ক.
সমাজবিজ্ঞান হলো অনুষ্ঠান প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান-উক্তিটি সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইম-এর।
খ.
সমাজবিজ্ঞান সমাজ বিশ্লেষণে সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা করে। সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরতে গিয়ে সমাজের কোনটা ভালো, কোনটা মন্দ, কী হওয়া উচিত, কী হওয়া অনুচিত, কোনটা ঠিক, কোনটা ঠিক নয় এসব প্রশ্নে সামাজিক বিজ্ঞান নিরপেক্ষতা অবলম্বন করে। সমাজবিজ্ঞানীগণ তাদের ব্যক্তিগত মূল্যবোধের দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে সামাজিক ঘটনাসমূহকে বিচার বিশ্লেষণ করে নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এজন্য সমাজবিজ্ঞানকে মূল্যবোধ নিরপেক্ষ বিজ্ঞান বলা হয়।
গ.
উদ্দীপকের ফাইজার অধ্যয়নকৃত বিষয়টি হলো নৃবিজ্ঞান। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো :
নৃবিজ্ঞান অর্থ হচ্ছে মানুষ ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত বিজ্ঞান ভিত্তিক পাঠ। মানুষের উৎপত্তি ও তার দৈহিক, সামাজিক তথা মানব আচরণের ক্রমবিকাশ সম্পর্কিত গবেষণা নিয়ে বিজ্ঞানের আলোচনার বিষয়। নৃবিজ্ঞান প্রধানত দুইটি অংশে বিভক্ত। যথা- দৈহিক নৃবিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান। দৈহিক নৃবিজ্ঞান মানুষের শরীর কাঠামো নিয়ে আলোচনা করে। আর সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়বস্তু হলো আদিম সমাজব্যবস্থা, সামাজিক আচার অনুষ্ঠান, খাদ্যভ্যাস, সামাজিক প্রথা ইত্যাদি।
উদ্দীপকের ফাইজা যে বিষয়ে অধ্যয়ন করে তার মূল আলোচ্য বিষয় মানুষের উদ্ভব ও বিকাশ, মানুষের দৈহিক গঠন এবং সংস্কৃতির ভিন্নতা। এই বিষয়গুলো উপরে আলোচিত নৃবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকে উল্লিখিত ফাইজার পঠিত বিষয়টি হচ্ছে নৃবিজ্ঞান।
ঘ.
রিয়ার পঠিত বিষয় তথা সমাজবিজ্ঞানের ব্যাপকতা গভীর — মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো :
বিজ্ঞানের যে শাখা সমাজ ও সামাজিক সম্পর্ক নিয়ে অধ্যয়ন করে তাই সমাজবিজ্ঞান। বস্তুুত ব্যক্তি, গোষ্ঠী, প্রথা, সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে সমাজবিজ্ঞান আলোচনা করে।
সমাজ বিজ্ঞান বিষয়টির ব্যাপকতা গভীর। বিষয়টির পরিধি এবং পাঠের প্রয়োজনীয়তা এর ব্যাপকতাকে তুলে ধরে। সমাজের বিভিন্ন দিক পঠন-পাঠক ও গবেষণার জন্য সমাজবিজ্ঞানের নানা শাখা প্রশাখার উদ্ভব ঘটেছে। এইসব শাখা প্রশাখার মধ্যে ধর্মের সমাজবিজ্ঞান ধর্ম সম্পর্কে আলোচনা করে। নগর ও গ্রামের সমাজ অর্থনীতি, নেতৃত্ব কাঠামো, ক্ষমতা কাঠামো, মর্যাদা ও স্তরবিন্যাস ইত্যাদি নিয়ে নগর এবং গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান আলোচনা করে। এমনিভাবে সমাজবিজ্ঞানের আরো নানা ধরনের শাখা রয়েছে যেগুলো সমাজের একএকটি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে। সমাজবিজ্ঞানের এসব শাখার জ্ঞান অর্জন করা শুষ্ঠু সমাজ গঠনের জন্য অপরিহার্য। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, সমাজবিজ্ঞান সমাজের বিভিন্ন সম্প্রদায় ও সংঘ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করতে সাহায্য করে। এইসব সাম্প্রদায় ও সংঘের মধ্যে কোনো জটিল পরিস্থিতি বিরাজ করলে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান তা দূর করতে সাহায্য করে। আবার সামাজিক সমস্যার, পরিবর্তন নীতি নির্ধারণ উন্নয়ন ও সামাজিক সম্পর্ক উন্নয়নে ও সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান নির্দেশ করে। কার্যত সমাজবিজ্ঞানের পরিধি এবং পাঠের প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা করলে সুস্পষ্ট হয় যে, শাস্ত্রটির ব্যাপকতা অত্যন্ত গভীর।
উদ্দীপকের রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় যে বিষয়ে অধ্যয়ন করে তার মূল আলোচ্য বিষয় হলো সমাজ, সামাজিক সম্পর্ক, সামাজিক কার্যাবলি, দল প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি। এগুলা সমাজবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয় সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই তার পঠিত বিষয়টি সমাজবিজ্ঞান।