Facebook Pixel

রাজনৈতিক পরিবর্তনের অভিঘাত, বৈদেশিক মুদ্রার টানাপোড়েন, মূল্যস্ফীতির চাপ আর ব্যাংকিং খাতের পুরোনো ক্ষত- সব মিলিয়ে এ দেশের অর্থনীতিকে এনে দাঁড় করিয়েছে এক জটিল মোড়ে। সব মিলিয়ে ২০২৫ সাল ছিল বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য মেরামতের বছর। রেমিট্যান্স আর রিজার্ভ ভরসা দিলেও খেলাপি ঋণ, মূল্যস্ফীতি আর বেকারত্ব এখনও বড় ছায়া হয়ে আছে। এই ছায়া কাটাতে পারলে ভবিষ্যতে সত্যিই নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে, যেখানে সংকট পিছনে পড়ে থাকবে আর সামনে এগোবে স্থিতিশীলতার আলো। ক. অর্থনৈতিক কাঠামো কী? খ. মধ্যযুগে বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থা কেমন ছিল? গ. উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিধারা বর্ণনা কর। ঘ. বাংলাদেশকে অনুন্নত নাকি উন্নয়নশীল দেশ বলা অধিক যৌক্তিক? উদ্দীপকের আলোকে তোমার মতামত দাও।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ বাংলাদেশের অর্থনীতির পরিচয়

উৎস: Test Exam Question BGPSC 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) যেসব খাত ও উপখাতের ওপর ভিত্তি করে একটি দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক কাঠামো গড়ে ওঠে, তাকে অর্থনৈতিক কাঠামো বা অবকাঠামো বলে। (খ) মধ্যযুগে মুসলিম শাসনামলে বাংলার অর্থনীতি ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ, যাকে বাংলার ইতিহাসের স্বর্ণযুগ বলা হয়। এই সময়ে বাংলার অর্থনীতি ছিল মূলত কৃষি ও কুটিরশিল্প নির্ভর। কৃষিতে প্রচুর উদ্বৃত্ত উৎপাদন এবং মসলিনসহ বস্ত্রশিল্পের বিশ্বজোড়া খ্যাতির কারণে বাংলা তখন বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, শায়েস্তা খানের আমলে ১ টাকায় ৮ মণ চাল পাওয়া যেত, যা তৎকালীন অর্থনৈতিক প্রাচুর্য ও সচ্ছলতারই প্রমাণ দেয়। (গ) উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিধারায় সংকটের মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর এক মিশ্র প্রবণতা বা মেরামতের চিত্র ফুটে উঠেছে। সাধারণত অর্থনীতির গতিধারা বলতে কোনো দেশের অর্থনৈতিক সূচকগুলোর সামগ্রিক অবস্থাকে বোঝায়। উদ্দীপকের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি জটিল সন্ধিক্ষণ বা রূপান্তরকালীন সময় পার করছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, রাজনৈতিক পরিবর্তনের অভিঘাত, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা বা পুরোনো ক্ষত অর্থনীতির স্বাভাবিক গতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। তবে এই নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অর্থনীতিকে ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করে কিছুটা স্বস্তি ও ভরসা দিচ্ছে। উদ্দীপকে ২০২৫ সালকে মেরামতের বছর হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বোঝা যায় যে অর্থনীতি এখন তার কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত অর্থনীতির গতিধারাটি স্থবির নয়, বরং এটি নানামুখী সংকট মোকাবিলা করে একটি স্থিতিশীল ও নতুন অধ্যায়ের দিকে ধাবিত হওয়ার সংগ্রামে লিপ্ত। (ঘ) উদ্দীপকে বর্ণিত অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য এবং সংকট মোকাবিলার ধরন বিচার করলে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ বলা অধিক যৌক্তিক বলে মনে হয়। অর্থনীতির ভাষায়, অনুন্নত দেশের অর্থনীতি সাধারণত স্থবির থাকে, যেখানে রিজার্ভ বা রেমিট্যান্সের মতো সূচকগুলো শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে না এবং কাঠামোগত পরিবর্তনের উদ্যোগ খুব কম থাকে। অন্যদিকে, উন্নয়নশীল দেশের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে মূল্যস্ফীতি বা বেকারত্বের মতো সমস্যা থাকলেও একইসাথে অর্থনীতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা এবং সম্ভাবনা থাকে। উদ্দীপকে বাংলাদেশের অর্থনীতির যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা একটি উন্নয়নশীল অর্থনীতির কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এখানে ব্যাংকিং খাতের ক্ষত, মূল্যস্ফীতি এবং বেকারত্বের মতো সমস্যাগুলো প্রবল, যা উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। কিন্তু একইসাথে উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ অর্থনীতিকে ভরসা দিচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে দেশটির আয়ের উৎস এবং বৈদেশিক লেনদেনের সক্ষমতা রয়েছে, যা কোনো অনুন্নত বা স্থবির অর্থনীতির লক্ষণ হতে পারে না। তাছাড়া উদ্দীপকে ২০২৫ সালকে মেরামতের বছর বলা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে স্থিতিশীলতার আলো দেখার আশা ব্যক্ত করা হয়েছে। একটি অনুন্নত দেশ সাধারণত কাঠামোগত সংস্কারের এই স্তরে থাকে না। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো থাকলেও এটি সংকট কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, যা উন্নয়নশীল দেশেরই পরিচায়ক। পরিশেষে বলা যায়, অর্থনীতির এই সহনশীলতা ও সম্মুখমুখী গতিধারা বিবেচনা করে বাংলাদেশকে অনুন্নত না বলে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে অভিহিত করাই শ্রেয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Border Guard Public School & College, Sylhet (2026)

