ক.
দৃষ্টবাদের প্রবক্তা অগাস্ট কোঁৎ ।
খ.
সামাজিক নিরাপত্তা বলতে সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত সামাজিক কল্যাণমূলক ব্যবস্থাকে বোঝায় ।
আধুনিক জীবনের অসুস্থতা, বেকারত্ব, বৃদ্ধ বয়সের নির্ভরশীলতা, শিল্প দুর্ঘটনা ও পঙ্গুত্বের প্রতিবিধান স্বরূপ কোনো ব্যক্তি যখন স্বীয় ক্ষমতা ও দূরদর্শিতার দ্বারা নিজেকে ও তার পরিবারকে রক্ষা করতে অপারগ হয় তখন সমাজ কর্তৃক প্রতিরক্ষামূলক যেসব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় সামাজিক নিরাপত্তা বলতে সেসব কর্মসূচিকেই বোঝানো হয়।
গ.
উদ্দীপকে সামাজিক স্তরবিন্যাসের সামাজিক শ্রেণি ও পদমর্যাদার দিকটি ফুটে উঠেছে।
সমাজের সদস্যদের আয়, মর্যাদা, শিক্ষা, প্রতিপত্তি ও ক্ষমতার ভিত্তিতে ব্যক্তির যে সামাজিক অবস্থান তাই মর্যাদা। আর শ্রেণি হলো সমাজে অর্থনৈতিক দিক থেকে উঁচু অবস্থানে থাকায় নিম্ন শ্রেণির ওপর প্রভাব বা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার অভিপ্রায় থেকে সৃষ্টি ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত লিজা দরিদ্র পরিবারের সন্তান। সে বেঁচে থাকার তাগিদে গৃহ পরিচারিকার কাজ করে ব্যবসায়ী সবুজ সাহেবের বাড়িতে। এখানে লিজা সামাজিক স্তরবিন্যাসের দিক থেকে নিম্ন শ্রেণিতে অবস্থান করছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ী সবুজ সাহেবের অবস্থান উচ্চ স্তরে । লিজা এবং সবুজ সাহেবের শ্রেণি ও মর্যাদাভিত্তিক অবস্থান সামাজিক স্তরবিন্যাসের একটি বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে সেটি হচ্ছে সম্পত্তির ভিত্তিতে সৃষ্ট অবস্থান। সামাজিক পদমর্যাদার দিক দিয়ে নিম্নশ্রেণির মানুষ সমাজের নিম্নস্তরে অবস্থান করে। সামাজিকভাবে এদেরকে কিছুটা অবহেলার চোখেই দেখা হয় ।
উদ্দীপকে লিজার ক্ষেত্রেও তেমনটিই লক্ষ করা যায়। উচ্চবিত্ত ব্যবসায়ী সবুজ সাহেব ও তার স্ত্রী লিজার সাথে মন্দ আচরণ করে এবং মাঝে মাঝে প্রহারর করে। যা সামাজিক স্তরবিন্যাসের ক্ষেত্রে শ্রেণি ও মর্যাদাকে নির্দেশ করে। অতএব বলা যায়, সব সমাজেই সামাজিক স্তরবিন্যাসের অস্তিত্ব লক্ষ করা যায় এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের পার্থক্য ও বিভেদ থাকে ।
ঘ.
উদ্দীপকের সামাজিক শ্রেণি ও পদমর্যাদার অসমতাটি আমাদের সামাজিক উন্নতির অন্তরায়- এ বক্তব্যের সাথে আমি একমত। নিচে এর সপক্ষে যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করা হলো-
শ্রেণিভিত্তিক অসমতার কারণে সমাজে কিছু মানুষের কাছে সম্পদের পুঞ্জিভবন ঘটে। যেমনটি ঘটেছে উদ্দীপকের সবুজ মিয়ার ক্ষেত্রে যা সমাজের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার ভারসাম্য নষ্ট করে। ফলে গরিব আরও গরিব হয়। ধনী আরও ধনী হয়। যে অবস্থার মধ্য দিয়ে একটি সমাজ তখন আর উন্নতির পথে এগোতে পারে না। শ্রেণিভিত্তিক অসমতার কারণে সম্পদের পুঞ্জিভবন ঘটতে থাকলে যেহেতু তখন সমাজে অর্থনীতির অসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন তাই সমাজের বেশিরভাগ মানুষের জীবনে বেঁচে থাকার জন্য মৌলিক চাহিদা পূরণের অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। যার কারণে সামাজিক অগ্রগতি বাধাপ্রাপ্ত হয়। উদ্দীপকের বিষয়টিও তার ব্যতিক্রম নয়। শ্রেণিভিত্তিক অসমতার কারণে কিছু মুষ্টিমেয় ব্যক্তি সমাজে ক্ষমতাবান হয়ে ওঠে, ফলে তারা নিজেদের স্বার্থচরিতার্থ করার জন্য নিজেদের খেয়াল খুশিমত দরিদ্রদের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতন চালায়। যে কারণে সমাজ ও রাষ্ট্রে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না ।
উদ্দীপকেও ঠিক একই অবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছে। শ্রেণিভিত্তিক অসমতার ফলে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা যায় না। যে কারণে সদিচ্ছা থাকলেও একটি টেকসই ও কাঙ্ক্ষিত সমাজ বিনির্মাণ করা সম্ভব হয় না।
অতএব, শ্রেণিভিত্তিক অসমতাকে নিয়ন্ত্রণ করা বা উচ্ছেদ করা না গেলে কোনো দেশ বা সমাজের পক্ষে উন্নতি করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ বা আমাদের সমাজব্যবস্থার ক্ষেত্রেও একথাটি সমানভাবে প্রযোজ্য ।