(ক)
BRTC এর পূর্ণরূপ হলো Bangladesh Road Transport Corporation। বাংলাদেশে সাশ্রয়ী মূল্যে সড়কপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে BRTC বলে।
(খ)
সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ অর্থায়ন, ব্যবস্থাপনা এবং সহযোগিতায় পরিচালিত ব্যবসায়িক ব্যবস্থাকে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা পিপিপি (PPP) বলে।
সাধারণত বৃহদায়তন অবকাঠামো নির্মাণ, যেমন: সেতু, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হাসপাতাল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা কার্যকর হয়। এতে সরকারের আর্থিক চাপ কমে এবং বেসরকারি খাতের দক্ষতা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব হয়। ফলে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পক্ষই লাভবান হয় এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটে।
(গ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সংস্থাটি একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় সংগঠন।
রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় বলতে সেই ব্যবসাকে বোঝায় যা সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত, পরিচালিত এবং নিয়ন্ত্রিত হয়। এই ধরনের ব্যবসার মূল লক্ষ্য মুনাফা অর্জন নয়, বরং জনকল্যাণ সাধন করা। রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় থেকে অর্জিত আয় পুনরায় জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়।
উদ্দীপক অনুযায়ী, রামসাগর, কান্তজিউর মন্দির এবং মহাস্থানগড়ের মতো ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো সংরক্ষণ করার দায়িত্ব একটি সংস্থার ওপর দেওয়া হয়েছে। এই সংস্থাটি সরকারিভাবে পরিচালিত এবং এটি নিজস্ব হোটেল, মোটেল ও পিকনিক স্পট পরিচালনা করছে। এখানে মূল উদ্দেশ্য ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর সংরক্ষণ এবং পর্যটকদের সেবা প্রদান করা, যা জনকল্যাণের সাথে সম্পৃক্ত। এই সংস্থাটি মূলত বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, যা একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান।
সুতরাং, উদ্দীপকে বর্ণিত সংস্থাটি রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত।
(ঘ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সংস্থাটির (বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন) ওপর সরকারের দায়িত্ব দেওয়া সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত হয়েছে। এর স্বপক্ষে যুক্তিগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
প্রথমত, ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণ: রামসাগর, কান্তজিউর মন্দির ও মহাস্থানগড়ের মতো প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থানগুলো জাতীয় সম্পদ। এগুলোর যথাযথ সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন এবং সরকারি তত্ত্বাবধান জরুরি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য মুনাফা হওয়ায় তারা সংরক্ষণের চেয়ে বাণিজ্যিক লাভের দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে পারে, যা ঐতিহ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই সরকারের দায়িত্ব দেওয়া যুক্তিযুক্ত।
দ্বিতীয়ত, জনকল্যাণ ও সেবা নিশ্চিতকরণ: রাষ্ট্রীয় সংস্থার মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা। এই সংস্থাটি হোটেল, মোটেল ও পিকনিক স্পট পরিচালনার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণের সুযোগ করে দিচ্ছে, যা পর্যটন শিল্পের বিকাশে সহায়ক।
তৃতীয়ত, রাজস্ব বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান: এই সংস্থাটি পর্যটন কেন্দ্রগুলো পরিচালনার মাধ্যমে সরকারের আয়ের একটি বড় উৎস হিসেবে ভূমিকা রাখছে। অর্জিত এই রাজস্ব সরকার অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করতে পারে। পাশাপাশি, এখানে পরিচালিত হোটেল ও মোটেলগুলোতে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা বেকারত্ব দূর করতে সাহায্য করে।
পরিশেষে বলা যায়, ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের সুরক্ষা, পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং জনকল্যাণের কথা বিবেচনা করে উক্ত সংস্থাটির ওপর সরকারের দায়িত্ব প্রদান করা অত্যন্ত যৌক্তিক ও দূরদর্শী পদক্ষেপ।