Facebook Pixel

লোকমান রসূলপুর গ্রামের মেম্বার হয়েই বুঝতে পারেন তিনি আসলে প্রকৃত জনপ্রতিনিধি নন। তিনি রাজনৈতিক নেতাদের হাতের পুতুল। এ অসহনীয় অবস্থায় থেকে মুক্তিলাভের জন্য তাহেরপুরের মেম্বারের সাথে গোপনে পরামর্শ করে করণীয় ঠিক করেন। কিন্তু চতুর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এটি বুঝতে পেরে লোকমানকে পদচ্যুত করে তার বোন জামাই শিমুলকে রসূলপুর গ্রামের মেম্বার পদে বসান । ক. কত সালে পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয় ? খ. দ্বৈতশাসন কী ? সংক্ষেপে লেখো। গ. উদ্দীপকের আলোকে পাঠ্যপুস্তকের সাদৃশ্যপূর্ণ ঘটনার বিবরণ তুলে ধরো। ঘ. উদ্দীপকের আলোকে তোমার পাঠ্যবইয়ের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার তাৎপর্য লিখো ।

বিষয়: ইতিহাস ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমনঃ ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়। খ. দ্বৈতশাসন বলতে বাংলায় রবার্ট ক্লাইভের উদ্যোগে ইংরেজ কোম্পানি ও দেশীয় নবাবের সমন্বয়ে প্রবর্তিত শাসনব্যবস্থাকে বোঝায় । দ্বৈতশাসন ব্যবস্থায় দেশীয় নবাবের হাতে বিচার ও শাসন বিভাগের দায়িত্ব থাকে। অন্যদিকে , ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ওপর রাজস্ব এবং দেশরক্ষার দায়িত্ব ন্যস্ত হয়। ক্লাইভের এ শাসন নীতির উদ্দেশ্য ছিল এদেশের আর্থিক ক্ষমতা নিজেদের কব্জায় নেওয়া ও দেশীয় শাসকবর্গের বিরুদ্ধে জনসাধারণকে বিক্ষুব্ধ করে তোলা। বলা হয় , দ্বৈত শাসনব্যবস্থায় বাংলার নবাবের ছিল ক্ষমতাহীন দায়িত্ব এবং কোম্পানি পেয়েছিল দায়িত্বহীন ক্ষমতা । গ. উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পাঠ্যপুস্তকের মীরজাফরের সিংহাসনচ্যুত হওয়া এবং তার জামাতা মীর কাশিমের বাংলার সিংহাসনে আরোহণের ঘটনা সাদৃশ্যপূর্ণ ৷ পলাশীর যুদ্ধে সিরাজ - উদ - দৌলার পতনের পরে মীরজাফর বাংলার মসনদে বসেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে পূর্ব প্রতিশ্রুতি মোতাবেক দেড় কোটি টাকা প্রদান করতে তিনি বাধ্য ছিলেন। একমাত্র ক্লাইভকে সন্তুষ্ট করে পঁচিশ লক্ষ টাকা প্রদান করে মীরজাফর কোম্পানির অন্যান্য চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে বর্ধমান , নদীয়া এবং হুগলী পরগনার রাজস্ব তাদের দান করতে হয়। ফলে বাংলার রাজকোষের সমুদয় অর্থ কোম্পানিকে প্রদান করে তিনি কপর্দকশূন্য হয়ে পড়েন। একসময় মীরজাফর উপলব্ধি করতে পারেন তিনি নামমাত্র নবাব হয়ে ক্ষমতায় আসীন বটে , কিন্তু প্রকৃত ক্ষমতা ভোগ করতে থাকে ইংরেজ বণিকরা ফলে ইংরেজদের প্রতি বিরক্ত হয়ে মীরজাফর তাদের বাংলা থেকে বিতাড়নের চেষ্টায় ওলদাজদের সাহায্য কামনা করেন। মীরজাফরের ষড়যন্ত্র ও অকর্মণ্যতা ইংরেজদের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠলে অর্থ প্রদানের অক্ষমতা হেতু ইংরেজরা মীর জাফরকে সিংহাসনচ্যুত করে তার জামাতা মীর কাশিমকে বাংলার সিংহাসনে বসায়। উদ্দীপকে লোকমান রসূলপুর গ্রামের মেম্বার হয়েই বুঝতে পারে তিনি আসলে প্রকৃত জনপ্রতিনিধি নন। তিনি রাজনৈতিক নেতাদের হাতের পুতুল। এ অসহনীয় অবস্থা থেকে মুক্তিলাভের জন্য তাহেরপুরের মেম্বারের সাথে গোপনে পরামর্শ করে করণীয় ঠিক করেন। কিন্তু চতুর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এটি বুঝতে পেরে লোকমানকে পদচ্যুত করে তার বোন জামাই শিমুলকে রসূলপুর গ্রামের মেম্বার পদে বসান। উদ্দীপকের ঘটনার সাথে মীরজাফরের সিংহানচ্যুত হওয়া এবং তার জামাতা মীর কাশিমের বাংলার মসনদে আরোহণ সাদৃশ্যপূর্ণ। ঘ. উদ্দীপকের ঘটে যাওয়া ঘটনা অর্থাৎ মীর কাশিমের বাংলার সিংহাসনে আরোহণ উপমহাদেশের ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। মীরজাফরকে সিংহাসনচ্যুত করে ইংরেজরা তার জামাতা মীর কাশিমকে বাংলার সিংহাসনে বসান। মীর কাশিম ছিলেন রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অধিকারী এবং সুদক্ষ শাসক। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন , মীরজাফরের পতনের মূলে ছিল তার আর্থিক দুরবস্থা , সামরিক দুর্বলতা এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অর্থলোলুপতা। তাই তিনি আর্থিক ও সামরিক দুর্বলতা কাটিয়ে এমন কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেন যাতে ইংরেজদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বাংলার স্বার্থরক্ষা করতে পারেন। কিন্তু স্বার্থবাদী ইংরেজদের মনে এসব উদ্যোগ সন্দেহের উদ্রেক করলে মীর কাশিমের সাথে তাদের দ্বন্দ্ব অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। এ দ্বন্দ্বের পরিপ্রেক্ষিতেই বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। উপমহাদেশে ব্রিটিশ শক্তির প্রভাব - প্রতিপত্তি বৃদ্ধিতে বক্সারের যুদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। বক্সারের যুদ্ধ ছিল বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার শেষ প্রচেষ্টা। মীর কাশিম অযোধ্যার নবাব এবং দিল্লির সম্রাটের সহযোগিতায় একটি ত্রিপক্ষীয় মৈত্রী জোট গঠন করে ১৭৬৪ খ্রিষ্টাব্দের ২২ অক্টোবর ইংরেজ বাহিনীর বিরুদ্ধে বক্সারে মিলিত হন। নবাব বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের নিকট শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। এর ফলে ইংরেজরা এদেশের শাসনক্ষমতা হস্তগত করে । উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় , বাংলার মসনদে মীর কাশিমের আরোহণের ঘটনা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

