(ক)
ব্যক্তির মেধা ও মননশীলতা দিয়ে সৃষ্ট উদ্ভাবন বা বিশেষ কোনো সৃষ্টির ওপর উক্ত ব্যক্তির যে একচ্ছত্র আইনি অধিকার থাকে, তাকে মেধাস্বত্ব বলে।
(খ)
বাংলাদেশে বেকারী পণ্য উৎপাদন ও বিক্রয়ে বিএসটিআই (BSTI) এর প্রাতিষ্ঠানিক সনদ বাধ্যতামূলক।
পণ্য বা খাদ্যের মান নির্ধারণ, গুণগতমান পরীক্ষা ও মান নিশ্চিত করার জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএসটিআই কাজ করে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো শিল্প, খাদ্য ও রাসায়নিক পণ্যের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের জন্য একটি জাতীয় মান তৈরি এবং তা নিশ্চিত করা। এর ফলে ভোক্তারা নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য পায় এবং বাজারে নিম্নমানের পণ্যের বিস্তার রোধ হয়।
(গ)
ওরংগো দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডমার্ক (Trademark) আইনের মাধ্যমে টিকে থাকতে পারবে।
ট্রেডমার্ক হলো পণ্য বা ব্যবসায়ের এমন কোনো স্বতন্ত্র সূচক, বৈশিষ্ট্য, চিহ্ন বা প্রতীক যা অন্য পণ্য বা প্রতিষ্ঠান থেকে একে আলাদা করে এবং গ্রাহকের কাছে সহজে পরিচিত করে তোলে। ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের মাধ্যমে মালিক উক্ত চিহ্ন বা নামের একচ্ছত্র ব্যবহারের অধিকার লাভ করেন, ফলে অন্য কেউ ওই একই নাম বা চিহ্ন ব্যবহার করে ব্যবসা করতে পারে না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব জসিম 'ওরংগো' নামে একটি স্পোর্টস ওয়াচ তৈরি করেছেন এবং তিনি এই নামটিকে একটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডে উন্নীত করে দীর্ঘমেয়াদে বাজারে টিকে থাকতে চান। যেহেতু তিনি নামের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে ব্র্যান্ডিং করতে চান, তাই তাকে ট্রেডমার্ক আইনের অধীনে এই নামের নিবন্ধন করতে হবে। এর ফলে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান 'ওরংগো' নাম ব্যবহার করে স্পোর্টস ওয়াচ বিক্রি করতে পারবে না, যা জনাব জসিমের ব্যবসাকে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখবে।
(ঘ)
রুদ্র তার গেমটির সুরক্ষা পাবে কপিরাইট (Copyright) আইনের মাধ্যমে এবং নকলকারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি প্রতিকার পাবে।
কপিরাইট হলো প্রণেতা বা লেখকের সৃষ্টকর্মের ওপর তার একচ্ছত্র অধিকার। কপিরাইট নিবন্ধনের মাধ্যমে নিবন্ধকের অফিসে প্রণেতার নামসহ সৃষ্টকর্মের নাম ও বিবরণাদি লিপিবদ্ধ করা হয়, যার ফলে প্রণেতার সৃষ্টি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আইনি সুরক্ষা পায়।
উদ্দীপকের রুদ্র একজন গেম ডেভেলপার এবং তিনি তার গেমটি যথাযথ আইনগতভাবে সুরক্ষিত করেছেন, অর্থাৎ তিনি কপিরাইট নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু তিন বছর পর অন্য একজন ব্যক্তি তার জনপ্রিয় গেমটির অনুকরণে আরেকটি গেম বাজারে ছেড়েছে, যা সরাসরি কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন।
কপিরাইট আইন অনুযায়ী, নিবন্ধিত সৃষ্টির অধিকার লঙ্ঘন করলে নকলকারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা যায়। এক্ষেত্রে প্রথমবার লঙ্ঘনের জন্য অপরাধীর কমপক্ষে ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হতে পারে। এভাবে রুদ্র আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার গেমের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবে এবং নকলকারীকে শাস্তির আওতায় আনতে পারবে।