(ক)
ই-গভর্নেন্স (Electronic Governance) অর্থ হলো ইলেকট্রনিক শাসন। সরকারি তথ্য ও সেবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাই হলো ই-গভর্নেন্স।
(খ)
রাজনৈতিক দল (Political Party) হলো কোনো নির্দিষ্ট নীতি বা আদর্শের সমর্থনে সংগঠিত একদল মানুষের সমষ্টি, যারা সাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রক্ষমতা অর্জন ও দেশ পরিচালনার চেষ্টা করে।
সাধারণত রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য থাকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ, সরকার গঠন ও পরিচালনা, নিজেদের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং সব নাগরিকের কল্যাণের জন্য কাজ করা। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে জনগণ রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করে পরোক্ষভাবে শাসন কাজে অংশগ্রহণ করে। তাই রাজনৈতিক দল হলো প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ।
(গ)
উদ্দীপকের রহিম সাহেবের পরিকল্পনা ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে সহায়ক।
ই-গভর্নেন্স বলতে এমন একটি শাসন প্রক্রিয়াকে বোঝায় যেখানে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন সেবা ও তথ্য জনগণ তাৎক্ষণিকভাবে পেতে পারে। এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে একটি কার্যকর ও গতিশীল সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। ই-গভর্নেন্স সরকারি কাজে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করে, যা সরকার ও জনগণের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরাসরি সাহায্য করে। বর্তমান যুগে জনগণ দ্রুত ও সহজভাবে সরকারি সেবা পেতে চায় এবং সরকারও চায় অল্প সময়ে অধিক সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে। তাই আধুনিক বিশ্বে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, কারণ এর অনুপস্থিতিতে আধুনিক ও স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা কল্পনা করা সম্ভব নয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রহিম সাহেব প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সর্বস্তরে ই-গভর্নেন্স চালু করা, জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং সরকারি অফিস, আদালত, হাসপাতাল ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে ই-সেবা চালু করার কথা উল্লেখ করেছেন। এই পদক্ষেপগুলো প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। সুতরাং বলা যায়, রহিম সাহেবের পরিকল্পনা ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।
(ঘ)
রহিম সাহেবের পরিকল্পনা হলো রাষ্ট্রে ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়ন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সমাজ ও রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আমি মনে করি।
আধুনিক কল্যাণমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তার বাস্তবায়ন জরুরি। এছাড়া উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে সরকার ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ সহজতর করা প্রয়োজন। ই-গভর্নেন্স এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের সাথে নাগরিকের (G2C), নাগরিকের সাথে সরকারের (C2G) এবং সরকারের সাথে ব্যবসায়ীদের (G2B) তথ্যের আদান-প্রদান ও সম্পর্ক স্থাপন সহজ হবে। এর ফলে জনগণ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ, পরিবহন, ডাক, চিকিৎসা, শিক্ষা, জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র ইত্যাদি সরকারি সেবা ঘরে বসেই সহজেই পাবে। তাছাড়া ই-টেন্ডার ও ই-লাইসেন্স প্রক্রিয়ার কারণে সরকারি ঠিকাদারি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে, যা দুর্নীতির সুযোগ কমিয়ে দেবে। ফলে জনগণের সার্বিক জীবনমান উন্নত হবে এবং সরকার ও নাগরিকের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকবে।
পাশাপাশি ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়িত হলে সরকারের দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস পাবে, সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের সরকারি সেবার প্রতি আস্থা বাড়বে এবং মানবসম্পদের উন্নয়ন ঘটবে।
পরিশেষে বলা যায়, রহিম সাহেবের পরিকল্পনা অনুযায়ী যদি রাষ্ট্রে ই-গভর্নেন্সের ব্যাপক প্রচলন নিশ্চিত করা যায়, তবে সেখানে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।