লোকমান রসূলপুর গ্রামের মেম্বার হয়েই বুঝতে পারেন তিনি আসলে প্রকৃত জনপ্রতিনিধি নন। তিনি রাজনৈতিক নেতাদের হাতের পুতুল। এ অসহনীয় অবস্থায় থেকে মুক্তিলাভের জন্য তাহেরপুরের মেম্বারের সাথে গোপনে পরামর্শ করে করণীয় ঠিক করেন। কিন্তু চতুর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এটি বুঝতে পেরে লোকমানকে পদচ্যুত করে তার বোন জামাই শিমুলকে রসূলপুর গ্রামের মেম্বার পদে বসান ।

ক.

কত সালে পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়?

খ.

দ্বৈতশাসন কী? সংক্ষেপে লেখো।

গ.

উদ্দীপকের আলোকে পাঠ্যপুস্তকের সাদৃশ্যপূর্ণ ঘটনার বিবরণ তুলে ধরো।

ঘ.

উদ্দীপকের আলোকে তোমার পাঠ্যবইয়ের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার তাৎপর্য লিখো ।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

‘ক’ অঞ্চলটি ‘খ’ বহিশক্তির সঙ্গে একটি যুদ্ধে পরাজয়ের পরে ‘খ’ এর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়...

‘ক’ অঞ্চলটি ‘খ’ বহিশক্তির সঙ্গে একটি যুদ্ধে পরাজয়ের পরে ‘খ’ এর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়...

‘ তোবা ’ রোমান সভ্যতার ইতিহাস পড়ার সময় লক্ষ করল , রোমান সম্রাট নিরো তাঁর বিশাল সাম্রাজ্যে শক্তিশালী সেনাবা...

ইউরোপীয় জাতিসমূহের মধ্যে দুঃসাহসী ও নৌবিদ্যায় পারদর্শী ছিল-

চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে মীর কাসিম ছিলেন

দিনেমাররা কোন দেশের অধিবাসী?

পর্তুগিজরা বাংলাদেশে কী নামে পরিচিত?

পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীর ইউরোপীয় সৈন্য সংখ্যা কত ছিল?

পলাশীর যুদ্ধ কত তারিখে সংঘটিত হয়?

সিরাজউদ্দৌলার প্রকৃত নাম কী?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।