ক.
সমাজবিজ্ঞানের জনক অগাস্ট কোঁৎ 'Sociology' শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন।
খ.
সাধারণভাবে জনসংখ্যার আকার, গঠন এবং স্থানিক বণ্টনের গাণিতিক ও পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ বা জনসংখ্যা সম্পর্কিত আলোচনা করা হয় যে বিজ্ঞানে তাকে জনবিজ্ঞান বলে। অন্যভাবে বলা যায়, জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান চাপ এবং এর সঠিক নিয়ন্ত্রণের পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক বিজ্ঞানের যে শাখাটি জনসংখ্যাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন চলক সম্পর্কে বাস্তবসম্মত অধ্যয়ন ও অনুসন্ধান করে তাকে জনবিজ্ঞান বলে। ১৯৫৫ সালে এ. গ্যুইলার (Achille Guillard ) জনবিজ্ঞান বা Demography প্রত্যয়টি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন।
গ.
উদ্দীপকের শাওন নৃবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করছে।
সামাজিক বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নৃবিজ্ঞান। নৃবিজ্ঞান মূলত মানব সম্বন্ধীয় বিজ্ঞান। এ বিজ্ঞানের সাহায্যে মানুষের অতীতকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিবর্তনের ধারাকে পর্যালোচনা করা হয়। মানুষের জন্ম পরিচয়, জন্ম ইতিহাস, সংস্কৃতি, পরিবার, রাষ্ট্র, ধর্ম, প্রভৃতি প্রথা ও প্রতিষ্ঠানের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ নিয়েই সাধারণত নৃবিজ্ঞানের পথচলা। উদ্দীপকে উল্লিখিত শাওনের পঠিত বিষয়টি মানুষের জন্ম পরিচয়, জন্ম ইতিহাস, মানুষের দৈহিক গঠন, পরিবার, ধর্ম, সংস্কৃতি ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে।
উপরিউক্ত আলোচনায় দেখা যায়, নৃবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়ের সাথে শাওনের আলোচ্য বিষয়ের মিল রয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে শাওন নৃবিজ্ঞান বিষয় নিয়ে পড়ছে।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত শাহরিয়ারের পঠিত বিষয়টি ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তাদের নিজস্ব সম্পদ ও সামর্থ্য ব্যবহারের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে তাদেরকে স্বাবলম্বী করে তুলতে প্রচেষ্টা চালায়। সমাজকর্মও অনুরূপ লক্ষ্যে কাজ করে তাই বলা যায়, শাহরিয়ার সমাজকর্ম বিষয়ে পড়াশোনা করছে। অন্যদিকে, শাওনের পঠিত বিষয়টি হলো নৃবিজ্ঞান। কেননা নৃবিজ্ঞান মানুষের উৎপত্তি ও দৈহিক গঠন ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে।
১. বহুমুখী জটিল সমস্যার সমাধানে সমাজকর্ম সর্বদা প্রয়াসী, আর এজন্য সমাজকর্মীদের ব্যক্তির দৈহিক গতি, আকৃতি, প্রকৃতি প্রভৃতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে হবে। তাই দৈহিক নৃবিজ্ঞান ব্যক্তি, দল, সমষ্টির সমস্যা সমাধানে সহায়কা ভূমিকা পালন করে।
২. সমাজকর্ম অনুশীলনের অন্যতম নীতি হলো ব্যক্তির মূল্যবোধ ও সামাজিক মূল্যবোধের স্বীকৃতি। অর্থাৎ সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির সমস্যা সমাধানে সমাজের প্রচলিত মূল্যবোধ পরিপন্থি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না। এক্ষেত্রে সমাজকর্মীকে সাংস্কৃতিক নৃ- বিজ্ঞানের জ্ঞান গ্রহণ করতে হবে।
৩. আধুনিক সময়ে নগরায়ণ সৃষ্টি করছে নানা মনো-সামাজিক সমস্যা। এসব সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মীকে নগর নৃবিজ্ঞানের সাহায্য নিতে হবে। এক্ষেত্রেও সমাজকর্ম ও নৃ-বিজ্ঞান সম্পর্কিত।
৪. সমাজকর্ম আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে। আর বিভিন্ন আচার-আচরণ, বিশ্বাস এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাধা এই উন্নয়নকে ব্যাহত করে। ফলিত নৃবিজ্ঞান আর্থসামাজিক উন্নয়নের বাধা সৃষ্টিকারী এ সকল বিষয় চিহ্নিত করে থাকে এবং সমাজকর্মীকে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
৫. সমাজকর্ম অনুশীলনে ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে সামাজিক নৃবিজ্ঞানের জ্ঞান সমাজকর্মের জন্য সহায়ক। কেননা সামাজিক নৃবিজ্ঞানের ভিত্তিই হলো মানুষের পারস্পরিক ও সামাজিক সম্পর্ক।
৬. চিকিৎসা সমাজকর্মের জন্যও নৃবিজ্ঞানের জ্ঞান কার্যকরী হতে পারে। কেননা নৃবিজ্ঞানের অন্যতম একটি শাখা হলো চিকিৎসা নৃবিজ্ঞান। এটি সমাজে বসবাসরত মানুষের রোগ, চিকিৎসা ও আচার-আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।