রাজনৈতিক পরিবর্তনের অভিঘাত, বৈদেশিক মুদ্রার টানাপোড়েন, মূল্যস্ফীতির চাপ আর ব্যাংকিং খাতের পুরোনো ক্ষত- সব মিলিয়ে এ দেশের অর্থনীতিকে এনে দাঁড় করিয়েছে এক জটিল মোড়ে। সব মিলিয়ে ২০২৫ সাল ছিল বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য মেরামতের বছর। রেমিট্যান্স আর রিজার্ভ ভরসা দিলেও খেলাপি ঋণ, মূল্যস্ফীতি আর বেকারত্ব এখনও বড় ছায়া হয়ে আছে। এই ছায়া কাটাতে পারলে ভবিষ্যতে সত্যিই নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে, যেখানে সংকট পিছনে পড়ে থাকবে আর সামনে এগোবে স্থিতিশীলতার আলো। ক. অর্থনৈতিক কাঠামো কী? খ. মধ্যযুগে বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থা কেমন ছিল? গ. উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিধারা বর্ণনা কর। ঘ. বাংলাদেশকে অনুন্নত নাকি উন্নয়নশীল দেশ বলা অধিক যৌক্তিক? উদ্দীপকের আলোকে তোমার মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

SDG কী?

অর্থনীতির শিক্ষক আসাদ সাহেব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বললেন, "সমষ্টিগত অর্থ...

অর্থনৈতিক কাঠামো কী?

অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৮ অনুযায়ী বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় কত?

ইংরেজ শাসকেরা ২০০ বছর এ উপমহাদেশে শাসন ও শোষণ করেছে। পরে পাকিস্তান রাষ্ট্র বাংলাদেশকে ২৪ বছর নির্বিচার নির্যাতন শোষণ করে...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : এক সময় বাংলা এক সমৃদ্ধ জনপদ ছিল। স্বাধীনতার পূর্ববর্তী একটি সময়কাল বাংলার অর্থনৈত...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : এক সময় বাংলা এক সমৃদ্ধ জনপদ ছিল। স্বাধীনতার পূর্ববর্তী একটি সময়কাল বাংলার অর্থনৈত...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : দীর্ঘদিনের শাসন ও শোষণের পর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার পরে শি...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : দীর্ঘদিনের শাসন ও শোষণের পর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার পরে শি...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : সুপ্রাচীনকাল হতে বাংলাদেশ সুজলা-সুফলা দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। এ কারণে বিভিন্ন সময়ে ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।