Facebook Pixel

রাহাত সাহেব তার শিশু সন্তানকে ভ্যাক্সিন দিতে ভয় পাচ্ছেন। ডাক্তার তাকে অভয় দিয়ে বললেন, শৈশব ও কৈশোরকালীন সময়ে ভ্যাক্সিন প্রয়োগ করলে আপনার সন্তান সুস্থ এবং সবল থাকবে। ক. প্রদাহ কী? ১ খ. ইন্টারফেরন বলতে কী বোঝায়? ২ গ. ইমিউনতন্ত্রকে বাড়তি শক্তি যোগায় ভ্যাক্সিন- ব্যাখ্যা করো। ৩ ঘ. “ভ্যাক্সিনেশনের ফলে শিশু থাকবে সুস্থ, সবল, হাসি-খুশি”- বিশ্লেষণ করো। ৪

বিষয়: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-১০ঃ মানবদেহের প্রতিরক্ষা (ইমিউনিটি)

উৎস: অনুশীলনীর প্রশ্ন ফজলুল হক স্যার

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) প্রদাহ হলো দেহের কোনো নির্দিষ্ট স্থানে সংক্রমণ, আঘাত বা জ্বালাপোড়ার প্রতিক্রিয়াস্বরূপ সৃষ্ট একটি শারীরিক অবস্থা, যা ওই স্থানে লালভাব, উষ্ণতা, ফোলাভাব এবং ব্যথার সৃষ্টি করে। (খ) ইন্টারফেরন হলো ভাইরাসে আক্রান্ত কোষ থেকে নিঃসৃত এক ধরনের গ্লাইকোপ্রোটিন, যা পার্শ্ববর্তী সুস্থ কোষগুলোকে ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। যখন কোনো ভাইরাস কোষে প্রবেশ করে, তখন আক্রান্ত কোষ থেকে ইন্টারফেরন নিঃসৃত হয়। এটি সুস্থ কোষে প্রবেশ করে ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি ও সংক্রমণ প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে, ফলে দেহের অনাক্রম্যতা বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। (গ) ইমিউনতন্ত্র বা রোগ প্রতিরোধ তন্ত্র হলো দেহের বিভিন্ন কোষ ও অণুর সমন্বয়ে গঠিত একটি জটিল ব্যবস্থা, যা ক্ষতিকর অণুজীব ও বহিরাগত পদার্থের আক্রমণ থেকে দেহকে সুরক্ষা প্রদান করে। ভ্যাক্সিন বা টিকা এই ইমিউনতন্ত্রকে শক্তিশালী করার একটি কার্যকর মাধ্যম। টিকা হলো কোনো অণুজীব বা অণুজীবের অংশবিশেষের নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল রূপ, যা শরীরে প্রবেশ করালে ইমিউনতন্ত্র একে বহিরাগত শত্রু হিসেবে শনাক্ত করে। এর ফলে ইমিউনতন্ত্র ওই নির্দিষ্ট অণুজীবের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে এবং মেমোরি কোষ গঠন করে। ভবিষ্যতে যদি প্রকৃত রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে, তবে ইমিউনতন্ত্র দ্রুত সেই জীবাণুকে শনাক্ত করে এবং পূর্ব থেকে তৈরি অ্যান্টিবডির মাধ্যমে তাকে ধ্বংস করে দেয়। এভাবে ভ্যাক্সিন ইমিউনতন্ত্রকে রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার বাড়তি শক্তি ও প্রস্তুতি যোগায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, শৈশব থেকে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি অনুসরণ করলে শিশু দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে সুরক্ষিত থাকে এবং জনস্বাস্থ্যের মান উন্নত হয়। (ঘ) “ভ্যাক্সিনেশনের ফলে শিশু থাকবে সুস্থ, সবল, হাসি-খুশি”—উক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শৈশব ও কৈশোরকালীন সময়ে ভ্যাক্সিনেশন বা টিকাদান শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। পোলিও, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, হাম, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে শিশুকে রক্ষা করতে ভ্যাক্সিন অপরিহার্য। টিকা দেওয়ার ফলে শিশুর শরীরে নির্দিষ্ট রোগের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী অনাক্রম্যতা তৈরি হয়, যা তাকে আজীবন কষ্টকর শারীরিক জটিলতা, পঙ্গুত্ব বা অকাল মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করে। সুস্থ শিশু শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রফুল্ল থাকে, ফলে সে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে। এছাড়া, টিকাদান কর্মসূচি কেবল একটি শিশুকে রক্ষা করে না, বরং এটি সমাজের অন্যান্য শিশুদের মধ্যেও রোগ ছড়িয়ে পড়া রোধ করে। যদি একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ শিশুকে ভ্যাক্সিনেশনের আওতায় আনা যায়, তবে ওই এলাকায় রোগের প্রাদুর্ভাব বা মহামারী হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। সুতরাং, ভ্যাক্সিনেশন শিশুর ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা শিশুকে রোগমুক্ত ও হাসি-খুশি রাখতে সাহায্য করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenঅনুশীলনীর প্রশ্ন - ফজলুল হক স্যার

রাহাত সাহেব তার শিশু সন্তানকে ভ্যাক্সিন দিতে ভয় পাচ্ছেন। ডাক্তার তাকে অভয় দিয়ে বললেন, শৈশব ও কৈশোরকালীন সময়ে ভ্যাক্সিন প্রয়োগ করলে আপনার সন্তান সুস্থ এবং সবল থাকবে।

ক. প্রদাহ কী? ১

খ. ইন্টারফেরন বলতে কী বোঝায়? ২

গ. ইমিউনতন্ত্রকে বাড়তি শক্তি যোগায় ভ্যাক্সিন- ব্যাখ্যা করো। ৩

ঘ. “ভ্যাক্সিনেশনের ফলে শিশু থাকবে সুস্থ, সবল, হাসি-খুশি”- বিশ্লেষণ করো। ৪

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।