(ক)
গেম রিজার্ভ হলো সরকার কর্তৃক ঘোষিত এমন একটি সংরক্ষিত এলাকা, যেখানে বন্যপ্রাণী শিকার, ধরা বা কোনো প্রকার ক্ষতিসাধন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। মূলত নির্দিষ্ট বন্যপ্রাণীর বংশবৃদ্ধি এবং তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষার উদ্দেশ্যে এই এলাকা নির্ধারণ করা হয়।
(খ)
ইকোসিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্রে শক্তির প্রবাহ একমুখী হওয়ার কারণ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
বাস্তুতন্ত্রের শক্তির প্রধান উৎস হলো সূর্য। সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে খাদ্যের মধ্যে সঞ্চিত রাখে। খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে এই শক্তি উৎপাদক থেকে বিভিন্ন স্তরের খাদকদের মধ্যে প্রবাহিত হয়। তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী, শক্তি এক স্তর থেকে অন্য স্তরে স্থানান্তরের সময় অধিকাংশ শক্তি তাপ হিসেবে পরিবেশে হারিয়ে যায় (প্রতি স্তরে প্রায় ৯০% শক্তি অপচয় হয়)। কোনো স্তরের খাদকই এই হারানো শক্তি পুনরায় ব্যবহার করতে পারে না। ফলে শক্তি আর আগের স্তরে ফিরে আসতে পারে না। এ কারণেই বাস্তুতন্ত্রে শক্তির প্রবাহ সর্বদা একমুখী।
(গ)
উদ্দীপকে শিক্ষকের উক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমাদের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা অপরিহার্য, যার কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা: জীববৈচিত্র্য পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখে। উদ্ভিদ ও প্রাণীর মধ্যে গ্যাসীয় বিনিময় (যেমন: অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের ভারসাম্য) পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখে।
২. অর্থনৈতিক গুরুত্ব: বিশ্বের অর্থনীতিতে জীববৈচিত্র্যের অবদান অপরিসীম। কৃষি, মৎস্য ও বনজ সম্পদ থেকে প্রাপ্ত কাঁচামাল বিশ্ব অর্থনীতির একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে।
৩. চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা: বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ থেকে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, টিকা এবং অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করা হয়। জীববৈচিত্র্য হ্রাস পেলে এই উৎসগুলো হারিয়ে যাবে, যা মানবস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
৪. চিত্তবিনোদন ও জ্ঞান আহরণ: জাতীয় উদ্যান, চিড়িয়াখানা ও বনাঞ্চল মানুষের মানসিক প্রশান্তি দেয় এবং প্রকৃতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ করে দেয়।
অতএব, টেকসই উন্নয়নের জন্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা দিতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
(ঘ)
উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতিতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আমার ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. জনসচেতনতা বৃদ্ধি: স্থানীয় পর্যায়ে সভা-সেমিনার ও প্রচারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জীববৈচিত্র্য রক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করব।
২. আইন প্রয়োগে সহায়তা: বন্যপ্রাণী শিকার বা বনভূমি ধ্বংসের মতো বেআইনি কর্মকাণ্ড দেখলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করব।
৩. আবাসস্থল রক্ষা: গাছ কাটা রোধ করা এবং জলাভূমি ভরাটের মতো পরিবেশবিরোধী কাজ থেকে বিরত থাকব। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও বনায়ন কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করব।
৪. দূষণ নিয়ন্ত্রণ: প্লাস্টিক ও অন্যান্য ক্ষতিকর বর্জ্য যত্রতত্র না ফেলে পরিবেশ দূষণ রোধে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতন থাকব।
৫. বৈজ্ঞানিক সংরক্ষণ পদ্ধতি: সুযোগ থাকলে ইন-সিটু (In-situ) এবং এক্স-সিটু (Ex-situ) সংরক্ষণ পদ্ধতির গুরুত্ব প্রচার করব এবং প্রয়োজনে বোটানিক্যাল গার্ডেন বা চিড়িয়াখানার মতো প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরব।
পরিশেষে, জীববৈচিত্র্য রক্ষা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই কেবল আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশকে রক্ষা করা সম্ভব।