(ক)
জ্ঞান ও পুঁজি নির্ভর উচ্চ প্রযুক্তি ভিত্তিক পরিবেশবান্ধব শিল্পকে হাইটেক শিল্প বলে।
(খ)
উপযুক্ত শিল্পায়নের মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা থেকে মুক্ত হয়ে স্বনির্ভরতা অর্জন করা যায়। অনুন্নত দেশগুলোকে বিপুল পরিমাণ শিল্পজাত দ্রব্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যার ফলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। দেশকে শিল্পায়িত করা গেলে প্রয়োজনীয় শিল্পজাত দ্রব্যাদি স্থানীয়ভাবেই উৎপাদন করা সম্ভব হয়। শিল্পায়নের মাধ্যমে নিজস্ব কাঁচামাল ব্যবহার করে শিল্পদ্রব্য উৎপাদন করলে বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পাবে এবং পর্যায়ক্রমে একটি স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এ কারণেই দেশের স্বনির্ভরতা অর্জনে শিল্পায়ন জরুরি।
(গ)
উদ্দীপকে আমদানি বিকল্প শিল্প প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।
বিদেশ থেকে দ্রব্যসামগ্রী আমদানি না করে ঐ দ্রব্য দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন করাই হলো আমদানি বিকল্প শিল্প। অর্থাৎ যেসব দ্রব্যসামগ্রী আমদানি করা হয়, সেসব দ্রব্যসামগ্রী দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন করার জন্য যে শিল্প স্থাপন করা হয় তাকে আমদানি বিকল্প শিল্প বলে। এই ধরনের শিল্প স্থাপনের ফলে দেশীয় উৎপাদন বাড়ে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় এবং আমদানি হ্রাস পাওয়ার ফলে বাণিজ্য ঘাটতি কমে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, রায়হান সাহেবের দেশে বাণিজ্য ঘাটতি বিদ্যমান এবং এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার একটি বিশেষ শিল্প প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই শিল্প নারী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে। অর্থাৎ, উক্ত শিল্পের মাধ্যমে আমদানিকৃত দ্রব্য দেশের অভ্যন্তরেই উৎপাদন করা হবে, ফলে বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস পাবে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো আমদানি বিকল্প শিল্পের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে আমদানি বিকল্প শিল্প প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।
(ঘ)
দেশীয় শিল্পের বিকাশে উদ্দীপকে বর্ণিত আমদানি বিকল্প শিল্পের ভূমিকা অপরিসীম।
আমদানি বিকল্প শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে আমদানিকৃত দ্রব্যের উৎপাদন দেশের অভ্যন্তরেই করা হয়। ফলে দেশের আমদানি হ্রাস পায় এবং দেশের মধ্যেই নতুন নতুন শিল্প কারখানা গড়ে ওঠে। আবার এই শিল্প কারখানার কাঁচামালের যোগানকে কেন্দ্র করেও অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে ওঠে। উদ্দীপকে রায়হান সাহেবের দেশে বাণিজ্য ঘাটতি বিদ্যমান এবং এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার আমদানি বিকল্প শিল্প প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ফলে নারী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। এতে দেশীয় শিল্পের বহুমুখী বিকাশ ঘটবে।
আমদানি বিকল্প শিল্পে আমদানিকৃত শিল্পজাত দ্রব্য দেশের অভ্যন্তরেই উৎপাদিত হয় বলে আর বিদেশ থেকে আমদানির প্রয়োজন পড়ে না। ফলে দেশীয় শিল্পগুলো বৈদেশিক প্রতিযোগিতার হাত থেকে রক্ষা পায়। এছাড়া আমদানি বিকল্প শিল্পের মাধ্যমে দেশীয় কাঁচামাল এবং অন্যান্য উপকরণ সামগ্রীর পূর্ণ সদ্ব্যবহার সম্ভব হয়। ফলে এসব কাঁচামাল ও উপকরণ সামগ্রীর যোগানদাতা শিল্পগুলোও বিকশিত হয়। এভাবে সামগ্রিকভাবে দেশে শিল্পায়ন বৃদ্ধি পায়। সুতরাং বলা যায়, দেশীয় শিল্পের বিকাশে আমদানি বিকল্প শিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম।