্রহণ করতে পারবে। যেমন- যখন কীবোর্ডের কী-তে চাপ দেওয়া হয় তখন প্রসেসর তা গ্রহণ করে এবং মনিটরে প্রদর্শিত হয়। যখন প্রয়োজন তখন ডেটা প্রেরণ করা যায় বলে এই ক্ষেত্রে প্রাইমারি স্টোরেজ ডিভাইসের প্রয়োজন হয় না।
ঘ.
পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরিচালিত যে সেবাটি সম্পর্কে শিক্ষক বললেন তা হলো ক্লাউড কম্পিউটিং।
ক্লাউড কম্পিউটিং হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে কম্পিউটিং সেবা যেমন-সার্ভার, ডেটাবেজ, নেটওয়ার্কিং এবং সফটওয়্যার ব্যবহারের একটি বিশেষ প্রযুক্তি। একজন নতুন উদ্যোক্তার জন্য ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড়ো বাধা হলো বিশাল অঙ্কের প্রাথমিক পুঁজি। ক্লাউড কম্পিউটিং এই বাধা অনেকটাই দূর করে একজন উদ্যোক্তাকে কোনো বড়ো ধরনের প্রযুক্তিভিত্তিক হার্ডওয়্যার বা অবকাঠামো না কিনেই ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দেয়। নিচে এর কয়েকটি দিক
সম্পর্কে উল্লেখ করা হলো-
খরচ হ্রাস: এই প্রযুক্তির ব্যবহারে উদ্যোক্তাদের নিজস্ব সার্ভার বা ডেটা সেন্টার স্থাপনের প্রয়োজন হয় না। ক্লাউডের মাধ্যমে তারা সার্ভার ভাড়া নেয় এবং যতটুকু সেবা গ্রহণ করে কেবল ততটুকুই অর্থ প্রদান করে। এটি ব্যবসা পরিচালনার খরচ অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
সহজ রক্ষণাবেক্ষণ: এই সেবায় হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যার আপডেট করার দায়িত্ব থাকে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের। ফলে উদ্যোক্তারা কারিগরি জটিলতা নিয়ে চিন্তা না করে মূল ব্যবসায় মনোনিবেশ করতে পারে।
স্কেলেবিলিটি: ব্যবসার পরিধি বাড়লে প্রয়োজনমতো যখন খুশি ক্লাউড সেবার পরিমাণ বা মাত্রা বাড়িয়ে নেওয়া যায়। আবার প্রয়োজনমতো সেবা কমিয়েও নেওয়া যায়।
সহজ প্রবেশযোগ্যতা: ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে যখন খুশি ব্যবসার তথ্য বা ডেটা অ্যাক্সেস করা যায়, যা রিমোট কাজের সুবিধা প্রদান করে।
পরিশেষে বলা যায়, বিপুল বিনিয়োগের ঝুঁকি কমিয়ে ঝামেলাহীন ও দ্রুত ব্যবসায়ীক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ করে দেয় বলেই ক্লাউড কম্পিউটিং বর্তমান যুগের নতুন উদ্যোক্তাদের কাছে একটি আশীর্বাদস্বরূপ।