ক.
মানুষের আচার-আচরণের আদর্শ মান বা মানদণ্ডই হচ্ছে মূল্যবোধ।
খ.
আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার (Right of Self-determination) বলতে ব্যক্তির স্বকীয়তা বজায় রেখে যোগ্যতা প্রমাণের মাধ্যমে আত্মোন্নয়নের (Self-determination) সুযোগকে বোঝায়।
আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার সমাজকর্মের গুরুত্বপূর্ণ একটি মূল্যবোধ। ব্যক্তির পছন্দ, চাহিদা, সামর্থ্য ও ক্ষমতা অনুসারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সে অনুযায়ী নিজেকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ অধিকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি ব্যক্তির আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জীবনকে অর্থবহ করে তোলে।
গ.
কাউন্সিলর হিসেবে লীনার কাজটি ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ব্যক্তি সমাজকর্ম হলো সমাজকর্মের মৌলিক পদ্ধতি। এর মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির সুপ্ত ক্ষমতা বা প্রতিভার বিকাশ সাধনে প্রচেষ্টা চালানো হয়। মূলত এ পদ্ধতির লক্ষ্য নিজস্ব সম্পদের মাধ্যমে ব্যক্তিকে স্বাবলম্বী করে তোলা। এর ফলে সে নিজেই নিজের সমস্যা মোকাবিলা করে সুষ্ঠু সামাজিক ভূমিকা পালনে সক্ষম হয়।
উদ্দীপকে লীনা একটি মোটিভেশন সেন্টারে কাউন্সিলর হিসেবে কাজ করছে। রূপন নামের একজন সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি তার কাছে সাহায্যের জন্য আসেন। লীনা তাকে ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতির মাধ্যমে সহায়তা দেয়। কারণ ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতির আওতায় সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিকে সহায়তা দেওয়া হয়। ব্যক্তি সমাজকর্মের ৫টি উপাদান রয়েছে। এগুলো হলো- ব্যক্তি, সমস্যা, স্থান বা প্রতিষ্ঠান, পেশাদার প্রতিনিধি এবং প্রক্রিয়া। ব্যক্তি সমাজকর্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ব্যক্তি। এখানে ব্যক্তি বলতে এমন একজনকে বোঝায় যে সমস্যাগ্রস্ত। আর নিজের ক্ষমতায় সে তার সমস্যা সমাধানে অক্ষম। সমস্যা ব্যক্তি সমাজকর্মের দ্বিতীয় উপাদান হিসেবে বিবেচিত। ব্যক্তি সমাজকর্মে সমস্যা হলো এমন একটি অবস্থা যা সমাজে ব্যক্তির স্বাভাবিক ভূমিকা পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। আর প্রতিষ্ঠান বা এজেন্সির মাধ্যমে ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতির আওতায় সাহায্যার্থীর সমস্যা সমাধানে সহায়তা করা হয়। পেশাদার প্রতিনিধি ব্যক্তি সমাজকর্মের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান; যাকে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সেবাদানের জন্য নিয়োগ করা হয়। ব্যক্তি সমাজকর্মে সমস্যা সমাধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো প্রক্রিয়া। কারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিকে সমস্যার সমাধান দেওয়া হয়। এখানে প্রক্রিয়া বলতে সমগ্র সমাধান ব্যবস্থাকে বোঝানো হয়। এ পাঁচটি উপাদানের সমন্বয়ে ব্যক্তি সমাজকর্ম প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়।
ঘ.
সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিটির সমস্যা সমাধানে লীনার গৃহীত নীতি ছাড়াও আরো কিছু নীতি গ্রহণ করা আবশ্যক।
ব্যক্তি সমাজকর্ম প্রক্রিয়ার সার্বিক সাফল্য অর্জনের উদ্দেশ্যে বিশেষ কতগুলো নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়। এসব নীতি হচ্ছে সমাজকর্মীর কাজের নির্দেশিকা। এগুলো ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতি অনুশীলনের প্রতিটি পর্যায়ে অনুসরণ করা হয়।
উদ্দীপকে রূপন নামের একজন সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি সমস্যা সমাধানের জন্য সমাজকর্মী লীনার কাছে আসে। সমাজকর্মী লীনা তার সাথে ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয়ে একান্তে আলাপ করেন। এক্ষেত্রে তিনি গ্রহণ নীতির প্রয়োগ করেছেন, কিন্তু সমস্যা সমাধানে তিনি একাই তার করণীয় নির্ধারণ করেছেন। যা ব্যক্তি সমাজকর্মের নীতির অন্তর্ভুক্ত নয়। এছাড়া সমস্যার কার্যকর সমাধানের জন্য সমাজকর্মী লীনাকে আরও কতগুলো নীতি গ্রহণ করতে হতো। যেমন- ব্যক্তি সমাজকর্মে যোগাযোগ নীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।যোগাযোগ নীতি একে অপরের ভূমিকা বুঝতে সহায়তা করে। এর ফলে সমস্যা সমাধান সহজ হয়। ব্যক্তি স্বাতন্ত্রীকরণ নীতি সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষমতা, যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী সমাধান প্রক্রিয়া গ্রহণে সাহায্য করে। আবার অংশগ্রহণ নীতি সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়ায় সাহায্যার্থীকে উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে অংশগ্রহণ করতে সহায়তা করে যা সমস্যা সমাধানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আত্মনিয়ন্ত্রণ নীতির মাধ্যমে সমাজকর্মীর সহায়তা ও তত্ত্বাবধানে সাহায্যার্থী নিজেই তার ভূমিকা ও করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। সাহায্যার্থীর সমস্যা সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্যাদি গোপন রাখাও ব্যক্তি সমাজকর্মের অন্যতম একটি নীতি। কারণ সাহায্যার্থী তার তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে সমাজকর্মীর কাছে সে তার গোপন কথা প্রকাশ করবে না। এতে সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে। এছাড়া আবেগ, হিংসা, পক্ষপাতিত্ব, পছন্দ-অপছন্দ এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সমাজকর্মীকে সাহায্যার্থীর সমস্যা সমাধানে কাজ করতে হয়। এক্ষেত্রে আত্মসচেতনতার নীতি তাকে সহায়তা করবে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে লীনার গৃহীত নীতি ছাড়াও উল্লিখিত নীতিগুলো গ্রহণ করা আবশ্যক।