ক.
যুক্তিবিদ্যা হলো ভাষায় প্রকাশিত চিন্তা সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
খ.
একটি আদর্শ বা মানদণ্ডের ভিত্তিতে নিজস্ব বিষয়বস্তু মূল্যায়ন করে বিধায় যুক্তিবিদ্যা আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান।
যে বিজ্ঞান কোনো আদর্শের ভিত্তিতে নিজস্ব বিষয়বস্তুর মূল্যায়ন করে তাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলে। যুক্তিবিদ্যা সত্যের আদর্শের ভিত্তিতে বৈধ যুক্তি পদ্ধতির নিয়মাবলি আবিষ্কার করে এবং এই নিয়মাবলির আলোকে সেগুলোর মূল্য নিরূপণ করে। সুতরাং যুক্তিবিদ্যা সত্যের আদর্শের ভিত্তিতে বিষয়বস্তুর মূল্যায়ন করে। তাই যুক্তিবিদ্যা একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান।
গ.
উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়টি যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞান ও কলার দিকটি ইঙ্গিত করছে।
যে বিদ্যা বৈধ যুক্তি থেকে অবৈধ যুক্তিকে পৃথক করার পদ্ধতি ও নিয়মসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করে তাকে যুক্তিবিদ্যা (Logic) বলে। যুক্তিবিদ্যা সঠিক যুক্তি পদ্ধতির নিয়মাবলি প্রণয়ন করে এবং এসব 'নিয়মের সাহায্যে যুক্তির বৈধতা' যাচাই করে। এ কারণে যুক্তিবিদ্যা একটি বিজ্ঞান ও কলাবিদ্যা। এ বিদ্যা তাত্ত্বিক বা বিজ্ঞান বিষয়ক ও ব্যাবহারিক জ্ঞান দান করে। তাত্ত্বিক জ্ঞানের মাধ্যমে সুশৃঙ্খল, সুসংবদ্ধ ও সুনিশ্চিত জ্ঞান লাভ করা যায়। যেহেতু, যুক্তিবিদ্যা একটি চিন্তার বিজ্ঞান তাই চিন্তার আকারগত এবং বস্তুগত উভয় দিক এ শাস্ত্রে আলোচনা করা হয়। এ বিদ্যায় আলোচ্য বিষয়সমূহ সুশৃঙ্খল ও সুসংঘবদ্ধভাবে আলোচনা করা হয়, ফলে এ বিদ্যা বাস্তব জীবনে কাজে লাগে।
উদ্দীপকে র্যামন ম্যাগসেসে-২০২১ পুরস্কারপ্রাপ্ত বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌস কাদরী একজন গবেষক। সুসংবদ্ধ, সুশৃঙ্খল ও সুনিশ্চিত জ্ঞান লাভের জন্য তিনি সারাজীবন প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। ব্যাবহারিক জীবনে গবেষণালব্ধ তথ্য সাধারণ মানুষের কল্যাণে প্রয়োগের কৌশলে সফল হয়েছেন। এখানে সুসংঘবদ্ধ, সুশৃঙ্খল ও সুনিশ্চিত জ্ঞান ও ব্যাবহারিক জ্ঞানের কথা বলা হয়েছে যা যুক্তিবিদ্যার মাধ্যমে পাওয়া যায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়টির মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যা বিষয়টিই প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ.
উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়টি তথা যুক্তিবিদ্যার যথেষ্ট উপযোগিতা রয়েছে।
যুক্তিবিদ্যা আমাদেরকে সঠিক যুক্তি-পদ্ধতির নিয়ন-কানুন সমন্ধে জ্ঞান দান করে। এসব নিয়ম-কানুন যথাযথ অনুসরণ করলে আমরা বাস্তব জীবনে শুদ্ধভাবে যুক্তিতর্ক করতে পারি এবং আমাদের যুক্তির মধ্যকার ভুল-ত্রুটিকে খুঁজে বের করে তা পরিহার করতে পারি। যুক্তিবিদ্যা চর্চার ফলে আমাদের অমূর্ত চিন্তা বা বস্তুনিরপেক্ষ চিন্তার ক্ষমতা বেড়ে যায়। এরূপ চিন্তাশক্তি আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিকে শাণিত করে এবং মানসিক উৎকর্ষ সাধনে সহায়তা করে। যুক্তিবিদ্যা পাঠ করে আমরা বিশেষ কিছু কলা-কৌশল আয়ত্ত করি। যেগুলো প্রয়োগ করে আমরা সহজে নিজেদের যুক্তিকে অপরের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারি এবং অপরকে নিজের মতের প্রতি আকৃষ্ট করতে পারি।
যুক্তিবিদ্যা পাঠের মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন তাত্ত্বিক ও ব্যাবহারিক জ্ঞান লাভ করতে পারে এবং সেগুলো সফলভাবে প্রয়োগও করতে পারে। জ্ঞানের প্রতিটি বিভাগেই যুক্তিবিদ্যার জ্ঞান প্রয়োজন। প্রতিটি বিজ্ঞানই চায় তার বিভাগীয় সত্যতাকে অর্জন করতে। তাই সত্যতা লাভের জন্য বিশুদ্ধ যুক্তি-পদ্ধতি ও তার নিয়ম-কানুন সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জন প্রত্যেক বিজ্ঞানের জন্যই অপরিহার্য। যা তাত্ত্বিক ও ব্যাবহারিক জীবনে, যুক্তিবিদ্যার উপযোগিতাকে নির্দেশ করে।
পরিশেষে বলা যায়, যুক্তিবিদ্যা ব্যাবহারিক জীবনে আমাদের চিন্তাকে পরিশীলিত করে। ফলে আমরা সঠিক চিন্তার নিয়মাবলিকে ব্যাবহারিক জীবনে প্রয়োগ করে অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার থেকে পরিত্রাণ লাভ করি।